নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিতে ব্যক্তিগত সচেতনতা ও সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। সরকারের একার প্রচেষ্টায় সকলের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা অনেক সময়ের ব্যাপার উল্লেখ করে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রাজধানীতে মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০) ‘নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য ভ্যালু চেইন উন্নয়নে সম্মিলিত প্রয়াস’ শীর্ষক দুইদিনব্যাপী জাতীয়  সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

‘সবার জন্য পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাদ্য : মুজিববর্ষে অঙ্গীকার’ স্লোগান নিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসাবে বিসেফ ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল যৌথ ভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে।

ফার্মগেট সংলগ্ন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) এর কনফারেন্স কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী মুজিববর্ষের অঙ্গীকার হিসেবে সবার জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিতের আহ্বান জানান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএআরসি এর নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মোহাম্মদ বখতিয়ার। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মাহবুব কবীর, এসিআই এগ্রো বিজনেস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এফ এইচ আনসারী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিসেফ ফাউন্ডেশন এর চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন। দিনের শেষে সম্মেলনের প্রথমদিনের সার সংক্ষেপ তুলে ধরেন কৃষি মন্ত্রণালয় এর সাবেক সচিব ও বিসেফ ফাউন্ডেশন এর সভাপতি আনোয়ার  ফারুক।

সম্মলেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক আরও বলেন, দেশের মানুষের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তার প্রধান উৎস কৃষিতে সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপ ও যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়নের ফলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশের কৃষি এখন বাণিজ্যিক কৃষি; খোরপোষের কৃষি নয়। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সরকারের জন্য অন্যতম চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেক করেন তিনি।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপশি কাজ করতে হবে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে। উৎপাদন থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ, বিপণন এবং খাবার টেবিলে পরিবেশন পর্যন্ত সর্বক্ষেত্রে নিরাপদ খাবার নিশ্চিতকরণের বিধি-বিধানগুলো পুরোপুরিভাবে অনুসরণ করা দরকার। না হলে নিরাপদ খাদ্যও অনিরাপদ হয়ে যেতে পারে।

ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সরকার ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে উদ্যোগ নিয়েছে। এ জন্য স্বাস্থ্যবান ও কর্মক্ষম জনশক্তির বিকল্প নেই। আর কর্মক্ষম জনশক্তির জন্য পুষ্টিসমৃদ্ধ নিরাপদ খাবারের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।

তিনি জানান, উৎপাদক থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত ভ্যালু চেইন সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন করা হলে প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাবে। এই চেইন বাস্তবায়ন নারী-পুরুষ সবার জন্যই বাজারে সরাসরি পণ্য বিক্রয় সহজ হবে। কৃষক তার ফসলের ন্যায্য দাম পাবে। এতে বৃদ্ধি পাবে মুনাফার পরিমাণ এবং কৃষি উৎপাদনও বাড়বে। সেই সঙ্গে নিশ্চিত হবে নিরাপদ ও পুষ্টিমানসম্পন্ন খাদ্যের জোগান।

দুই দিন ব্যাপী সম্মেলনের বিভিন্ন কারিগরী অধিবেশনে শস্য, ফল, সবজি, মৎস্য, গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগী এর নিরাপদ, পুষ্টিকর খাদ্য ভ্যালু চেইন বিষয়ক বিস্তারিত আলোচনা হয়। আজ বুধবার শেষ হবে এ সম্মেলন।