
নিজস্ব প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: গত দু সপ্তাহ ধরে দেশে তেল নিয়ে তেলেসমাতি কারবার চলছে। আজ বুধবার (৯ মার্চ) রাজশাহীর বাজারে কিছুটা কমেছে পাম অয়েল ও খোলা সয়াবিন তেলের দাম। অন্যদিকে বেড়েছে সরিষা তেলের দাম।
আজ নগরীর সাহেববাজার মাস্টারপাড়া, নিউমার্কেট কাঁচাবাজার, লক্ষ্মীপুর বাজার এলাকা ঘুরে এমন তথ্য জানা যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আগের বাজারের তুলনায় পাম অয়েল বিক্রি হচ্ছে লিটারে ৫ টাকা কমে। অন্যদিকে খোলা সয়াবিন তেল লিটারে বিক্রি হচ্ছে ২ টাকা কমে। অন্যদিকে বোতলজাত তেলের দাম আগের মতোই। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসন কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে।
পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, বুধবার পাম অয়েলের একটি ড্রাম কিনেছেন ২৯ হাজার টাকায়, যা গত দুই সপ্তাহ ধরে ছিল ৩০ হাজার টাকা। অর্থাৎ এক হাজার টাকা বেশি। অন্যদিকে খোলা সয়াবিন তেলের একটি ড্রাম কিনতে হচ্ছে ৩২ হাজার ৮০০ টাকায়, যা দুই সপ্তাহ ধরে কিনতে হচ্ছিল ৩৩ হাজার টাকায়। অর্থাৎ পাম অয়েলের দাম কমেছে লিটারে ৫ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেলে ২ টাকা।
রাজশাহী শহরের অধিকাংশ দোকানির ভাষ্য, পাম তেল ও খোলা সয়াবিন তেল কোম্পানিগুলো থেকে মিললেও বোতলজাত সয়াবিন তেলের দেখা মিলছে না। বারবার অর্ডার করেও কোম্পানি কোনো মাল দিচ্ছে না।
তবে, তেলের দাম কমাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে, অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা বলা হচ্ছে- আতঙ্কিত হওয়ার কিছুই নেই। রাজশাহীতে ভোজ্য তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।
নগরীর সাহেববাজারের মুদি দোকানি সাইফুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁয় সয়াবিনের বদলে পাম তেল ব্যবহার হয়। বাজারে পাম ও খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ থেকে ২ টাকা কমার পর সাধারণ ক্রেতাদের তেমন প্রভাব পড়েনি। বোতলজাত তেলের দাম কমেনি। কোম্পানি থেকেও কোনো প্রকারের বোতলজাত তেল সরবরাহ করছে না। অর্ডারের পর অর্ডার দেওয়ার পরও তারা তেল দিচ্ছে না। এতে পড়তে হচ্ছে ক্রেতাদের তোপের মুখে। একইসঙ্গে ধরাবাঁধা ক্রেতাগুলোও হারাচ্ছি।
জানতে চাইলে জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. হাসান আল মারুফ বলেন, ‘আসলে দোকানি ও ডিলাররা নিজেদের মধ্যে এক ধরনের ‘ব্লেইম গেম’ খেলছে। দোকানি বলছে ডিলার বা কোম্পানি মাল সাপ্লাই দিচ্ছে না আবার ডিলাররা বলছে দোকানিদের পর্যাপ্ত মাল দেওয়া হচ্ছে তাদের চাহিদা মোতাবেক। বরং দোকানিরাই ক্রেতাদের মাল দিচ্ছে না। আসলে কোনটা সত্য তা বোঝা মুশকিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘তাদের এসব কর্মকাণ্ডের কারণে আমাদের মাঠ পর্যায়ে দৌড়ের ওপর থাকতে হচ্ছে। আজও (বুধবার) শালবাগানের একটি ডিলার হাউজে গিয়ে দেখে আসলাম সেখানে প্রচুর তেল। তারা বলছে যে দোকান যা তেল চাইছে বা অর্ডার করছে আমরা তাদের সেই পরিমাণ তেলই সাপ্লাই দিচ্ছি। আবার বাজারে বসুন্ধরা থেকে শুরু করে অন্যান্য সব ধরনের তেল কিন্তু বিক্রি হচ্ছে ১৬৮ টাকা লিটারে। সুতরাং তেলের ঘাটতি রয়েছে এটা মিথ্যা কথা। তাই তেলের বাজার আমরা সবসময় মনিটরিং করছি।
পাম তেল ও খোলা সয়াবিন তেলের দাম সামান্য পরিমাণে কমলেও অন্যদিকে বেড়েছে সরিষা ও অন্যান্য ভোজ্য তেলের দাম। খোলা সরিষার তেল যেখানে ১৮০-২০০ টাকায় বাজারে বিক্রি হতো তা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ২৩০-২৭০ টাকায়।
অন্যদিকে বোতলজাত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সরিষার তেলের লিটারে দাম বেড়েছে ২০ টাকা। আবার গত ১০ থেকে ১৫ দিনের ব্যবধানে বাজারে ৫ লিটারের রাইস ব্রান্ড তেলের দাম ৮২০ টাকার পরিবর্তে বিক্রি হচ্ছে ৮৪০ টাকায় এবং ৫ লিটারের সান ফ্লাওয়ার তেল ১৫০০ টাকার পরিবর্তে হয়েছে ১৫২০ টাকা।
এদিকে রাজশাহী জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল বলেছেন, বাজারে ভোজ্যতেলের কোনও ঘাটতি নেই। গত এক সপ্তাহ থেকে তেলের দাম অনেক বেশি। পণ্যের সাপ্লাই ও ডিমান্ডের ওপর বাজারের দাম নির্ধারণ করা হয়। ডিলারদের কারসাজিতে বাজারে সয়াবিন তেলের ‘কৃত্রিম সংকট’ তৈরি হয়েছে। তেলের দাম বাড়বে- এই আশায় মজুত করে রাখছেন অনেক ব্যবসায়ী। আর মজুত ঠেকাতে গত কয়েকদিন ধরেই মহানগরীসহ রাজশাহী জেলার বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালাচ্ছে রাজশাহী ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।
এ্রগ্রিকেয়ার/এমএইচ
























