ডেস্ক প্রতিবেদন, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: দেশে উৎপাদিত খাদ্যে মাত্রাতিরিক্ত হেভি মেটালের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ। তিনি বলেন, বিভিন্ন পরীক্ষায় খাদ্যে অতিরিক্ত হেভি মেটালের অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে, যা আগামী প্রজন্মের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

মঙ্গলবার খাদ্য ভবনে খাদ্য অধিদপ্তরের সভাকক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, সমালোচনা করা সহজ; তবে সরকার আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে যেতে চায়। একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি—সে প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণে জোর দিতে হবে। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে আরও শক্তিশালী করা গেলে আমদানি-রপ্তানি থেকে শুরু করে সব ধরনের কোয়ালিটি কন্ট্রোল তাদের মাধ্যমে করা সম্ভব হবে। এতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ সহজ হবে এবং বাংলাদেশের খাদ্যপণ্য বিশ্ববাজারে গ্রহণযোগ্যতা পাবে।

মন্ত্রী জানান, চালের পাশাপাশি অন্যান্য খাদ্যপণ্য রপ্তানির দিকেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্য অর্জনে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, “গতানুগতিক ধারার বাইরে এসে টেকসই সমাধানের দিকে যেতে চাই। সমস্যা থাকবে, তবে তার সমাধানও আছে। শুধু সমস্যা চিহ্নিত না করে সম্ভাব্য সমাধানের প্রস্তাবও দিতে হবে।”

মতবিনিময়সভায় উপস্থিত ছিলেন খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, খাদ্য সচিব মো. ফিরোজ সরকার এবং খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম কামরুজ্জামানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

প্রতিমন্ত্রী খাদ্য নিরাপত্তা ও ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিতকরণে গুরুত্বারোপ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সহযোগিতা কামনা করেন। খাদ্য সচিব বলেন, অধিদপ্তরের সমস্যাগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে এবং ভুল তথ্য প্রচার থেকে সতর্ক থাকতে হবে।

খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, সরকারের গৃহীত কার্যক্রম বাস্তবায়নে অধিদপ্তরের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাবেন।

সভায় খাদ্য অধিদপ্তরের চলমান কার্যক্রম ও বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এগ্রিকেয়ার/ আরিফ