ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে এলাকাভিত্তিক

ডেস্ক প্রতিবেদন, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে এলাকাভিত্তিক শস্য সংরক্ষণাগার তৈরিসহ ১০ প্রস্তাব পর্যালোচনা করে পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে।

‘ধানের ন্যায্যমূল্য : সংকট ও প্রস্তাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে এ দাবি জানানো হয়। কৃষকের ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার জন্য এলাকাভিত্তিক শস্য সংরক্ষণাগার ও ক্রয় কেন্দ্র খোলার দাবি জানান বক্তারা।

সম্প্রতি (ডিসেম্বর, ২০১৯) জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) ও বারসিক আয়োজিত নাগরিক সংলাপ ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন পবা’র চেয়ারম্যান আবু নাসের খান। পবা’র সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জলের সঞ্চালনায় ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন বারসিকের পরিচালক সৈয়দ আলী বিশ্বাস।

সেমিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষকনেতা ও সাবেক সাংসদ ছবি বিশ্বাস। আলোচনা করেন পবার সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো: আব্দুস সোবহান, কৃষক সমিতির উপদেষ্টা জামাল হায়দার মুকুল, হাওর অঞ্চলবাসীর সমন্বয়ক ড. হালিম দাদ খান, কৃষিবিদ এবিএম তৌহিদুল আলম, মো: জাহাঙ্গীর আলম, বাপা’র যুগ্ম সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, কবি লিলি হক, কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি এ এস এম বদরুল আলম, প্রকৌশলী আনোয়ার, শিক্ষার্থী প্রমূখ।

ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে এলাকাভিত্তিক শস্য সংরক্ষণাগার তৈরিসহ ১০ প্রস্তাব নিচে তুলে ধরা হলো।

. ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের মজুদক্ষমতা ১ কোটি টনে উন্নিত কর।দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে এমনকি ক্ষেত্রভেদে কৃষক ও স্থানীয় পর্যায়ে ধানসহ কৃষিপণ্য মজুতকরণের শক্তিশালী ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

. কৃষকদের মতে কমপক্ষে মোট উৎপাদন খরচের ২৫% লাভে ধানের বাজার মূল্য নিশ্চিত করতে হবে। কৃষিপণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে পণ্যের আর্দ্রতা, রাসায়নিকের উপস্থিতিসহ পণ্যের মানযাচাইয়ের নামে কৃষক হয়রানি বন্ধ করতে হবে। মানযাচাইসহ পণ্যের বাজার উপযোগিতার বিষয়গুলো চাষের পূর্বেই কৃষককে সরকারিভাবে অবহিত করতে হবে।

. হাওরের কৃষিজমির শ্রেণীবিভাগ করে একক ফসল নির্ভরতা কমিয়ে স্বল্প মেয়াদী রবিশস্য চাষে প্রাসঙ্গিকতা বিবেচনা করে কৃষকদের সম্পৃক্ত করে প্রায়োগিক গবেষণার মাধ্যমে উপযোগি ফসল চাষে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে হবে। হাওরের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান গড়ে তুলতে হবে।

হাওর এলাকার প্রতিটি ইউনিয়নে উৎপাদিত শস্যফসল সংরক্ষণ ও নায্যমূল্য নিশ্চিত করার জন্য শস্য গুদাম, সংরক্ষণাগার এবং উপজেলা ভিত্তিক  প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে।

. প্রতি কৃষি মৌসুমের শুরুতেই কৃষি প্রতিবেশ, কৃষকের সামাজিক পরিস্থিতি, ক্রেতা-ভোক্তার চাহিদা এবং চলমান জীবনযাত্রাকে বিবেচনা করে মওসুম ভিত্তিক ধানসহ কৃষিপণ্যের একটি সুনির্দিষ্ট মূল্যতালিকা নির্ধারণ করতে হবে এবং তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

. সরকারি মূল্যে ধানসহ কৃষিপণ্যের ১/৩ অংশ সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য একটি সক্রিয় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। এক্ষেত্রে কৃষকের নিজস্ব কৃষিকার্ড (পরিবারের সদস্যসহ) এবং জাতীয় পরিচয়পত্র, ভোটার আইডি ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রতিজন কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের সীমা বাড়াতে হবে (কৃষক যত পরিমাণ ধান বিক্রি করতে চান)। সরকারিভাবে ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা ও কৃষকের সংখ্যা বাড়াতে হবে।

. বিশেষ পরিস্থিতি ও দুর্যোগকালীন সময়ে শহর ও গ্রামের নি¤œআয়ের মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যে খাদ্যপণ্য বিক্রি ও সরবরাহ করে এবং সামগ্রিকভাবে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে সরকারিভাবে কৃষক থেকে ক্রয়কৃত ধানসহ কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত করণও রপ্তানি করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

. কৃষিতে তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ বাড়াতে সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে কৃষির উৎপাদন, মজুতকরণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিপণন ও বহুমুখীকরণের নানা স্তরে নানাভাবে তরুণদের আগ্রহ, দক্ষতা ও সৃজনশীলতার নিরিখে যুক্ত করতে বিশেষ প্রণোদনামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা যেতে পারে। ফসল সংরক্ষণের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে হবে।

. কৃষির সাথে স্থানীয় থেকে জাতীয় পর্যায়ে জড়িত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং কর্মসূচি সমূহের তথ্য নিয়মিত পাবলিক করা জরুরি এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা আরো দায়িত্বশীল ও দায়বদ্ধকরণের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।

দেশের প্রতিটি প্রান্তে কত দামে কৃষিপণ্য ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে এবং প্রতিটি মৌসুমে কী ধরণের কৃষিপণ্য কতটুকু উৎপাদন ও মজুত হয়েছে এবং ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে এসবের সামগ্রিক তথ্য সরকারিভাবে দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন ডিজিটাল তথ্যকেন্দ্রে হালনাগাদ থাকতে হবে।

. হাওরসহ দেশের সকল এলাকায় কৃষকদের জন্য সহজ শর্তে কৃষিঋণসহ শস্য বীমা চালু করতে হবে এবং ঋণগ্রহনের ক্ষেত্রে কৃষক যেন হয়রানি শিকার না হয় তা মনিটরিং করতে হবে। ১০. হাওরের ফসল ঘরে তোলার জন্য হাওরের সাথে গ্রামের সংযোগ রাস্তাগুলোকে কংক্রিট দিয়ে ডুবো রাস্তা তৈরি করতে হবে।