
এগ্রিকেয়ার২৪.কম ডেস্ক: গবেষণা কার্যক্রমে নতুন উদ্ভাবন ও সফলতা অর্জনকারীদের স্বর্ণপদক প্রদানসহ পদোন্নতিতে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, গবেষণাকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং যারা গবেষণায় সফলতা অর্জন করবেন, তাদের যথাযথ মূল্যায়নের পাশাপাশি সার্বিক বিবেচনায় বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই)-এ আয়োজিত “বিএলআরআই-এর সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিতকরণ ও মতবিনিময়” শীর্ষক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী গবেষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “লাল কার্পেট নয়, আপনাদের গবেষণার সফলতাই আমাকে আনন্দিত করবে।” তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, “বছরের ১২ মাস ফসল উৎপাদনের পরও আমরা কেন দরিদ্র থাকবো?” এ বিষয়ে নতুনভাবে চিন্তা করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, সরকার নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশ থেকে শাক-সবজি ও খাদ্যপণ্য আমদানিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে উৎপাদন ও গবেষণা কার্যক্রম আরও এগিয়ে নিতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, কৃষক বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে। কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে অতীতে খাল খনন কর্মসূচি, কৃষিঋণ মওকুফসহ কৃষকবান্ধব নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকারও কৃষক কার্ড, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফসহ কৃষকের কল্যাণে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
গবেষণায় অর্থায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, “গবেষণায় অর্থায়নে আমাদের কোনো কৃপণতা নেই, বরং আমরা আরও উদার হতে চাই।” তিনি দেশের পতিত জমি ও দ্বীপাঞ্চলে ঘাস চাষ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি গবেষণায় বিশেষ অবদান রাখা বিজ্ঞানীদের ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বর্ণপদক দিয়ে সম্মানিত করার কথাও জানান।
দেশীয় প্রাণিসম্পদ উন্নয়নের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আফ্রিকাসহ বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশের ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে। ব্ল্যাক বেঙ্গল বাংলাদেশের নিজস্ব ও অত্যন্ত মূল্যবান একটি জাত। এ জাতের উন্নয়ন ও সংরক্ষণে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি হারিয়ে যেতে বসা মুন্সিগঞ্জের মীরকাদিম জাত নিয়ে গবেষণারও প্রশংসা করেন তিনি।
দেশি মুরগির জাত উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের আবহাওয়ার উপযোগী দেশি মুরগির জাত উন্নয়ন করে মাঠপর্যায়ে সরবরাহ করতে হবে। একই সঙ্গে এসব মুরগির মাংস ও ডিম উৎপাদন বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুকের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন।
সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন ড. মো. জিল্লুর রহমান। এছাড়া ইনস্টিটিউটের পরিচিতি, সক্ষমতা, অবকাঠামো, চলমান গবেষণা কার্যক্রম ও উদ্ভাবিত প্রযুক্তি বিষয়ে উপস্থাপনা করেন ড. সরদার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ।
সভা শেষে মন্ত্রী ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন গবেষণাগার ও খামার পরিদর্শন করেন। এর মধ্যে ছিল দেশি মুরগির খামার, ক্যাটেল গবেষণা খামার, মহিষ গবেষণা খামার, বিএলআরআই ফডার জার্মপ্লাজম ব্যাংক এবং ট্রান্সবাউন্ডারি অ্যানিমেল ডিজিজ রিসার্চ সেন্টার ল্যাবরেটরি।
























