নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী: রমজানের শুরুতে রাজশাহীতে চড়া দামে বিক্রি হওয়া তরমুজের দাম কিছুটা কমেছে। প্রতিকেজি তরমুজ ৫০ থেকে ৬০ টাকা বিক্রি হলেও তা এখন ৪০-৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

রাজশাহীর উপশহর নিউমার্কেট, সাহেববাজার মাস্টারপাড়া সবজি বাজার, লক্ষীপুর কাঁচাবাজারসহ বিভিন্ন বাজারে গরমের এ ফল বিক্রি হচ্ছে। বুধবার সকালে নগরীর সবচেয়ে বড় ফল আমদানি বাজার শালবাগানে গিয়ে দেখা যায় ট্রাক থেকে নামানো হচ্ছে হাজার-হাজার পিস তরমুজ। সেখান থেকে কেজিদরে পাইকারিতে কিনে ভ্যান বোঝাই করছেন খুচরা বিক্রেতারা।

জানতে চাইলে তরমুজ ব্যবসায়ী হাসানুল ইসলাম জানান, রাজশাহী অঞ্চলে যেসব তরমুজ আসে সবগুলোই বরিশালের। প্রথম দিকে আসে বরিশালের তরমুজ, এরপর খুলনা এবং সর্বশেষ আসে নাটোরের তরমুজ। রোজার আগে চাহিদা এবং আগাম বাজার ধরতে চাষিরা চাষ করেছিলেন। সেই অনুযায়ী এখন ফসল তুলতে পারছেন।

পাইকারিতে ২০-২৫ টাকা বিক্রি করতে পেরে তারা খুশি। অন্যান্য বছরের প্রতিপিস তরমুজ বিক্রি হয়েছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় কিন্তু এবার ১০ কেজি ওজনের একটা তরমুজ ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হলুদ তরমুুজের দাম একটু বেশি। ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দাম চড়া হলেও বাজারে চাহিদা রয়েছে। তবে, শুরুর দিকে যে চাহিদা ছিল তা এখন কমে গেছে। দামও কেজিপ্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা কমে গেছে। হয়ত রোজার শেষে আরেকটু দাম কমতে পারে।

রাজশাহীর গোরহাঙ্গা রেলগেট এলাকার ইশান ফল ভান্ডারের মালিক মো মান্নু বলেন, শালবাগানে ফলের আড়তে আমদানি করলে সেখান থেকে এক টন দু’টন করে আমরা কিনে খুচরা বিক্রি করি। দাম আগের চেয়ে কমেছে। পাইকারিতে ভালো তরমুজ ১৪’শ থেকে সবোচ্চ ১৬”শ টাকা মণ দরে কিনছি। সামান্য লাভে বিক্রি করছি।

তিনি বলেন, তরমুজের চাহিদা স্বাভাবিকের চেয়ে রোজার পর আরেকটু বেশি হবে। তরমুজ পছন্দ করেন অনেকে। তবে, ভালোমানের পাকা তরমুজ ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। আগ্রহ দেখিয়ে কিনছেন ক্রেতারা। রাজশাহীতে যেহেতু তরমুজ চাষ হয় না; সেহেতু বরিশাল থেকে আনতে হয়। সবগুলো বরিশালের তরমুজ।

কেজিদরে নাকি পিস আকারে তরমুজ বিক্রি জানতে চাইলে শালবাগানের পাইকারি তরমুজ ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা কেজি দরে আমদানি করছি; কেজিদরে বিক্রি। আমাদের কিছু করার নাই। যখন পিস আকারে কিনতে পারব তখন পিস আকারে বিক্রি করব। কৃষকরাও কেজি দরে বিক্রি করছেন এখন। দেশের অন্য কোন জায়গাতে কি হচ্ছে জানা নাই-রাজশাহীতে কেজিদরেই বিক্রি হচ্ছে।

এই বাজারের তরমুজ ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, চাঁদাবাজির কারণে পরিবহন খরচ বেড়ে যায়। তাছাড়া ক্ষেত থেকে যে দামে কেন হয় তার থেকে ৫-১০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করা যাবে। কিন্তু বেকায়দায় পড়ে দ্বিগুণ দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

আরেক তরমুজ ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান বলেন, কেটে তরমুজ বিক্রি করাতে সমস্যা সৃষ্টি হয়। ক্রেতাদের সাথে ঝগড়া হয়। দাম ধরে তরমুজ কিনে তারপর কেটে দিই। কারণ, দামের আগে তরমুজ কেটে সামান্য লাল কম হলে কিনতে চান না। যখন কিনতে চান না তখন আমাদের কি হবে? লোকসান তো দিতে পারিনা?

 

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ