এগ্রিকেয়ার ডেস্ক: স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হওয়া সত্ত্বেও লাভের আশায় মানিকগঞ্জ জেলায় তামাক চাষ অব্যাহত রয়েছে। চলতি মৌসুমে জেলার তিনটি উপজেলায় ৩৫৫ হেক্টর জমিতে তামাকের আবাদ হয়েছে। এতে একদিকে খাদ্যশস্যের আবাদ কমছে, অন্যদিকে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকিও বাড়ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত বছর জেলায় ৩৬০ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয়েছিল। এ বছর তা কিছুটা কমে ৩৫৫ হেক্টরে নেমে এসেছে। সদর, ঘিওর ও সাটুরিয়া উপজেলায় তামাকের চাষ বেশি হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তামাক চাষে ব্যবহৃত বিষাক্ত সার ও কীটনাশক মাটি ও পরিবেশের ক্ষতি করে। মাঠে কাজ করা শ্রমিকদের শরীরে তামাকের রাসায়নিক উপাদান শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে প্রবেশ করে ফুসফুসের ক্ষতি এবং ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এতে নারী ও শিশুরাও মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন।

ঘিওর উপজেলার আশাপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কয়েক বছর আগেও যেখানে ধান, গম ও ভুট্টাসহ নানা ফসলের আবাদ হতো, সেখানে এখন বিস্তীর্ণ জমিতে তামাকের চাষ হচ্ছে।

আশাপুর গ্রামের কৃষক আবুল কাশেম জানান, তিনি তামাকের পাশাপাশি ভুট্টা ও কাঁচামরিচ চাষ করেন। তাঁর দাবি, এ জমিতে তামাক ছাড়া অন্য ফসল ভালো হয় না। ভুট্টায় খরচ বেশি, লাভ কম। তামাকে সব খরচ বাদ দিয়েও কিছু লাভ থাকে। তিনি বলেন, এ অঞ্চলের জমি মূলত এক ফসলি। বর্ষায় পানি ওঠে এবং কার্তিকের শেষে পানি নামলে চাষ শুরু করতে হয়। ভুট্টা চাষের উপযুক্ত সময় কার্তিকের প্রথম সপ্তাহ হলেও তখন জমি প্রস্তুত থাকে না। অন্যদিকে তামাক অগ্রহায়ণের শেষেও বোনা যায় এবং বিঘাপ্রতি খরচ বাদে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা লাভ থাকে।

তামাক চাষি সালাম মাদবর জানান, এ বছর তিনি সাত বিঘা জমিতে তামাক চাষ করেছেন। আগে মাসকলাই, খেসারি ও গম চাষ করতেন। এসব ফসলের তুলনায় তামাকে বেশি লাভ হওয়ায় এখন তামাকের দিকে ঝুঁকেছেন। তাঁর দাবি, খরচ বাদে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা লাভ থাকে।

কৃষক মোহাম্মদ ফারুক মিয়া বলেন, ‘এবার ৯ বিঘা জমিতে তামাক চাষ করেছি। খরচ হয়েছে প্রায় ৩ লাখ টাকা। বিক্রি হবে প্রায় ৭ লাখ টাকায়। আমি জানি তামাক চাষ ক্ষতিকর, কিন্তু লাভ বেশি হওয়ায় বাধ্য হয়ে করছি।’

তামাক প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার না করায় স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গৃহিণী জানান, খালি হাতে ও মুখে তামাক পাতা নাড়াচাড়া করলে মাথা ঘোরে এবং বমি বমি ভাব হয়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহজাহান সিরাজ বলেন, সচেতনতামূলক কার্যক্রমের কারণে এ বছর তামাক চাষ কিছুটা কমেছে। কৃষকদের উচ্চমূল্যের বিকল্প ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। উঠান বৈঠক ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তামাকের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরা হচ্ছে। তাঁর আশা, কৃষকেরা ধীরে ধীরে তামাক চাষ থেকে সরে এসে লাভজনক ও নিরাপদ ফসলের দিকে ঝুঁকবেন।