
ডেস্কপ্রতিবেদন,এগ্রিকেয়ার২৪.কম:শাহ জাহান নবীন,ঝিনাইদহ(বাসস):জেলায় চলতি রোপা আমন মৌসুমে ধানক্ষেতের পচন রোগ দমনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে। এখনই পদক্ষেপ না নেওয়া হলে পচে যাবে জেলার ৬ উপজেলার ১ লাখ ৪ হাজার হেক্টর জমির আমন ধান। নষ্ট হয়ে যাবে স্থানীয় কৃষকদের সারাবছরের উৎপাদনের একটা বড় অংশ। প্রান্তিক কৃষকদের খাদ্যের অভাব দেখা দেবে। সারা বছরের খোরাকি তো দূরের কথা উৎপাদন খরচও উঠে আসবে না।
সরেজমিনে জেলার সদর, শৈলকূপা, হরিণাকুন্ডু, মহেশপুর ও কোটচাঁদপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ধানক্ষেতে পচন রোগের সংক্রমণ লক্ষ্য করা গেছে। জানা যায়, কীটনাশক ও পচন রোধক ওষুধ প্রয়োগ করেও মিলছেনা এই অজ্ঞাত পচন রোগের সমাধান। ফলে ধানক্ষেত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ঝিনাইদহের কৃষক। ধানের ফলন নিয়েও দুশ্চিন্তায় আছেন তারা।
ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, রাতারাতি পচন রোগের সংক্রমণে ধানের গাছ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পচন রোধক ওষুধ ও কীটনাশক প্রয়োগ করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে মারাত্মক লোকসানের মুখে পড়তে হবে।
জেলার শৈলকূপা, সদর, কালীগঞ্জ, হরিণাকুন্ডু, মহেশপুর ও কোটচাঁদপুর সবকটি উপজেলাতেই একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ধান গাছের গোড়ায় পচন দেখা দিচ্ছে। অজানা পোকার আক্রমণে অনেক গাছ শুকিয়ে সাদা হয়ে যাচ্ছে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলার ৬ উপজেলায় ১ লাখ ৪ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৫ লাখ ৬৪ হাজার ১৩৯ মেট্রিক টন। কিন্তু ধান গাছের পচন রোধ করা সম্ভব না হলে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে না।
সদর উপজেলার কুমড়াবাড়ীয়া গ্রামের কৃষক জসিম উদ্দিন বলেন, ধান রোপণের পর থেকে নিয়মিত যত্ন নিচ্ছি। কিন্তু এখন পচন রোগে অনেক গাছ মরে যাচ্ছে। বারবার কীটনাশক ব্যবহার করছি। কিন্তু কাজ হচ্ছে না। কেবল খরচ বাড়ছে। যদি এভাবে চলতে থাকে, তাহলে সব শেষ হয়ে যাবে।
কোটচাঁদপুর উপজেলার দোড়া গ্রামের কৃষক মহিদুল ইসলাম বলেন, ধানের গোড়ায় পোকা ঢুকে গাছের ডগা ও পাতা কেটে দিচ্ছে। এতে ধানের গোছা মরে গিয়ে সাদা হয়ে গেছে। ধানের গোড়ায় পচন ধরেছে।
মহেশপুর উপজেলার ফতেপুর গ্রামের কৃষক আনারুল হোসেন বলেন, ধান আবাদ করেই সারা বছরের সংসার খরচ জোগাড় করা হয়। কিন্তু পোকার আক্রমণে এবার ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছি। কীভাবে কী করব বুঝতে পারছি না।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, এখন পর্যন্ত আমন ধানে পোকার আক্রমণ নিয়ে গুরুতর তথ্য পাইনি। আমাদের মাঠকর্মীরা নিয়মিত কৃষকদের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। আমনের কাঙ্ক্ষিত ফলন নিশ্চিত করতে ও পচন রোগ দমনে কৃষকদের পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। দ্রুতই পচন রোগ সম্পর্কে প্রকৃত অবস্থা জানতে সরেজমিনে ধানক্ষেত পরিদর্শন করা হবে।
























