জেলা প্রতিনিধি, রাজশাহী, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: এবার রাজশাহীর ৩০০ মেট্রিক টন আম বিদেশে রপ্তানির আশা করা হচ্ছে। এজন্য ৫০ লাখ আম ফ্রুট ব্যাগিং শুরু হয়েছে। যা থেকে প্রায় এক হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদন হবে মনে করছেন রাজশাহী এগ্রো ফুড প্রডিউসার সোসাইটি।

এ সংস্থাটিতে আমচাষি রয়েছে প্রায় ২০০ জন। শুধু এবছরই নয় প্রতিবছর আমে ফ্রুট ব্যাগিং করে থাকেন তারা। গতকাল রোববার ( ২ মে ২০২১) সকালে রাজশাহী সেনানিবাসের পাশে পাঁচ বিঘা আয়তনের একটি আমবাগানে ফ্রুট ব্যাগিংয়ের উদ্বোধন করেন সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।

কৃষি বিভাগ বলছে, চলতি বছরে রাজশাহীতে ১৭ হাজার ৯৪৩ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। এ বছর হেক্টর জমিতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১১ দশমিক ৯ মেট্রিক টন। আবহাওয়ার কোন বিপর্যয় না হলে মোট দুই লাখ ১৯ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, নিরাপদ বিষমুক্ত আম উৎপাদনে চাষিদের উৎসাহ প্রদান করা হচ্ছে। ব্যাগিং করা প্রতিকেজি আমের দাম অন্যান্য আমের তুলনায় বেশি দামে বিক্রি হয়। চাষিরা লাভবান হতে পারেন। তবে, সরকারিভাবে ফ্রুট ব্যাগিং করার সুযোগ নেই। এটি বেসরকারি উদ্যোগে হওয়ায় টিক কত আমে ব্যাগিং হচ্ছে তার হিসাব নেই কৃষি বিভাগে।

রাজশাহী এগ্রো ফুড প্রডিউসার সোসাইটির সভাপতি আনোয়ারুল হক জানান, গতবছর করোনা পরিস্থিতিতে অল্প কিছু আম রপ্তানি করা গিয়েছিল। তার আগের দুই বছর ‘কোয়ারেন্টাইন’ নিরীক্ষার নামে অত্যন্ত কড়াকড়ির কারণে আম তেমন রপ্তানি হয়নি। তবে এবার শর্তগুলো শিথিল করা হয়েছে। তাই তাঁরা আশা করছেন আম রপ্তানি করা হবে। এ জন্যই আমে ব্যাগিং শুরু হলো। আম বিদেশে রপ্তানি করতে হলে অবশ্যই ফ্রুট ব্যাগিং করতে হয়। ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে উৎপাদিত আম নিরাপদ, বালাইমুক্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত। রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে এই আম ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়।

সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, রাজশাহী কৃষি প্রধান অঞ্চল। এখানকার আম ইউরোপসহ দেশের বাইরে বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে এটি আমাদের জন্য অত্যান্ত সুখবর। এ অঞ্চলে কৃষিপণ্যভিত্তিক শিল্পকারখানা গড়ে তোলা সম্ভব হলে এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে ও অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কেজেএম আবদুল আউয়াল এগ্রিকেয়ার২৪.কমকে বলেন, ফ্রুট ব্যাগিং করে আম উৎপাদনের জন্য কৃষি বিভাগ থেকে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। ব্যাগিং পদ্ধতিতে নিরাপদ-বালাইমুক্ত আম পাওয়া সম্ভব। করোনা ভাইরাসের কারণে বিদেশে রপ্তানি না হলেও দেশেই বিক্রি হবে এসব আম। অন্য আমের চেয়ে বেশি দামেই কিনবে মানুষ।

এ্গ্রিকেয়ার/এমএইচ