ডেস্ক প্রতিবেদন, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: পূজা মানেই দেদার খাওয়াদাওয়া, বন্ধুদের সঙ্গে জমিয়ে আড্ডা আর দিনভর ঘোরাঘুরি। আর ভূরিভোজ মানেই ভুঁড়ি বাড়বে অবধারিত ভাবেই। পানি খাওয়া কম হবে। নরম পানীয় আর মদ্যপানেই গলা ভেজাবেন অনেকে। তাতে মন উৎফুল্ল হলেও, শরীর সায় দেবে না। ফলে পূজা মিটতেই ডিহাইড্রেশন, পেটের সমস্যা বা জ্বরে শরীর কাহিল হয়ে পড়বে। পূজার প্রতি দিনই যদি ঘোরাঘুরি ও বিপুল খাওয়াদাওয়ার পরিকল্পনা থাকে, তাহলে শরীর ‘ডিটক্স’ করুন এখন থেকেই।

হজমের সমস্যা, ওজন বেড়ে যাওয়া, পেটের সমস্যা— পানির অভাবে এমন সব সমস্যা দেখা দেয়। সুস্থ থাকার অন্যতম ওষুধ পানি-ই। উৎসবের আব হে তাই পানি খাওয়ার কথা ভুললে চলবে না। চিকিৎসকদের মতে, সকালে খালি পেটে এক থেকে দু-গ্লাস পানি খাওয়া জরুরি। শরীরের যত্ন নিতে এটুকু তো করা যেতেই পারে। শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ করতে একমাত্র পন্থা কিন্তু পানি নয়। পানির বিকল্প হিসেবে ভরসা রাখা যেতে পারে আরো কয়েকটি পানীয়ে। যেগুলো পানির শূন্যস্থান কিছুটা হলেও পূরণ করতে পারে। রইল তেমন কয়েকটি পানীয়ের হদিস।

কোন ‘ডিটক্স’ কার জন্য?

১. সবচেয়ে পরিচিত ডিটক্স পানীয় হল হালকা গরম পানিতে রস। গ্যাস-অম্বলের সমস্যা থাকলে অথবা আলসার থাকলে, এই পানীয় খাওয়া যাবে না। যাদের শরীরে বেশি পটাশিয়াম সহ্য হয় না, তাদের জন্যও এই পানীয় বারণ।

২. ওজন কমবে ও শরীরে পানির ঘাটতি দূর হবে যদি নিয়মিত চুমুক দেন এই পানীয়ে। পানিতে শসার টুকরো ও বিভিন্ন রকম লেবু, যেমন কমলালেবু, বাতাবি লেবু বা মুসাম্বির টুকরা মিশিয়ে সেই পানি পান করতে পারেন। এই ডিটক্স পানি শরীর তরতাজা তো রাখেই, সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে।

৩. পুদিনা পাতা, ধনে পাতা, মসলার মধ্যে আদা, দারুচিনি, গোটা হলুদ, লবঙ্গ ইত্যাদি ভিজিয়েও ডিটক্স পানীয় তৈরি করা যায়। এই পানীয়ে এত বেশি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে, যা অকালবার্ধক্য রোধ করতে পারে।

পানির ঘাটতি মেটাতে ভরসা হতে পারে কিছু পানীয়

১. আনারস-পুদিনার ডিটক্স

২ থেকে ৩ কাপ পারি নিতে হবে। এবার কাচের জারে পানি নিয়ে তাতে এক কাপ আনারসের টুকরো, ৫-৬টি পুদিনা পাতা ভিজিয়ে রাখুন ঘণ্টা দুয়েক। তারপর সেই পানি খেতে হবে। নিয়মিত খেলে বাড়তি ক্যালোরি ঝরে যাবে।

২. আপেল-দারুচিনির ডিটক্স

একটি আপেল ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিতে হবে। এবার একটি কাচের জারে পানি নিয়ে আপেলের টুকরা ও ২-৩টি দারুচিনির স্টিক ফেলে দিন। তাতে কিছু পুদিনা পাতাও মেশাতে পারেন। ঘণ্টা দুয়েক জারটি ফ্রিজে রেখে দিলেই তৈরি হয়ে যাবে ডিটক্স পানীয়। এই পানি ওজন কমাবে, পাশাপাশি রক্তে শর্করার মাত্রাও কমাবে।

৩. পালং শাকের ডিটক্স

পালং শাক এক কাপ, আধা কাপ ধনেপাতা, দুই থেকে তিন আঁটি পার্সলে, একটি আমলকী নিতে হবে। সব উপকরণ ভালো করে ধুয়ে নিয়ে মিক্সারে ভালো করে মিশিয়ে নিন। থকথকে একটি মিশ্রণ তৈরি হবে। সেটি ছেঁকে নিতে হবে। এই পানীয়ের সঙ্গে এক চিমটি লবণ ও লেবুর রস মিশিয়ে খেয়ে নিন। রোজ সকালে খেলে শরীর থেকে টক্সিন বা দূষিত পদার্থ বেরিয়ে যাবে।