এগ্রিকেয়ার ডেস্ক: আজ শুক্রবার জাতীয় পাট দিবস। ২০১৭ সাল থেকে প্রতিবছর ৬ মার্চ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয়ভাবে পাট দিবস পালিত হয়ে আসছে। দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘পাটশিল্প গড়ে তুলুন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করুন’। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।

আজ শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পাট দিবসের কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। এদিকে জাতীয় পাট দিবস উপলক্ষে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে আগামী ১৪ মার্চ পর্যন্ত ৯ দিনব্যাপী পাট ও বহুমুখী পাটপণ্যের মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

পাট দিবস উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, পাট বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। সোনালি আঁশের হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে সরকার সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। কয়েক বছর ধরে পাট ও পাটপণ্যের সন্তোষজনক রপ্তানি চিত্র তুলে ধরেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় বন্ধ হয়ে যাওয়া পাটকলগুলো পুনরায় চালু করতে সরকার কাজ করছে। বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন মিলগুলো দীর্ঘমেয়াদি ইজারায় বেসরকারি খাতে চালু রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে ইজারাকৃত ৯টি মিলে প্রায় সাত হাজার ২০০ শ্রমিক কাজ করছেন।

কাঁচা পাট রপ্তানি তুলনামূলকভাবে কম লাভজনক। দীর্ঘদিন ধরে কাঁচাপাট রপ্তানির কারণে দেশীয় শিল্প কাঁচামাল সংকটে পড়ে। অন্যদিকে ভারতসহ কয়েকটি দেশ বাংলাদেশের কাঁচা পাট ব্যবহার করে উচ্চমূল্যের পণ্য রপ্তানি করছে। এ পরিস্থিতিতে প্রক্রিয়াজাত ও ফিনিশড পাটপণ্য রপ্তানিতে প্রণোদনা বাড়ানো হবে, যাতে উদ্যোক্তারা উচ্চমূল্য সংযোজনমুখী বিনিয়োগে আগ্রহী হন।

পাট খাতের উন্নয়নে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, পাট অধিদপ্তরের ১৫ ধরনের লাইসেন্স অনলাইনে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাট আইন সংশোধন, বিশেষ প্রণোদনা, ‘জুট পোর্টাল’ চালু, শিল্প-একাডেমি সমন্বয়, পৃথক টাস্কফোর্স গঠন এবং পাটশিল্পভিত্তিক বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ‘গোল্ডেন ফাইবার অব বাংলাদেশ’ নামে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিংয়ের কাজ চলছে।