নিজস্ব প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: কক্সবাজারের ‘পঙ্গপাল’ সদৃশ ফড়িং পঙ্গপাল নয়; কৃষি মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। কক্সবাজারের টেকনাফে বিভিন্ন ফল গাছে ‘পঙ্গপাল’ সদৃশ ফড়িংয়ের আক্রমণের ঘটনায় আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

আজ শুক্রবার (১ মে, ২০২০) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় কৃষি মন্ত্রণালয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘এসব পোকা মরুভূমির ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে আসা ‘পঙ্গপাল’ জাতীয় পোকা নয়।’ তবে এ বিষয়ে যথাযথভাবে জানতে ও ব্যবস্থা নিতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের গবেষকদলসহ তদন্ত টিম টেকনাফের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে।

এ বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, কক্সবাজারে পঙ্গপাল এসেছে এই ধারণা ঠিক নয়। তবে কী পোকা এসেছে এবং তা কতটুকু ক্ষতিকর সেটি দেশিয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সাথে আলোচনা করে ঠিক করা হবে।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, বেশ কিছুদিন আগে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার লম্বরী গ্রামের কয়েকটি গাছে ঘাস ফড়িংয়ের মতো কিছু ছোট পোকার আক্রমণ দেখা দিলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কক্সবাজারের উপপরিচালক ‌ও স্থানীয় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে কীটনাশক প্রয়োগ করে পোকাগুলো দমন করেন।

সম্প্রতি ঘাসফড়িং সদৃশ এসব পোকা ফের আক্রমণ শুরু করে। এ অবস্থায় কৃষি মন্ত্রণালয় বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে ও পদক্ষেপ নিয়েছে।

আরোও পড়ুন:কৃষি যান্ত্রিকীকরণের জন্য ৩২’শ কোটি টাকা একনেকে: কৃষিমন্ত্রী

কৃষি মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, শুক্রবার সকালেই কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের কীটতত্ত্ববিদদের সমন্বয়ে উচ্চপর্যায়ের একটি দল টেকনাফের উদ্দেশে রওনা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) এবং বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) থেকেও পৃথক পৃথক টিম সেখানে গেছেন। ঘাসফড়িংসদৃশ লোকাস্ট গোত্রের স্থানীয় এই পোকার শনাক্তকরণসহ আক্রমণ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও ধ্বংসে এই টিম কাজ করবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কক্সবাজারের উপপরিচালকের বরাত দিয়ে মন্ত্রণালয় জানায়, বৃহস্পতিবার কীটনাশক স্প্রে করার পর গাছে থাকা পোকাগুলো মারা যায়। সেখানে আর কোনও জীবিত পোকা নেই।

কক্সবাজারের ‘পঙ্গপাল’ সদৃশ ফড়িং পঙ্গপাল নয়; কৃষি মন্ত্রণালয় এর এমন তথ্য কৃষকের মনে স্বস্তি ফিরে আসবে। এ বিষয়ে আতঙ্কিত না হয়ে পোকাটি দমনে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।