নিজস্ব প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) উদ্ভাবিত জিঙ্কসমৃদ্ধ নতুন ধান ‘বঙ্গবন্ধু ব্রি-১০০’ দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। কমবেশি সারাদেশের আনাচে-কানাচে চাষ হচ্ছে এ উচ্চফলনশীল ধান।

ব্রি’র উদ্যোগে চাষিদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ প্রদান করা হয়েছে। রাজশাহী ধান গবেষণা কেন্দ্রের সহযোগিতায় রাজশাহী অঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় চাষ হচ্ছে। অন্যদিকে বান্দরবানের পাহাড়ি অঞ্চলের সমতলেও চাষ হচ্ছে। একই ধারাবাহিকতায় বান্দরবানের সদর উপজেলার রাজবিলা ইউনিয়নের উদালবনিয়ায় ‘বঙ্গবন্ধু ব্রি-১০০’ ধানের পরীক্ষামূলক চাষ করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

রাজশাহী ধান গবেষণা কেন্দ্রের (ব্রি) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও অফিস প্রধান ড. ফজলুল ইসলাম এগ্রিকেয়ার২৪.কমকে বলেন, এই ধানের ভাত খেলে জিঙ্কের অভাব পূরণ হবে। জাতটির জীবনকাল ১৪৮ দিন। ব্রি ধান-১০০ হাই জিংক সমৃদ্ধ। জিংকের পরিমাণ প্রতি কেজিতে ২৫ দশমিক ৭০ মিলিগ্রাম। দেশের ১০টি স্থানে পরীক্ষা করে গড় ফলন হেক্টর প্রতি ৭ দশমিক ৬৯ টন পাওয়া গেছে। এই পরিক্ষীত একটি জাত। ফলে কৃষকরা চাষ করে লাভবান হতে পারবেন। কৃষকরা ব্রি থেকে বীজ সংগ্রহ করতে পারবেন।

পড়তে পারেন: আসছে জিঙ্কসমৃদ্ধ চিকন চালের জাত ‘ব্রি ধান ১০০’

পোকামাকড়ের আক্রমণ রোধ করার ক্ষমতাসম্পন্ন উচ্চফলনশীল একটি জাত। অন্য যেকোনো জিঙ্ক জাতের চেয়ে উৎপাদন বেশি ও কম সময়ে ভালো ফলন পাওয়া যায়।

এরআগে ২০২১ সালে ব্রির মহাপরিচালক শাহজাহান কবীর এ ধান সম্পর্কে আগাম বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে ব্রি উদ্ভাবিত শততম জাত ‘ব্রি ধান১০০’ অবমুক্ত করবেন তারা। নতুন এই জাতের ধান থেকে যে চাল হবে, তার প্রতি কেজিতে জিঙ্কের পরিমাণ হবে ২৫ দশমিক ৭০ মিলিগ্রাম। চাল হবে আগের জিঙ্কসমৃদ্ধ ধানের চেয়ে সরু, ভাত হবে ঝরঝরে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ‘বঙ্গবন্ধু ব্রি-১০০’-এর জীবনকাল ১৪৮ দিন, ডিগ পাতা খাড়া, প্রশস্ত ও লম্বা, পাতার রং সবুজ, পূর্ণবয়স্ক গাছের উচ্চতা ১০১ সেন্টিমিটার (মাঝারি)। এ জাতের ধানে রোগবালাই কম, পোকামাকড়ের আক্রমণ রোধ করার ক্ষমতাসম্পন্ন, জিঙ্কের পরিমাণ বেশি, কম সময়ে উচ্চফলনশীল জাত। সদর উপজেলার রাজবিলা ইউনিয়নের উদালবনিয়ায় ‘বঙ্গবন্ধু ব্রি-১০০’ ধানের পরীক্ষামূলক চাষ হচ্ছে।

পড়তে পারেন: দীঘা’সহ বিলুপ্ত ১০০ প্রজাতির ধান নিয়ে আসছে ব্রি

বান্দরবানে উদালবনিয়া হেডম্যান বিলে ‘বঙ্গবন্ধু ব্রি-১০০’ ধান চাষ করছেন কৃষক উমেচিং মারমা। তিনি বলেন, কৃষি বিভাগের নির্দেশনা মেনে ‘বঙ্গবন্ধু ব্রি-১০০’ ধান চাষ করছি। কৃষি বিভাগ সার, বীজ ও কারিগরি সহায়তা দিয়েছে। এ ধান চাষ করে ও নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বুঝতে পেরেছি, অন্যান্য ধানের তুলনায় এ ধানে রোগবালাই কম, সারও কম লাগে। ধান গাছের উচ্চতা মাঝারি। সাড়ে তিন মাসে ধান পাকতে শুরু করেছে।

কম খরচে ভালো ফলন, ধানের আকারও চিকন। ধান  মৃদু সুঘ্রাণ রয়েছে। এ ধান চাষ করে নিজেকে ভাগ্যবান মনে হচ্ছে। কারণ উচ্চফলনশীল ‘বঙ্গবন্ধু ব্রি-১০০’ ধান চাষে স্থানীয় কৃষক আগ্রহ দেখাচ্ছে। তাদের আগ্রহ দেখে এ ধানের বীজ তৈরি করার কথাও চিন্তা করছি। আশা করছি, বঙ্গবন্ধু ধান চাষে একটা বিপ্লব ঘটবে।

রাজবিলা ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা লুলুমং মারমা বলেন, উদালবনিয়ায় দুটি প্লট মিলে প্রায় এক হেক্টর জমিতে ‘বঙ্গবন্ধু ব্রি-১০০’ ধান চাষ হচ্ছে। ৮-১০ দিনের মধ্যে ধান কাটা হবে। দুই প্লট মিলে সাত-আট টন ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণত জিঙ্কের অভাবে মানবদেহে পুষ্টিহীনতা দেখা দেয়। এর প্রভাবে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) বিজ্ঞানীরা ধানের এ জাত উদ্ভাবন করেন বলে জানিয়েছেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক। তিনি বলেন, এ ধানের গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ৭ দশমিক ৭ টন। উপযুক্ত পরিবেশ ও পরিচর্যা পেলে হেক্টরপ্রতি ৮ দশমিক ৮ টন পর্যন্ত ফলন হয়ে থাকে, যা অন্যান্য জাতের তুলনায় উচ্চফলনশীল।

চাল মাঝারি, চিকন ও সাদা। জিঙ্কের পরিমাণ প্রতি কেজিতে ২৫ দশমিক ৭ মিলিগ্রাম। চালে অ্যামাইলোজ ২৬ দশমিক ৮ শতাংশ এবং প্রোটিন ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। তিনি জানান, উদালবনিয়া এলাকার কৃষকরা ‘বঙ্গবন্ধু ব্রি-১০০’ ধান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। জিঙ্কসমৃদ্ধ এ ধান মানবদেহে জিঙ্কের অভাব পূরণে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।

 

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ