
ফসল ডেস্ক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: সাম্প্রতিক সময়ে অবমুক্ত করা হয় আমন মৌসুমের উচ্চফলনশীল ধানের জাত ব্রিধান-৭৫। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) ট্রায়াল প্লটে (মাঠপরীক্ষা) হেক্টরপ্রতি ৫ টনের বেশি ফলন পাওয়া গেছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে চাষ করে বিঘায় প্রায় ১৮ থেকে ২০ মণ হারে ফলন হয়েছে।
কৃষকরা জানান এই ধানের চাল চিকন। এর ভাত হয় ঝরঝরে। মাত্র ১১৪ দিনের মাথায় বিঘাপ্রতি ২২ মন ধান পেয়ে খুশি হয়েছেন সাতক্ষীরার কৃষকরা। পোকামাকড়ের বালাই নেই সুগন্ধি জাতের এমন ধান চাষের পরও জমিতে সরিষা লাগানোর সুযোগ থাকে। ফলে কৃষকরা ব্রি-৭৫ জাতের নতুন ধান চাষ করে বেশ লাভবান হয়েছেন। চাষিরা চাইলে এ ধান চাষ করতে পারেন।
গত মৌসুমে দিনাজপুরে ৩০ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয় ব্রিধান-৭৫। বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে ৩৩ শতক জমিতে ধান হয়েছে ১৮ মণ। সে বছর প্রতিমণ ধান বিক্রি হয়েছে ৯শ টাকা দরে। ধানের খড় বিক্রয় হয়েছে ৪ হাজার টাকা। লিজসহ উক্ত জমিতে খরচ হয়েছে মাত্র ১২হাজার ৫শত টাকা। এতে ৩৩শতক জমিতে কৃষকের লাভ হয়েছে ৭ হাজার ৭ শত টাকা। এবার এই ধানে আরো লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
পড়তে পারেন: আউষ আমন বোরো মৌসুমের ৬৮টি জাতের ধান সম্পর্কে জানুন
ব্রি কুষ্টিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান ড. মাহবুবুর রহমান দেওয়ান গণমাধ্যমকে বলেন, মাঠ পরীক্ষার ফলাফলে আমরা দেখতে পেয়েছি ২০ দিনের চারা ব্যবহার করে ১০৫ দিনেই ব্রি ধান ৭৫ কাটা যায়। যার ফলন হেক্টরপ্রতি ৫ টনের অধিক হয়েছে।
চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে বলা হয়েছে, আমন মৌসুতে ব্রি ধান ৭৫ একটি উচ্চ ফলনশীল জাত। ২১ জুলাই হতে ২০ আগস্ট বীজ বপন করে ২৫ হতে ৩০ দিনের মধ্যে চারা রোপন করতে হয়। মাত্র ১১০ থেকে ১১৫দিনের মধ্যে এ ধান ঘরে তোলা যায়। এ ধানের কাণ্ড শক্ত বলে গাছ হেলে পড়ে না। শীষ হতে ধান ঝরে পড়ে না।
পড়তে পারেন: ব্রি উদ্ভাবিত নতুন ধানের ফলন হেক্টরে ৬ টন!
জাতটি আগাম হওয়ায় রোগ ও পোকা মাকড়ের আক্রমণ কম। বিশেষ করে বাদামী গাছ ফড়িং (কারেন্ট পোকা) অথবা মাজরা পোকার আক্রমন হওয়ার আগেই এই জাতটির ফলন কর্তন শুরু হয়। এ জাতের ধানের ফলন বেশি হয় অর্থাৎ হেক্টর প্রতি সাড়ে ৪টন হতে ৫টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। তাছাড়া এজান স্বপ্লকালীন হওয়ায় রবি মৌসুমের আগাম শাক সজবিসহ একই জমিতে ৩-৪টি ফসল চাষ করা যায়।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) থেকে বীজ সংগ্রহ করে চাষ করতে পারেন আমন মৌসুমের এই লাভবান ধানের জাত। এছাড়া যোগাযোগ করতে পারেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে।
এগ্রিকেয়ার/এমএইচ
























