স্টাফ রিপোর্টার, এগ্রিকেয়ার২৪.কম:
দেশের তামাক কোম্পানিগুলো বছরে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি করছে বলে জানানো হয়েছে। এসব ক্ষতির মধ্যে রয়েছে কর ফাঁকি, শুল্ক ফাঁকি, স্বাস্থ্য ব্যয়, কৃষকের মূল্য বঞ্চনা, পরিবেশের ক্ষতি, বৈষম্য বৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য প্রবণতা বৃদ্ধি।

বুধবার (৫ নভেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরো (বিইআর) কনফারেন্স রুমে ‘কোম্পানির আগ্রাসনে বাড়ছে তামাক চাষ, জনস্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তায় হুমকি’ শীর্ষক কর্মশালায় এ তথ্য তুলে ধরা হয়। কর্মশালার আয়োজন করে ঢাবির অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরো (বিইআর), বাংলাদেশ কৃষি সাংবাদিক ফোরাম (বিএজেএফ) ও বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি)।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিএজেএফের সাধারণ সম্পাদক আবু খালিদ, এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএনটিটিপির টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য ও বিএজেএফের গবেষণা সম্পাদক সুশান্ত সিনহা।
মূল প্রবন্ধে তিনি বলেন, তামাক পাতা রপ্তানিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার তামাক চাষ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। শুল্ক মওকুফের ফলে রপ্তানি যেমন বেড়েছে, তেমনি তামাক চাষও বেড়েছে, যা জনস্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তামাক কোম্পানিগুলো প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ব্যবহার করে সরকারকে করনীতি ও আইন নিজেদের পক্ষে নিতে বাধ্য করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিএজেএফের সভাপতি সাহানোয়ার সাইদ শাহীন বলেন, “তামাক কোম্পানিগুলো ১০ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বছরে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকার ক্ষতি করছে। স্বাস্থ্যক্ষতি ও রাজস্ব ফাঁকি দুটিই ভয়াবহ। তামাকের বিকল্প ফসল কৃষকের হাতে পৌঁছাতে হবে এবং তামাক রপ্তানিতে পুনরায় শুল্ক আরোপ করতে হবে।”

বিএনটিটিপির টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য ও জনস্বাস্থ্য নীতি বিশ্লেষক অ্যাডভোকেট মাহবুবুল আলম তাহিন বলেন, “তামাক চাষ ও উৎপাদন হাইকোর্টের আদেশে সীমিত করার কথা থাকলেও বাস্তবে তা বাড়ছে। বরং সরকার নিকোটিন পাউচ উৎপাদনের অনুমতি দিয়ে আইন অমান্য করছে। এতে জনস্বাস্থ্যের ভয়াবহ ক্ষতি হবে।”

সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও বিএনটিটিপির টেকনিক্যাল কমিটির আহ্বায়ক ড. রুমানা হক বলেন, “তামাক থেকে বের হয়ে আসার সময় এখনই। দ্রুত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন ও তামাক রপ্তানিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক পুনর্বহাল করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “তামাক কোম্পানিগুলো রাজস্বের চেয়ে বহুগুণ বেশি ক্ষতি করছে। দেশে বছরে যেখানে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা কর আদায় হয়, সেখানে তামাকজনিত রোগে স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় হচ্ছে ৩০ হাজার কোটি টাকারও বেশি।”

ড. রুমানা হক আরও বলেন, “তামাক কোম্পানিগুলোর চোরাচালানের গল্প আসলে অজুহাত মাত্র। কর বৃদ্ধি রোধে তারা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। সরকারের উচিত জনস্বার্থে আইন শক্তিশালী করা এবং টেকসই তামাক করনীতি প্রণয়ন করা।”

এগ্রিকেয়ার/আরিফ