নিজস্ব প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: সময়ের সাথে তাল মেলাতে লাঙল-হাল ছেড়ে কৃষি যন্ত্রপাতির দিকে আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের। দেশের গ্রামীণ কৃষি অর্থনীতিকে আরও একধাপ এগিয়ে নিতে ইতোমধ্যে সরকার নিয়েছে নানান পদক্ষেপ। ফলে চলতি মৌসুমে অর্ধেক দামে কৃষি যন্ত্রপাতি দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার।

কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণের জন্য সরকার চলতি রোপা আমন মৌসুমে ভর্তুকিতে (উন্নয়ন সহায়তা) কৃষিযন্ত্র ক্রয়ে আগ্রহী কৃষকদের যন্ত্রভিত্তিক আবেদন আহবান করেছেন। যন্ত্র কিনতে হলে উপজেলা কৃষি অফিসে আবেদন করতে হবে। চলতি মৌসুমের জন্য আবেদন জমা দেওয়ার সর্বশেষ সময় ২৫ আগস্ট ২০২২।

আসুন জেনে নিন ৫০% ভর্তুকিতে কৃষি যন্ত্রপাতি যেভাবে কিনবেন:-

কৃষি খাতের ব্যাপক উন্নয়নের লক্ষ্যে কৃষি যন্ত্রপাতি আরও সহজলভ্য করার জন্য কৃষকদের ভতুর্কী মূল্যে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি দিচ্ছে সরকার। যার ফলশ্রুতিতে কোটি টাকার কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণ একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ হাতে নিয়েছে সরকার।

পড়তে পারেন: ৭০% ভর্তুকিতে কৃষি যন্ত্রপাতি বা কম্বাইন্ড হারভেস্টার কিনবেন যেভাবে

যন্ত্রের তালিকাঃ

১। কম্বাইন্ড হারভেস্টার

২। রাইস ট্রান্সপ্লান্টার

৩। পাওয়ার থ্রেসার

৪। মেইজ শেলার

৫। রিপার ও রিপার বাইন্ডার

৬। ড্রায়ার

৭। পাওয়ার স্প্রেয়ার

৮। পাওয়ার উইডার

৯। সিডার

১০। বেড প্লান্টার

১১। পটেটো ডিগার

১২। ক্যারেট ওয়াশার

এই প্রকল্পের আওতায় দেশের কৃষকরা অর্ধেক দামে কিনতে পারবেন। অর্থ্যাৎ ৫০ শতাংশ দাম পরিশোধ করেই কিনতে পারবেন এসব যন্ত্রপাতি।

জানতে চাইলে রাজশাহীর গোদাগাড়ী ‍উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মতিয়র রহমান এগ্রিকেয়ার২৪.কমকে জানান, ধরুন, একটি কম্বাইন্ড হারভেস্টার ১৪ লাখ টাকা দাম হলে কৃষক দেবে ৭ লাখ টাকা, বাঁকি ৭ লাখ টাকা সরকার পরিশোধ করবে। বাঁকি ভর্তুকির টাকা কোম্পানিকে পরিশোধ করবে সরকার। স্থানীয় কৃষি অফিসের মাধ্যমে কৃষকের নাম ঠিক করা হবে। প্রকল্পের আওতায় সারাদেশের কৃষকরা ।

হাওর অঞ্চলে কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়ের জন্য কৃষকদের শতকরা ২০ ভাগ বেশি সুবিধা দেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র এ অঞ্চলে ৭০ শতাংশ ভর্তুকিতে কৃষি যন্ত্রপাতি দেওয়া হয়। এছাড়া দেশের অন্যান্য অঞ্চলে ৫০ শতাংশ ভর্তুকি দেয় সরকার।

এ বিষয়ে কথা হয় ঢাকা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ড. আব্দুল আউয়ালের সাথে। তিনি এগ্রিকেয়ার২৪.কমকে কৃষকদের সুবিধা পাওয়ার কয়েকটি পদক্ষেপ জানিয়েছেন। যেভাবে কৃষকরা কৃষি যন্ত্রপাতি পেতে পারেন।

১. প্রথম অবস্থায় কৃষি যন্ত্রপাতি কিনতে আগ্রহী কৃষক উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করে আগ্রহ প্রকাশ করবে।

২. উপজেলা কৃষি বিভাগে আবেদনকারী কৃষকদের বিষয়টি যুক্তিসঙ্গত কি না খতিয়ে দেখবে

৩. এরপর আবেদনকারী কৃষকদের তালিকা উপজেলা কৃষি পুনর্বাসনের আওতায় তালিকাভুক্ত করবে।

৪. তালিকাভুক্ত হওয়ার পর উপজেলা সমন্বয় কমিটিতে উত্থাপন ও অনুমোদন করবে।

৫. কৃষকের চাহিদা, মেশিনের ধরন, কোন কোম্পানির মেশিন কিনতে আগ্রহী ইত্যাদি আগেই নির্ধারণ করা থাকে। সেক্ষেত্রে মেশিন সরবরাহ করবে কোম্পানি। এরপর কৃষি বিভাগের মাধ্যমে ভর্তুকির ৫০ শতাংশ কিংবা অঞ্চলভেদে ৭০ শতাংশ টাকা দিবে সরকার। এবং বাঁকি ৫০ কিংবা ৩০ শতাংশ টাকা কোম্পানিকে পরিশোধ করবে কৃষক

৭০% কিংবা ৫০% ভর্তুকিতে কৃষি যন্ত্রপাতি কিনতে কৃষকের সাথে মেশিন বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের যোগসাজস হতে পারে। তারা কিস্তিতে অথবা নগদে উভয়েই টাকা পরিশোধ করতে পারেনে। এতে সরকারের কোন বিষয় থাকবে না। তবে, মেশিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু নির্দেশনা রয়েছে। যেমন, মেশিন হস্তান্তর করা যাবেনা, মেশিনের গায়ে বড় বড় হরফে ভর্তুকির বিষয়ে উল্লেখ থাকবে ইত্যাদি।

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ