টেকসই কৃষি উন্নয়নে গবেষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: টেকসই কৃষি উন্নয়নে গবেষণা, প্রশিক্ষণ, বিকাশে একসাথে কাজ করবে বাংলাদেশ-কানাডা। এ উপলক্ষে দু’দেশের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী কানাডার সাসকাচাওয়ান (ইউএসএএসসি) বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্লোবাল ইনস্টিটিউট ফর ফুড সিকিউরিটি (জিআইএফএস) এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কেন্দ্র (বিএআরসি) নিরাপদ খাদ্য, টেকসই কৃষি উন্নয়নে সহায়তার জন্য গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও বিকাশের অংশীদারিত্বের কাজ করতে করবে দেশ দুটি।

সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল এর ক্রিস্টাল বলরুমে দুই দেশের মধ্যে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক ও সফররত কানাডা’র সাসকাচোয়ান সরকার এর কৃষিমন্ত্রী ডেভিড মারিট (Mr.David Marit) চুক্তি স্বাক্ষরের সময় উপস্থিত ছিলেন।

গ্লোবাল ইনস্টিটিউট অফ ফুড সিকিউরিটি (জিআইএফএস), কানাডার সাসকাচোয়ান বিশ্ববিদ্যালয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) এর মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

সমঝোতা চুক্তিতে (এমওইউ) স্বাক্ষর করেন বিএআরসি নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মোহাম্মদ বখতিয়ার এবং কানাডা’র জিআইএফএস চিফ অপারেটিং অফিসার স্টিভ ভিসার (Mr.Steve Visscher)।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কৃষিতে বাংলাদেশের সাফল্য ঈর্ষণীয়। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, সীমিত সম্পদ, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বন্যা, খরা, লবণাক্ততা ও বৈরী প্রকৃতিতেও খাদ্যশস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উদাহরণ।

তিনি বলেন, দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে যাচ্ছে সবজি। খাদ্য ঘাটতির দেশ আজ খাদ্য উদ্বৃত্তর দেশে পরিনত হয়েছে। এছাড়াও ধান, গম ও ভুট্টা বিশ্বের গড় উৎপাদনকে পেছনে ফেলে ক্রমেই এগিয়ে চলছে দেশ।

তিনি জানান, বন্যা, খরা, লবণাক্ততা ও দুর্যোগ সহিষ্ণু শস্যের জাত উদ্ভাবনেও শীর্ষে বাংলাদেশের নাম। টেকসই কৃষির জন্য বাণিজিকীকরণ অপরিহার্য।

কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখিত নিরাপদ ও পুষ্টিমান সম্পন্ন খাদ্যের নিশ্চয়তার কথা উল্লেখ করেন। কৃষি উন্নয়নের সঙ্গে দেশের সার্বিক উন্নয়ন অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।

ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এ দর্শন সর্বপ্রথম উপলব্ধি করেই স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন। বর্তমান সরকারও কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।

কৃষির জন্য বর্তমান সরকার নিবেদিত প্রাণ উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষি উৎপাদন খরচ হ্রাসের লক্ষে একাধিকবার সারের মুল্য হ্রাস করা হয়েছে। কৃষি যান্ত্রিকরণের লক্ষ্যে ক্রয়ের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ, হাওর ও উপকূলীয় এলাকায় ৭০ শতাংশ আর্থিক প্রনোদণা দিচ্ছে সরকার।

কৃষি বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত নতুন নতুন জাতসমূহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর কর্তৃক মাঠপর্যায়ে সম্প্রসারণ, শস্য বহুমুখীকরণ, আধুনিক প্রযুক্তি হস্তান্তর, শস্য নিবিড়তা বৃদ্ধি এবং সময়োপযোগী বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে বর্তমানে কৃষি উৎপাদনের ধারা উর্ধমুখী রয়েছে জানান মন্ত্রী।

এসময় মন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তন জনিত সমস্যার কথা উল্লেখ করে বলেন, ভিশন ২০২১, ২০৩০ ও ডেল্টা প্লান ২১০০ ও উল্লেখ করেন। এছাড়া ক্ষুধা, দারিদ্র এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা কথাও তুলে ধরেন।

সাসকাচোয়ান কৃষিমন্ত্রী ডেভিড মেরিট বলেন, রাষ্ট্রের উন্নয়নের জন্য ব্যক্তির ভূমিকা প্রধান, যার প্রকৃত উদাহরণ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আর বর্তমানে তার কন্যা বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ কৃষিতে অনেক ভালো করেছে। আমরা বাংলাদেশের সাথে একত্রে কাজ করতে চাই।

তিনি বলেন, আমাদের গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এই সম্পর্কটি একটি মাইলফলক। আমরা ভবিষ্যতে আমাদের সম্পর্ককে আরও জোরদার করে কৃষি উন্নয়নে একসাথে কাজ করবো। যা কোটি কোটি মানুষের  নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে সহায়ক হবে।

কৃষি সচিব মো: নাসিরুজ্জামান এর সভাপতিত্বে চুক্তি স্বাক্ষরে আনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) এর নির্বাহী চেয়ারম্যান ড.শেখ মোহাম্মদ বখতিয়ার। আরও বক্তব্য রাখেন সাসকাচোয়ান এর উপমন্ত্রী রিক বারটন (Rick Burton) বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার রাষ্ট্রদূত বেনোইট প্রেফোঁটেন (Benoit Prefontaine), কানাডা’র জিআইএফএস চিফ অপারেটিং অফিসার স্টিভ ভিসার (Mr.Steve Visscher)।

টেকসই কৃষি উন্নয়নে গবেষণা, প্রশিক্ষণ, বিকাশে একসাথে কাজ করবে বাংলাদেশ-কানাডা শিরোনামের সংবাদটির তথ্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে এলাকাভিত্তিক শস্য সংরক্ষণাগার তৈরিসহ ১০ প্রস্তাব