ডেস্ক প্রতিবেদন, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: সুস্থ থাকার জন্য পর্যাপ্ত পানি পান অপরিহার্য। তবে একজন মানুষের দিনে কতটুকু পানি প্রয়োজন, তা মূলত নির্ভর করে তার বয়স, আবহাওয়া, শারীরিক পরিশ্রমের মাত্রা, মাতৃত্ব এবং ওজনের ওপর। চিকিৎসকদের মতে, শরীরে পানির চাহিদা সবার জন্য সমান নয়। নিচে বয়স ও শারীরিক অবস্থাভেদে পানি পানের একটি সঠিক নির্দেশিকা তুলে ধরা হলো।

শিশুদের পানির চাহিদা:
শূন্য থেকে ৬ মাস বয়সী শিশুদের দৈনিক গড়ে দশমিক ৭ লিটার (প্রায় ৩ গ্লাস) পানির প্রয়োজন হয়। তবে এই বয়সের শিশুরা প্রয়োজনীয় পানি মায়ের বুকের দুধ থেকেই পেয়ে থাকে, তাই তাদের আলাদা করে পানি খাওয়ানোর প্রয়োজন নেই। তবে এ সময় স্তন্যদানকারী মায়েদের সাধারণ মাত্রার চেয়ে অন্তত আধা লিটার বা ২ গ্লাস বেশি পানি পান করা প্রয়োজন।

১ থেকে ৩ বছর বয়সী শিশুদের জন্য অন্তত ১ লিটার বা ৪ গ্লাস পানি পান করা জরুরি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই চাহিদা আরও বৃদ্ধি পায়। ৪ থেকে ৮ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে ১ দশমিক ২ লিটার বা ৫ গ্লাস পানি পান করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

৯ থেকে ১৩ বছর বয়সীদের মধ্যে মেয়েদের দৈনিক ১ দশমিক ৪ লিটার এবং ছেলেদের ১ দশমিক ৬ লিটার পানি পান করা উচিত। অন্যদিকে, ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরীদের ১ দশমিক ৬ লিটার এবং কিশোরদের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ ১ দশমিক ৯ লিটার।

পূর্ণবয়স্কদের প্রয়োজনীয় পরিমাণ
একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ নারীর দিনে গড়ে ৮ থেকে ৯ গ্লাস এবং পুরুষের ১০ থেকে ১২ গ্লাস পানি পান করা প্রয়োজন। তবে যারা নিয়মিত কঠোর পরিশ্রম করেন বা রোদে কাজ করেন, তাদের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

ওজন অনুযায়ী পানির পরিমাপ
শরীরের ওজন অনুযায়ী পানি পানের একটি সহজ গাণিতিক নিয়ম রয়েছে। নিয়মটি হলো—আপনার মোট ওজনকে (পাউন্ড হিসেবে) ২ দিয়ে ভাগ করলে যে সংখ্যাটি পাওয়া যাবে, আপনার তত আউন্স পানি পান করা প্রয়োজন। উদাহরণস্বরূপ, কারো ওজন যদি ৭০ কেজি বা ১৫৪ পাউন্ড হয়, তবে তাকে দিনে অন্তত ৭৭ আউন্স বা ২ দশমিক ৩ লিটার (প্রায় ১০ গ্লাস) পানি পান করতে হবে।

শরীরের চাহিদা ও সতর্কতা
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পানি পানের সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হলো শরীরের চাহিদা বা পিপাসাকে গুরুত্ব দেওয়া। যখনই শরীরের পানির অভাব হয়, তখনই মস্তিষ্কে পিপাসার সংকেত পৌঁছায়। তাই জটিল হিসাব মনে না রেখে পিপাসা অনুযায়ী পানি পান করাই শ্রেয়।

এ ছাড়া সুস্থ হজম প্রক্রিয়ার জন্য প্রতিবার খাবার খাওয়ার ৩০ মিনিট আগে এবং ৩০ মিনিট পরে এক গ্লাস করে পানি পান করার অভ্যাস করা ভালো। সঠিক পরিমাণে পানি পান কিডনি সুস্থ রাখার পাশাপাশি ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি ও শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, প্রথম আলো।