
ডেস্ক প্রতিবেদন,এগ্রিকেয়ার২৪.কম: বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার চরাঞ্চলে এখন কৃষকদের ব্যস্ততা তুঙ্গে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথেই উঁচু জমিগুলোতে শুরু হয়েছে আগাম মরিচ চাষের মহোৎসব। ভালো দাম পাওয়ার আশায় বুক বেঁধে কৃষকরা এখন মরিচ গাছের পরিচর্যায় দিনরাত পরিশ্রম করছেন।
সোনাতলা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা গত বছরের তুলনায় প্রায় তিন হাজার হেক্টর বাড়ানো হয়েছে। গত বছর যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯,০২০ হেক্টর, সেখানে এ বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৭৬০ হেক্টরে। এই পরিসংখ্যানই বলে দেয়, আগাম মরিচ চাষে কৃষকদের আগ্রহ কতটা বেড়েছে।
মূলত দুটি কারণে কৃষকরা এই আগাম চাষে ঝুঁকছেন—বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া এবং বাজারে আগে ফসল তুলে ভালো দাম নিশ্চিত করা। জন্তিয়ারপাড়া চরের কৃষক আইয়ুব আলী জানান, গত বছর তিনি নয় বিঘা জমিতে আগাম মরিচ চাষ করে প্রায় সাত লাখ টাকা আয় করেছিলেন। সেই সাফল্য থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এ বছরও তিনি একই পরিমাণ জমিতে মরিচ চাষ করেছেন।
কৃষকরা জানান, সাধারণত বন্যার পরপরই তারা ছনিক, বিজলী, হাইব্রিডসহ বিভিন্ন জাতের মরিচের চারা রোপণ করেন। ৭৫ থেকে ৯০ দিনের মধ্যেই গাছ থেকে ফলন পাওয়া শুরু হয়। আগেভাগে ফসল বাজারে তুলতে পারায় অন্য ফসলের তুলনায় মরিচে লাভ বেশি হয়।
সোনাতলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, কৃষিবিদ সোহরাব হোসেন জানান, ‘নদী তীরবর্তী এলাকার কৃষকদের জন্য আগাম মরিচ চাষ একটি লাভজনক ফসল। আমরা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সব ধরনের কারিগরি পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি।’
























