ডেস্ক প্রতিবেদন, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি। ইরি-বোরো মৌসুমে ভালো মানের চারা পেতে ও উৎপাদন খরচ কমাতে উপজেলার কৃষকদের মাঝে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে আধুনিক ‘আদর্শ (কমিউনিটি) বীজতলা’। এই পদ্ধতিতে ধান উৎপাদন খরচ প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ কমে আসায় কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া পড়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সনাতন পদ্ধতির চেয়ে আদর্শ পদ্ধতিতে শ্রম, স্থান ও সেচ খরচ অনেক কম লাগে। এই পদ্ধতিতে প্রথমে শুকনো জমি ভালোভাবে চাষ করে জৈব ও রাসায়নিক সার দিয়ে বেড তৈরি করা হয়।

প্রতিটি বেড ১ মিটার প্রস্থ ও ৩ মিটার দৈর্ঘ্যের হয় এবং মাঝখানে ৫০ সেন্টিমিটার নালা রাখা হয়। বর্তমানে শীত ও কুয়াশার কবল থেকে চারা রক্ষা করতে অনেক কৃষক পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে দিচ্ছেন।

উপজেলার নশরতপুর ও আব্দুলপুর ইউনিয়নের কৃষকরা জানান, আগে সনাতন পদ্ধতিতে চারা তৈরি করতে গিয়ে পোকা-মাকড় ও শীতকালীন বালাইয়ে অনেক চারা নষ্ট হতো। কিন্তু কৃষি বিভাগের পরামর্শে আদর্শ বীজতলা তৈরি করায় এখন চারা অনেক সুস্থ ও সবল থাকছে।নশরতপুর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ খাদেমুল ইসলাম জানান, আদর্শ বীজতলায় আলো-বাতাস সহজে চলাচল করে এবং কোল্ড ইনজুরির ঝুঁকি কম থাকে। চারার শিকড় সহজে মাটি থেকে খাদ্য সংগ্রহ করতে পারে বিধায় চারা সতেজ ও পুষ্ট হয়।

চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ জোহরা সুলতানা জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় উপশী ও হাইব্রিড মিলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে বীজতলা অর্জিত হয়েছে। এর মধ্যে ৮৫০ হেক্টর জমিতে আদর্শ বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, সুস্থ চারা উৎপাদন ও বৈরি আবহাওয়া মোকাবিলায় এই পদ্ধতি কৃষকদের জন্য অত্যন্ত কার্যকর ও লাভজনক।

এগ্রিকেয়ার২৪.কম:/আরিফ