নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: রাজশাহীর বাজারগুলোতে ব্রয়লার মুরগির কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকা।ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডিম-মুরগির দাম থমকে না থেকে বাড়তে পারে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে ব্রয়লার মুরগির চাহিদার তুলনায় আমদানি বাড়ায় বাজারে কমতে শুরু করেছে দাম। তবে, একনাড়াগে দু-সপ্তাহ ধরে কমে মুরগির দাম। ক্রেতার চাহিদার উপরে নির্ভর করে কমছে- বাড়ছে ডিম মুরগীর দাম।

আজ সোমবার (২১ নভেম্বর ২০২২) রাজশাহীর সাহেব বাজার এলাকার খুচরা ও পাইকারী দোকান ঘুরে দেখা গেছে বাজারগুলোতে ব্রয়লার মুরগির দাম প্রতিকেজিতে একদিনের ব্যবধানে বেড়েছে ১০ টাকা।

খামারিরা বলছেন, উৎপাদন খরচ না কমে পাইকারি বাজারে কয়েকদিনের ব্যবধানে ব্রয়লারে কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা নাই হয়ে গেছে। তবে পাইকারি বাজারে ২০ টাকা কমলেও খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি কমেছে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত। বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন বাজারগুলোতে ব্রয়লার মুরগির প্রতিকেজিতে কমেছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। এতে বিপাকে পড়েছেন পোল্ট্রি খামারিরা। তারা বলছেন, ব্রয়লার মুরগির উৎপাদন খরচের তুলনায় কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। চলতি বাজারদরে প্রতিকেজিতে লোকসান গুনতে হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা।

বাংলাদেশ পোল্ট্রি খামার রক্ষা জাতীয় পরিষদ (বি.পি.কে.আর.জে.পি) এবং পোল্ট্রি প্রফেশনাল’স বাংলাদেশ(পিপিবি) প্রকাশিত বাজার দরে দেখা যায়, অন্তত ২০ অঞ্চলে কমেছে ডিম-মুরগির দাম। ব্রয়লার মুরগির কেজি পাইকারিতে ১২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ফলে খামারি পর্যায়ে আরো ৫ টাকা কমে ১১৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে ব্রয়লার মুরগি। অথচ, প্রতিকেজি ব্রয়লার উৎপাদনে ১৩৫ থেকে ১৩৮ টাকা খরচ পড়ে। খামারিদের তথ্যমতে, কেজিতে ২০ থেকে ২৫ টাকা লোকসান দিচ্ছেন তারা।

পোল্ট্রি সংগঠনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মাস দুয়েক আগে ব্রয়লার মুরগির বাচ্চা তোলা বন্ধ ছিল ফলে গত দু মাস সামান্য আমদানি কমে। ফলে দাম বেড়ে যায়। এখন মাংস উৎপাদনে ফিরেছেন খামারিরা। একযোগে বেশি উৎপানে নামার কারণে দাম পড়ে গেছে। গত কয়েক সপ্তাহ রেডি বাচ্চার দাম তুলনামূলক কম থাকার কারণে খামারে বাচ্চা তুলতে আগ্রহী হয় খামারিরা। ৩০ দিনের মধ্যে যেহেতু ব্রয়লার মুরগি বিক্রির উপযোগী হয় সে হিসেবে আমদানি বাড়ে।

রাজশাহীর সাহেববাজারের মুরগি দোকানদার মিঠু হোসেন এ্রগ্রিকেয়ার২৪.কমকে বলেন, গতকাল থেকে ব্রয়লার মুরগি ১৬০ টাকা দরে বেঁচা হচ্ছে। ব্রয়লারের আমদানী আছে দামও বাড়তে শুরু করেছে। আগে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি বিক্রি করলেও এখন ১৬০ টাকা। আর আমরা দালালের কাছে কিনি। দালাল আরো ২০ টাকা লাভ করেই বিক্রি করে। খামারে ১২০ থেকে ১২৫ টাকায় কিনছে তারা। আমরা কিনছি ১৪৫ টাকা।

মুরগি দোকানদার সাইফুল ইসলাম এগ্রিকেয়ার২৪.কমকে বলেন, পোল্ট্রি মুরগি ১৫০ টাকা দরে বেঁচা হচ্ছে। ব্রয়লারের আমদানী বেড়েছে। এখন মুরগির খামারিরা বিপদে আছে। দাম কমতে থাকলে রাতের মধ্যে ১০ টাকা কেজিতে নাই হয়ে যায় ফলে লোকসান হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ব্রয়লার মুরগির দাম কমছে কারণ বাজারে ব্রয়লার মুরগি একটু আমদানি বেশি। সোনালি ২৬০ টাকা, কক মুরগি ২৬০ টাকা, হাঁস ৪৫০ টাকা, রাজহাঁস ৪৩০ টাকা কেজি বিক্রি করছি।

 

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ