
ডেস্ক প্রতিবেদন, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: শীতের আমেজ কাটিয়ে বসন্তের আগমনে `লিচুর রাজ্য` খ্যাত দিনাজপুরের বাগানগুলোতে লিচুর মুকুল আসতে শুরু করেছে। গত বছরের তুলনায় এবার নতুন পাতার পরিমাণ কম এবং মুকুলের আধিক্য বেশি দেখা যাচ্ছে। সোমবার দিনাজপুর সদরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার বাগানগুলো ঘুরে দেখা গেছে, গাছে গাছে মনোরম পরিবেশে মুকুল শোভা পাচ্ছে।
দিনাজপুর হর্টিকালচার বিভাগের কৃষিবিদ রায়হান ফরিদ জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমে লিচুর বাম্পার ফলনের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, জেলায় লিচুর কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন নিশ্চিত করতে চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।
সাধারণত ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিক থেকে লিচু গাছে মুকুল আসা শুরু হয়। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উৎপাদন নিয়ে বিশেষজ্ঞ ও চাষিদের মধ্যে কোনো সংশয় নেই।দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত বছর জেলায় ৫ হাজার ৮৭০ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ করা হয়েছিল।
তবে চলতি বছরের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের কাজ এখনো চলমান রয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (শস্য) কৃষিবিদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দিনাজপুরের লিচু সুস্বাদু ও মিষ্টি হওয়ায় দেশব্যাপী এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বৃষ্টিপাতহীন হালকা ও মাঝারি শীত মুকুল আসার জন্য সহায়ক হয়েছে।মৌ পালন ও মধু উৎপাদনকারী রাকিবুল হাসান জানান, গত বছর অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে নতুন পাতা বেশি গজিয়েছিল, যার ফলে মুকুল কম ছিল।
কিন্তু এবার সঠিক সময়ে মুকুল আসতে শুরু করেছে। বিশেষ করে বোম্বাই, কাঁঠালি ও মাদ্রাজি লিচুর উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। বিরল উপজেলার বনহরা গ্রামের লিচু চাষি শফিকুর রহমান বলেন, কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরামর্শে আমরা বাগান পরিচর্যা করছি। এবার মুকুলের অবস্থা বেশ আশাব্যঞ্জক।
দিনাজপুরে বিশেষ করে চায়না থ্রি, বেদেনা, বোম্বাই, মাদ্রাজি ও হাড়িয়া জাতের লিচু বেশি চাষ হয়। চাষিরা জানান, মুকুল আসা থেকে ফল আহরণ পর্যন্ত প্রায় চার মাস বাগান মালিকদের ব্যস্ততা থাকে। মুকুল ঝরা রোধে এখন গাছের গোড়ায় নিয়মিত সেচ ও সার প্রয়োগ শুরু হয়েছে। সদর, বিরল, বোচাগঞ্জসহ বিভিন্ন উপজেলায় এখন লিচুর মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে মুখরিত হয়ে উঠেছে প্রকৃতি। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. আফজাল হোসেন বলেন, মুকুলের সমারোহ দেখে আমরা একটি সফল মৌসুমের আশা করছি।
এগ্রিকেয়ার/ আরিফ
























