ডেস্ক প্রতিবেদন, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার গোমতী নদী বিধৌত ভান্তির চরে এখন দিগন্তজোড়া সাদা মুলার সমারোহ। শীতের এই সবজি মৌসুমের আগেই বাজারে তুলে ভালো দাম পেয়ে খুশি এখানকার কৃষকরা। আগাম মুলা চাষ করে তারা দেখছেন লাভের মুখ, যা চরের অর্থনীতিতে এনেছে নতুন গতি।

ভান্তির চরের কৃষকরা জানান, বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা মুলার বীজ বপন করেছিলেন। এখন পুরোদমে চলছে মুলা তোলার কাজ। পাইকাররা সরাসরি খেত থেকেই প্রতি কেজি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা দরে মুলা কিনে নিচ্ছেন, যা মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ের চেয়েও ভালো দাম।

চরের কৃষক মনির হোসেন বলেন, “আমি আমার ২৪ শতাংশ জমির মুলা পাইকারের কাছে ৫৮ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। সব খরচ বাদ দিয়ে এতে প্রায় ২০ হাজার টাকার মতো লাভ হয়েছে।” তিনি জানান, এখানকার মুলা কুমিল্লার নিমসার পাইকারি বাজার হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যাচ্ছে।পাইকারি ব্যবসায়ীরাও পুরো খেত ধরে মুলা কিনে নিচ্ছেন।

আলমগীর হোসেন নামে এক ব্যবসায়ী জানান, তিনি ৪৪ শতাংশ জমির মুলা দেড় লাখ টাকায় কিনেছেন এবং দিনাজপুর ও রংপুর থেকে শ্রমিক এনে সেগুলো তুলছেন।তবে সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে কিছু নিচু জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্তও হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের দ্রুত মুলা তুলে ফেলার পরামর্শ দিচ্ছেন, যাতে ফসল পচে না যায়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমের শুরুতে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন এবং তাদের সব ধরনের পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। চরের এই আগাম মুলা চাষ একদিকে যেমন কৃষকের মুখে হাসি ফুটিয়েছে, তেমনি স্থানীয় নারী-পুরুষ শ্রমিকদের জন্যও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।