কৃষি সম্প্রসারণের গল্প

ফসল ডেস্ক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: দেশের তরুণ ও মেধাবী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাদের আপ্রাণ চেষ্টা আর পরিশ্রমে বদলে যাচ্ছে দেশের কৃষি। এর বাস্তব চিত্র নিয়ে কৃষি সম্প্রসারণের গল্প শিরোনামের লেখাটি লিখেছেন তরুণ ও পরিশ্রমী কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মোহাম্মদ ওয়াসিফ রহমান।

রবিবার (১৫/১১/২০২০) মধ্যাহ্নে ছোট্ট এই গল্পের সূচনা। উপজেলা কৃষি অফিসারের কার্যালয়, নালিতাবাড়ী-তে কৃষির সবুজ বিপ্লবে অংশীদার হতে আগ্রহী এক তরুণ Sujon Chandra এর আগমন।

চা চক্র চলমান অবস্থায় কথায় কথায় জানতে পারলাম তাদের কিছু জমির আমন ধান কাটা হয়েছে। বোরো লাগানোর আগ পর্যন্ত জমিগুলো পতিত থাকবে। সাথে সাথে প্রস্তাব দিলাম সরিষা করার জন্য। বোরো লাগানোর আগ পর্যন্ত কমপক্ষে শাক হলেও তো পাওয়া যাবে!!! তরুণ আগ্রহী হলেন। শ্রদ্ধেয় উপজেলা কৃষি অফিসার জনাব মো: আলমগীর কবীর স্যার এর অনুমতিক্রমে দিয়ে দিলাম ৩৩ শতাংশে চাষ করার জন্য ১ কেজি বিনা সরিষা-৯ এর বীজ।

কিন্তু সমস্যা হলো যে তরুণের পক্ষে জমি চাষ দেয়া ঝামেলা এবং সময় সাপেক্ষ। তরুণকে জিরো টিলেজে বীজ ছিটানোর জন্য উদ্বুদ্ধ করলাম। তরুণ কথামত সেদিন বিকেলবেলাই বীজ ছিটালো। তাকে অনেকে কটাক্ষও করলো, পাগল বলেও অভিহিত করলো। কিন্তু সে অদম্য, চিরচেনা বাঙ্গালির প্রতীক, সকলকে উত্তরে বললো “দেখি কি হয়”।

আজ শুক্রবার (২০/১১/২০২০) সকালে ঘুমই ভাঙলো তার মেসেজে। ছবি দিলো তার সরিষার জমির। যতটুকু জায়গায় সে সরিষা ছিটিয়ে ছিল, সব টুকু জায়গাতেই চারা উঠেছে। আলহামদুলিল্লাহ।

তাকে জিজ্ঞেস করলাম কটাক্ষকারীদের অভিব্যক্তি কী! সে বললো- কটাক্ষকারীদের উত্তর; “হলে তো ভালোই”।

আলহামদুলিল্লাহ, সে খুব খুশি। আশেপাশের মানুষজনকে বলছে তার খুশির কথা, সাফল্যের কথা। কিন্তু তার এই সাফল্যে তার থেকে আমি বেশি খুশি। কারণ এটিই আমার প্রাপ্তি, আমার কাছে এটিই ক্ষুদ্র সম্প্রসারণ!!!

আমার এই প্রচেষ্টায় আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি আমার পরম শ্রদ্ধেয় উপজেলা কৃষি অফিসার জনাব মো: Alamgir Kabir স্যারকে। কারণ স্যার আমাকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছেন, সর্বদা উদ্বুদ্ধ করে চলেছেন।

একই সাথে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি শেরপুর জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সুযোগ্য উপপরিচালক জনাব Mohit Dey স্যারকে। যোগদানের পর আমার প্রতি স্যারের বক্তব্য ছিল অত্যন্ত প্রেরণা সৃষ্টিকারী, আমার কাজের গতি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক ছিলেন স্যার। অসংখ্য ধন্যবাদ, স্যার।

ইন শাআ আল্লাহ এভাবেই এগিয়ে যাবে নালিতাবাড়ী তথা বাংলাদেশের কৃষি। এদেশের কোথাও এক (০১) ইঞ্চি জমিও পতিত থাকবে না। সেই কামনায় নিরলস নিরবধি কাজ করে যাচ্ছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। কৃষি সম্প্রসারণের গল্প একটি নয় এরকম গল্প পুরোদেশজুড়ে হোক এ প্রত্যাশা করে এগ্রিকেয়ার২৪.কম।