মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় গাজর চাষ।

ডেস্ক প্রতিবেদন, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় গাজর চাষ ঘিরে তৈরি হয়েছে বড় অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। চলতি মৌসুমে উৎপাদিত গাজর থেকে প্রায় ৯০ কোটি টাকার বিক্রির আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অল্প সময়ে ফলন ও বেশি লাভজনক হওয়ায় এ এলাকায় গাজর এখন গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ফসলে পরিণত হয়েছে। কৃষকদের পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের অংশগ্রহণে গড়ে উঠেছে স্থানীয় কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির একটি শক্ত ভিত্তি। দেশের অন্যতম গাজর উৎপাদনকারী এলাকা হিসেবে সিংগাইর থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা ও বড় শহরের বাজারে সরবরাহ যাচ্ছে নিয়মিত। স্থানীয়ভাবে এলাকাটি অনেকের কাছে ‘গাজর গ্রাম’ নামেও পরিচিত।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ৯০৫ হেক্টর জমিতে গাজর চাষ হয়েছে। পাইকারি বাজারে কেজিপ্রতি গড় দাম ২০ টাকা ধরলে মোট বিক্রি প্রায় ৯০ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। স্থানীয়দের ধারণা, মৌসুম শেষে এই অঙ্ক ১০০ কোটি টাকার বেশি হতে পারে। এ চাষে সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন প্রায় ২ হাজার ৮০০ কৃষক। পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের জন্য তৈরি হয়েছে কর্মসংস্থান। গাজরের পাতা ও তৃতীয় গ্রেডের গাজর গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় গাজর চাষ।

বেলে-দোঁআশ মাটি হওয়ায় সিংগাইর গাজর চাষের জন্য উপযোগী। আশ্বিন ও কার্তিক মাসে বীজ বপনের পর ৯০ থেকে ১২০ দিনের মধ্যে গাজর সংগ্রহ করা যায়। জয়মন্টপ, ধল্লা, সিংগাইর সদর, শায়েস্তা, জামির্ত্তা, তালেবপুর ও বায়রা ইউনিয়নসহ উপজেলার প্রায় সব এলাকায় এ বছর ব্যাপক চাষ হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বিঘা জমিতে গাজর চাষে খরচ হয় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। ভালো ফলন হলে বিঘাপ্রতি ১২০ থেকে ১৫০ মণ পর্যন্ত গাজর উৎপাদন হয়। বর্তমানে জমি থেকেই প্রতি বিঘা গাজর ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে খরচ বাদ দিয়ে বিঘাপ্রতি ৪০ থেকে ৬০ হাজার টাকা লাভ থাকে, যা অনেক শীতকালীন ফসলের তুলনায় বেশি।

চরআজিমপুরের কৃষক বাবুল হোসেন বলেন, অন্য ফসলের তুলনায় গাজরে লাভ বেশি। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে গাজর পরিষ্কার ও বাজারজাতকরণে পরিবর্তন এসেছে। মেশিনের মাধ্যমে আগের তুলনায় কম সময়ে বেশি গাজর পরিষ্কার করা সম্ভব হচ্ছে।

ভূমদক্ষিণ গ্রামের ব্যবসায়ী মো. আজমত আলী বলেন, কৃষকের জমি থেকে গাজর কিনে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। দাম স্থিতিশীল থাকলে লাভ ভালো হয়, তবে মৌসুমের শেষে বৃষ্টির ঝুঁকি থাকে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুল বাশার চৌধুরী বলেন, সিংগাইরের মাটি ও জলবায়ু গাজর চাষের জন্য উপযোগী। আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারে উৎপাদন ও গুণগত মান বেড়েছে। পরিকল্পিত বাজারব্যবস্থা ও সংরক্ষণ সুবিধা বাড়ানো গেলে এ অঞ্চলের গাজর দেশের সবজি অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।