নিজস্ব প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী বীর প্রতীক গোলাম দস্তগীর গাজী বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিকে ধরে রেখে রেশম শিল্পকে এগিয়ে নিতে হবে। রেশম বাংলাদেশের ঐতিহ্য। আয় কম ব্যায় বেশির রেশম শিল্পকে এগিয়ে নিতে হবে।

আজ রোববার (১০ জানুয়ারি২০২১) বিকেলে বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড রাজশাহীর আয়োজনে বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী আরো বলেন,  আয় কম ও ব্যায় বেশি এ রেশম শিল্পটাকে কিভাবে লাভজনক করা যায় সে লক্ষে কাজ করতে হবে।রেশম উৎপাদনের খরচ কমিয়ে লাভজনকভাবে এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিভাবে রেশম শিল্পকে লাভজনক শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যায় এখন আমাদেরকে সে বিষয়ে সাধনা করতে হবে।

এটা নিয়ে আমাদেরকে অনেক কাজ করে যেতে হবে। যেন আমরা রেশম ঐতিহ্য ধরে রাখতে পারি। আমরা রেশম শিল্পকে একটি মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। যাতে ভবিষ্যতে অনেকে এই মডেল অনুসরণ করতে পারে।

সভার শুরুতে বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক আব্দুল হাকিম রেশম বোর্ডের প্রধান কার্যাবলি, শিল্পের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও সমস্যাসমূহ, সম্ভাবনা, সমস্যা মোকাবিলায় বোর্ডের প্রস্তুতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক আবদুল হাকিমের সভাপতিত্বে এ মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী সদর আসনের এমপি ও বিএসডিবি পরিচালনা পর্ষদের জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান ফজলে হোসেন বাদশা, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব লোকমান হোসেন মিয়া, মহিলা আসন ৩৭ সংসদ সদস্য আদিবা আনজুম মিতা। এ সময় রাজশাহী জেলা প্রশাসন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড রাজশাহীর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভায় বক্তরা বলেন, রেশম শিল্পের উন্নয়নে বেশকিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এ শিল্পটি একটি অলাভজনক শিল্প। দেশিয় রেশম উৎপাদনে খরচ বেশি হওয়ায় তাঁতি উদ্যোক্তারা বিদেশ থেকে রেশম বস্ত্রের কাঁচামাল আমদানি করছে। এ ক্ষেত্রে বিদেশি রেশম বস্ত্রের কাঁচামালের উপর সরকারকে বাড়তি কর আরোপের দাবিও জানান। মতবিনিময় সভায় বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা লোকবল সংকটের চিত্র তুলে ধরাসহ পদোন্নতি ও সরকারি সুযোগ সুবিধা বাড়ানোর তাগিদ দেন।

সভা শেষে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী বীর প্রতীক গোলাম দস্তগীর গাজী ও সচিব লোকমান হোসেন মিয়া রেশম প্রযুক্তি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আধুনিক পলুপালন ঘরের ভিত্তি স্থাপন করেন। এছাড়া আগত অতিথিরা লুন সিজন এ গুনগত মানসম্পন্ন তুঁতপাতা উৎপাদনে পরিচালিত গবেষণায় ব্যবহৃত পলিশেড হাউজসহ রেশম কারখানা, রেশম গবেষণা প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট, পি-৩ কেন্দ্র ঘুরে দেখেন।

এর আগে মন্ত্রী বেলা সাড়ে ১১ টায় মোহনপুর উপজেলার মৌগাছীর চাঁদপুরে রেশম ব্লক ও সম্প্রসারণ এলাকা এবং মোহনপুর চাকী সেন্টার পরিদর্শন করেন। মোহনপুর চাকী সেন্টার পরিদর্শনকালে মন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান কম খরচে ভালো রেশম উৎপাদন আমাদের লক্ষ্য।

রাজশাহীর মোহনপুরের দুটি স্থানের রেশম চাকীসহ সম্প্রসারণ এলাকা পরিদর্শন করেছেন, বাংলাদেশ সরকারের পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর প্রতীক গোলাম দস্তগীর গাজী।