স্বাস্থ্য ডেস্ক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: করোনায় লক্ষণযুক্ত রোগীদের তুলনায় লক্ষণহীনদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমছে বলে সম্প্রতি ব্রিটেনে সংগঠিত একটি বিশদ গবেষণায় জানা গেছে। গতকাল (২৭ অক্টোবর ২০২০) এ বিষয়ক গবেষণাটির ফলাফল বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে খবর প্রকাশ করেছে এএফপি। গবেষণাটি করেছে লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজ এবং মার্কেট রিসার্চ ফার্ম ইপসোস মোরি। তারা আরো জানাচ্ছে, ৭৫ বা তার বেশি বয়সীদের তুলনায় ১৮-২৪ বছর বয়সীদের অ্যান্টিবডি হারানোর গতি কম।

ইংল্যান্ডজুড়ে মধ্য জুন থেকে সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত কয়েক লাখ নমুনা পর্যবেক্ষণ করে গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন সেগুলোর ভাইরাস অ্যান্টিবডি ২৫ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে।

গবেষণাটি ব্রিটিশ সরকারের অনুদানপ্রাপ্ত। পিয়ার রিভিউ হওয়ার আগে মঙ্গলবার প্রকাশিত এ গবেষণায় বলা হয়েছে, সংক্রমণের পর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ইমিউন প্রতিক্রিয়া হ্রাস পেতে থাকে। ব্রিটেনের জুনিয়র হেলথ মিনিস্টার জেমস বেথেল এ গবেষণাকে ‘অত্যন্ত মূল্যবান গবেষণা যা সময়ের সঙ্গে কভিড-১৯-এর অ্যান্টিবডির প্রকৃতি বুঝতে আমাদের সহায়তা করবে’ বলে উল্লেখ করেছেন।

বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, মানুষের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদে অ্যান্টিবডি প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে এখনো অনেক কিছু অজানা রয়ে গেছে। ইম্পেরিয়ালস স্কুল অব পাবলিক হেলথের পল এলিয়ট বলেন, ‘অ্যান্টিবডি কী মাত্রায় ইমিউনিটি প্রদান করে তা এখনো পরিষ্কার নয়, কিংবা এ ইমিউনিটি কতদিন পর্যন্ত টিকে থাকে তাও অজানা।’

গবেষণায় র্যানডম বাছাইয়ের মাধ্যমে ৩ লাখ ৬৫ হাজার প্রাপ্তবয়স্ককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২০ জুন থেকে ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অ্যান্টিবডির পরিমাণ শনাক্ত করতে এদের ঘরে বসে তিন রাউন্ড ফিঙ্গার প্রিক টেস্ট করা হয়। এতে দেখা যায় অনেক মানুষের অ্যান্টিবডির পরিমাণ এ তিন মাসে ২৬ দশমিক ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

সংশ্লিষ্ট গবেষক হেলেন ওয়ার্ড বলেছেন, ‘এ বিস্তৃত গবেষণাটি দেখাচ্ছে সময়ের সঙ্গে শরীরে অ্যান্টিবডি শনাক্ত হওয়া মানুষের সংখ্যা কমেছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা এটা এখনো জানি না যে অ্যান্টিবডি হ্রাস এ মানুষদের কভিড-১৯-এ পুনরায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে ফেলে দেয় কিনা।

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ