সোমবার, ৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ৮:৫৪
Home > ফসল > ট্রান্সফর্মিং রাইস ব্রিডিং পদ্ধতি আধুনিক, উদ্ভাবনী এবং ভোক্তাবান্ধব ধান প্রজনন কৌশল
2097_ACS_1627_19-Poultry_Dairy-Ad
ট্রান্সফর্মিং রাইস ব্রিডিং পদ্ধতি

ট্রান্সফর্মিং রাইস ব্রিডিং পদ্ধতি আধুনিক, উদ্ভাবনী এবং ভোক্তাবান্ধব ধান প্রজনন কৌশল

নিজস্ব প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: ট্রান্সফর্মিং রাইস ব্রিডিং পদ্ধতি আধুনিক, উদ্ভাবনী এবং ভোক্তাবান্ধব ধান প্রজনন কৌশল বলে মন্তব্য করেছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ নাসিরুজ্জামান।

বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর ২০১৯) রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘ট্রান্সফর্মিং রাইস ব্রিডিং’ (টিআরবি-ব্রি) প্রকল্পের সমাপনী কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইরি) এর সহযোগীতায় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট (ব্রি) ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে ‘ট্রান্সফর্মিং রাইস ব্রিডিং’ (টিআরবি-ব্রি) নামক প্রকল্পের আওতায় আধুনিক, উদ্ভাবনী এবং ভোক্তাবান্ধব ধান প্রজনন কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে ধানের জাত উদ্ভাবনে যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করেছে বলে জানান কৃষি সচিব মোঃ নাসিরুজ্জামান।



ইরি এবং ব্রি’র যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইরি)-বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড. হুমনাথ ভান্ডারী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন।

ট্রান্সফর্মিং রাইস ব্রিডিং পদ্ধতি আধুনিক, উদ্ভাবনী এবং ভোক্তাবান্ধব ধান প্রজনন কৌশল উল্লেখ করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষি সচিব বলেন, ধানের প্রজনন পদ্ধতির উন্নয়ন একটি উৎকৃষ্ট পদ্ধতি যা পছন্দসই বৈশিষ্ট্যের সাথে ধানের জাত উন্নয়নের জন্য প্রচলিত প্রজনন কৌশলকে স্থানান্তরিত করে আধুনিক উদ্ভাবনী পদ্ধতিকে উৎসাহিত করে।

এই প্রকল্পের অনন্য একটি দিক ছিলো মানবসম্পদ উন্নয়ন, যা ব্রি এবং এর অন্যান্য দেশিয় অংশীদার সংস্থার গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধি ও টেকসই করেছে। প্রকৃতপক্ষে এটি দরিদ্র কৃষকদের জীবন ও জীবিকার মানোন্নোয়নে ভূমিকা রাখবে। তিনি জানান, সরকার শিগগিরই ভিটামিন এ সমৃদ্ধ গোল্ডেন রাইসের জাত অবমুক্ত করবে।

ব্রি’র মহাপরিচালক ড. মোঃ শাহজাহান কবীরের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল এর নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. কবীর ইকরামুল হক।

এছাড়াও ইরির ইরিগেটেড ক্লাস্টার লিড  ড. জশোয়া কব, বিএমজিএফ (বিল এন্ড মিলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন) সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার ড. গ্যারি অ্যাটলিন, ব্রির প্ল্যান্ট ব্রিডিং ডিভিশন এর প্রধান ড. কে এম ইফতেখার-উ-দৌলা এবং ইরি-বাংলাদেশ এর রাইস ব্রিডার ড. মো. রফিকুল ইসলাম প্রমূখ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হিসেবে বলা হয়, ব্রি’র ধানের প্রজনন প্রোগ্রামের উন্নয়ন সাধন করা। যেমন: দ্রুত বংশ বৃদ্ধি (আরজিএ) কৌশলের মাধ্যমে জাত উৎপাদন প্রক্রিয়া তরান্বিত করা, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ পদ্ধতির অটোমেশনের মাধ্যমে ধানের প্রজনন কৌশলে যুগপোযোগী পরিবর্তন আনা, হাই থ্রুপুট মলিকুলার মার্কার এবং সেরা প্রজনন লাইনের দ্রুত পুনর্ব্যবহার করে প্রজনন ধারনার সাথে সম্পর্কিত কৌশলগুলোর সর্বাধুনিক উন্নয়ন সাধন।

গত চার বছরে ‘ট্রান্সফর্মিং রাইস ব্রিডিং’ (টিআরবি-ব্রি) প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য সাফল্যের মধ্যে রয়েছে এই প্রকল্পের আওতায় ৬০,৫৯৪ টি ফিক্সড রাইস ব্রিডিং লাইন তৈরি করা হয়েছে এবং আরও ১০ লক্ষ ব্রিডিং লাইন আগামী ৪ বছরের মধ্যে তৈরি করা হবে।

আমন ও বোরো মৌসুমের উপযোগী স্বল্পমেয়াদি জাত উদ্ভাবন করা হবে যেগুলোর ফলন হবে ৮ থেকে ১০ টন/হে.।

এছাড়া ব্লাষ্ট, বিএলবি, ফলস স্মার্ট, বিপিএইচ ইত্যাদি প্রধান প্রধান রোগ ও পোকামাকড় সহনশীল জাত, ঘাতসহনশীল জাত (যেমন: লবণাক্ততা, খরা, জলমগ্নতা, বন্যা সহিষ্ণু) জাত উদ্ভাবনের কাজ এই প্রকল্পের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে ১,০৯৯ টি এলএসটি ব্রিডিং লাইন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরীবিক্ষণের কাজ এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। লবণাক্ততা সহনশীল ২০০০ জার্মাপ্লাজম ও বিড্রিং লাইন সনাক্ত ও বাছাই করা হয়েছে।

ঠান্ডা ও করা সহনশীল ১২০০ জার্মাপ্লাজম ও বিড্রিং লাইন সনাক্ত ও বাছাই করা হয়েছে। জলমগ্নতা ও বন্যা সহনশীল জাত উদ্ভাবনের লক্ষ্যে ৯০০ জার্মাপ্লাজম ও বিড্রিং লাইন বাছাই করা হয়েছে।

বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবনের জন্য ৪২০০০ ব্রিডিং লাইন বাছাই করা হয়েছে। প্রিমিয়াম কোয়ালিটি জাত উদ্ভাবনের লক্ষ্যে ১০৬০০টি  ব্রিডিং লাইন বাছাই করা হয়েছে। ৮৩৫টি প্যারেন্ট ম্যাটেরিয়াল এবং ১৫৬১০টি এলএসটি লাইনের কিউটিএল ফিঙ্গার প্রিন্টিং সম্পন্ন করা হয়েছে।

ব্রি উদ্ভাবিত নতুন জাতগুলোর মাঠ পর্যায়ে দ্রুত সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ২১টি নতুন উদ্ভাবিত জাতের ১০০০টি পরীক্ষামূলক অভিযোজন ট্রায়াল দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সম্পন্ন করা হয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে ব্রি’র মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীর বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ ধানের ফলনের স্তরভিত্তিক সীমাবদ্ধতা ছাড়িয়ে যেতে হলে আমাদের কৌশলভিত্তিক প্রজনন পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।

তাই ধানে ফলনের সীমাবদ্ধতা হ্রাসের জন্য ধানের প্রজনন আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। টিআরবি-এর সফল প্রয়োগের মাধ্যমে লাখ লাখ প্রজনন লাইনের বিকাশের মাধ্যমে একটি অবিস্মরণীয় সাফল্য লাভ করতে সক্ষম হয়েছে।

বিল এন্ড মিলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনর সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার ড. গ্যারি অ্যাটলিন সাফল্যজনকভাবে টিআরবি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ব্রি ও ইরি কে অভিনন্দন জানান। তিনি এদেশের খাদ্য নিরাপত্তায় বিল এন্ড মিলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনর সহায়তা অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুন:  চাহিদার সাথে উৎপাদিত পণ্যের সামঞ্জস্য রেখে সময় অনুযায়ী আমদানির অনুমতি দেয়া প্রয়োজন; কৃষি সচিব

About এগ্রিকেয়ার২৪.কম

Check Also

জলবায়ু পরিবর্তনে লবণাক্ততা বৃদ্ধি

জলবায়ু পরিবর্তনে লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও মাটিতে পুষ্টি উপাদানের ঘাটতিতে হুমকিতে মৃত্তিকা

নিজস্ব প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: জলবায়ু পরিবর্তনে লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও মাটিতে পুষ্টি উপাদানের ঘাটতিতে হুমকিতে মৃত্তিকা বলে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

স্বত্ব © এগ্রিকেয়ার টোয়েন্টিফোর.কম (২০১৭-২০১৯)
সম্পাদক: কৃষিবিদ মো. হামিদুর রহমান। নির্বাহী সম্পাদক: মো. আবু খালিদ।
যোগাযোগ: ২৩/৬ আইওনিক প্রাইম, রোড ২, বনানী, ঢাকা ১২১৩।
Email: agricarenews@gmail.com, Mobile Number: 01831438457, 01717622842