
নিজস্ব প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: খাবারে মসলার ব্যবহার বহু প্রাচীন। খাবার সুস্বাদু করতে মসলার বিকল্প ভাবা যায় না। চলমান উর্দ্ধগতির নিত্যপণ্যের বাজারে থেমে নেই মসলার বাজার। চাল-তেলের সাথে যেন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দাম। কেজিতে দু-দশ টাকা স্বাভাবিক হলেও মসলা ভেদে একলাফে বেড়েছে ১০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত।
দেশে সব মসলা উৎপাদিত হয় না। এলাচি, দারুচিনি, লবঙ্গ ও জিরা আমদানি করেই মেটানো হয়। আবার আদা, রসুন ও হলুদ দেশে উৎপাদন হলেও চাহিদার তুলনায় কম। বর্তমানে ডলারের মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি বৈশি^কভাবে বেড়েছে শুকনা মরিচসহ বিভিন্ন মসলার দাম। প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের বাজারে। বর্তমানে মসলার বাজারে আগুন।
তবে পাশর্^বর্তী দেশ ভারতে যে পরিমাণ দাম বেড়েছে তার ৩ গুণ দাম বেড়েছে বাংলাদেশের বাজারে। নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যের দাম বেশি হওয়ায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশে।
রাজশাহীর বাজারগুলোতে মসলার কেজিতে বেড়েছে ১০০ থেকে ৪০০ টাকা। তেলের দাম বৃদ্ধি ও পণ্য আমদানিতে অনিয়মিত হওয়ায় মসলার বাজারে আগুন লেগেছে বলেই মন্তব্য ব্যবসায়ীদের। দেশে ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে খোঁজ নিয়েও নেওয়া হয়েছে তথ্য। সেখানেও বেড়েছে মসলার দাম।
তবে, দশীয় বাজারে আমদানীকৃত মসলা অস্বাভাবিক বেশি দামে বিক্রির ব্যাখ্যা দিতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। বড়রা তেল ও ডলারের দাম বৃদ্ধিকে দায়ী করলেও খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগের আমদানি পণ্য শেষ হওয়ার আগেই কেন রাতারাতি দাম বেড়েছে তা জানেন না তারা। ভারতে কেজিতে ৫০ টাকা বাড়লেও দেশে শুকনা মরিচের কেজিতে একলাফে বেড়েছে ২০০ টাকা। যা ভাবার মতো বিষয়।
বন্দর দিয়ে আমদানি হওয়া গোলমরিচ, দারুচিনি, লবঙ্গ, এলাচি, জিরা, আদা, হলুদ, রসুন ও গুঁড়া মসলা—এই নয় ধরনের মসলার বাজার দখলে শীর্ষে আছে চীন। এরপর বাজার দখল করে আছে মসলার দেশ ইন্দোনেশিয়া। ভারতের অবস্থান ৩ নম্বরে।
প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে একসময় মসলা আমদানি হলেও এখন হচ্ছে কম। ভারতের মসলা বোর্ডের হিসাবে, ২০১০-১১ অর্থবছরে ৫৩ হাজার ৫৮৪ টন মসলা রপ্তানি হয় বাংলাদেশে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে এসে তা দাঁড়ায় ১৮ হাজার ৯৬৯ টনে। এখন বিশ্বের নানা দেশ থেকে সাশ্রয়ী দামে মসলা নিয়ে আসছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে মসলার বাজারে বৈচিত্রতা বাড়ছে। এখন ভারতীয় মসলা বাংলাদেশের বাজারে কম আসছে।
আজ মঙ্গলবার (৩০ আগস্ট ২০২২) রাজশাহীর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারিতে দাম বাড়ায় প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। শুকনো মরিচ খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৪৮০-৫০০ টাকা কেজি দরে। দুই সপ্তাহ আগেও পণ্যটি বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৩৫০-৩৭০ টাকা দরে। ১৫ দিনের ব্যবধানে কেজিতে ১৫০-১৬০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। অল্প ১০০ গ্রাম কিংবা আধা কেজির দাম হিসেবে ৫০০ টাকা কেজি ধরেই বিক্রি করা হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, কম গুরুত্বপূর্ণ পণ্য আমদানিতে এলসি (ঋণপত্র) খুলতে মার্জিনের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় আমদানিনির্ভর মসলা পণ্যের বাজারে কিছুটা সরবরাহ সংকট রয়েছে।
এদিকে শুকনো মসলার মধ্যে জিরা, দারুচিনি, গোলমরিচ, এলাচ, সরিষার দামও আকাশচুম্বী। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে জিরার দাম কেজিতে ৩২০ টাকা থেকে বেড়ে ৪৫০ টাকায়, দারুচিনি ২৯৮ টাকা থেকে বেড়ে ৪০০, লবঙ্গ ১ হাজার ২০ টাকা থেকে বেড়ে একলাফে ২ হাজার, গোলমরিচ ৫৩০ টাকা থেকে বেড়ে ১৫০০, এলাচ ১ হাজার ৪২০ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৮০০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। মজুদদার পর্যায় থেকে বাড়তি দাম নির্ধারণ করায় পাইকারি বাজারে প্রভাব পড়েছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
খাতুনগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কয়েক দিনের ব্যবধানে রসুনের দাম ৬০-৭০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৬০ টাকায়। আদার কেজি ৬০ টাকা বেড়ে ১৫০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কয়েক দিনের ব্যবধানে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে শুকনো মরিচের দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে শুকনো মরিচের দাম কেজিতে বেড়েছে ৬০-১২০ টাকা পর্যন্ত। বিক্রি হচ্ছে ৪৬০ থেকে ৪৮০ টাকায়।
ভারত থেকে মসলা পণ্য আমদানি বিষয়ে কথা হয় মসলা গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শৈলেন্দ্র নাথ মজুমদারের সাথে। তিনি বলেন, প্রতিবেশি দেশ হিসেবে ভারত থেকে কিছু মসলা আমদানি হয়। এখন চীন সবচেয়ে বড় মসলার বাজার দখল করে আছে। ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি হয় সবচেয়ে বেশি। দেশের বাজারে যখন সিন্ডিকেটের কারণে দাম অতিরিক্ত হয়ে যায় তখন মসলাপণ্য পেঁয়াজ আমদানি হয়। তবে, পেঁয়াজের মৌসুমে যখন কৃষকরা ফসল সংগ্রহ করেন তখন আমদানি বন্ধ রাখার তাগিদ দেওয়া হয় উপরমহলে।
এগ্রিকেয়ার/এমএইচ
























