নিজস্ব প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি ঘনীভূত হয়ে নিম্নচাপ এবং পরবর্তীতে গভীর নিম্নচাপ ও ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।

ফলে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে এক নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। শনিবার (২২ মে) বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে। সেই সাথে গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে ২৩ মের মধ্যে উপকূলে ফিরে আসতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ-ভারতের দিকে ধেয়ে আসতে যাওয়া এই ঘূর্ণিঝড়ের নাম ইয়াস (Yass)। এর নামকরণ করেছে ওমান বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

এদিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান জানিয়েছেন, উত্তর আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে যে লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস দেয়া হচ্ছে, সেটি যদি ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’-এ রূপান্তর হয়, তবে তা এক পর্যায়ে শক্তিশালী ‘সুপার সাইক্লোনে’ পরিণত হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের পুরো উপকূলকে সতর্ক থাকতে হবে।

খুলনা উপকূলে আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড় ‘যশ’

আবহাওয়া ডেস্ক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: আগামী ২৬ মে বুধবার বাংলাদেশের খুলনা উপকূলে আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড় ‘যশ’। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

লঘুচাপটি আজ শনিবারই সৃষ্টি হতে পারে। পরে যা সুস্পষ্ট লঘুচাপ থেকে নিম্নচাপ, গভীর নিম্নচাপ, এরপর ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।

লঘুচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে এর নাম হবে ‘যশ’। সম্ভাব্য এই ঘূর্ণিঝড়টি বুধবার দেশের  খুলনা উপকূলে আঘাত হানতে পারে । শুক্রবার ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, উত্তর আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। পরে এটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বুধবার নাগাদ ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের খুলনা উপকূলে পৌঁছতে পারে।

এদিকে বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ সৃষ্টির আগের দুই দিন, অর্থাৎ শনিবার ও রোববার রাজধানীসহ দেশের বেশির ভাগ এলাকাজুড়ে ভ্যাপসা গরমের অনুভূতি বাড়বে। দিনের বেলা তাপমাত্রা বেড়ে দাবদাহ বিস্তৃত হতে পারে। ফলে গরমের কষ্টে ভুগতে হবে দেশবাসীকে। তবে ২৫ মে থেকে মেঘ ও বৃষ্টি বাড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে তাপমাত্রা কমে যাবে এবং তাতে গরমের কষ্ট কমতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান এ ব্যাপারে গণমাধ্যমকে বলেন, শনিবারের মধ্যে লঘুচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের কাছে আসতে পারে। তবে এটি কেমন শক্তি নিয়ে আঘাত করবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

‘যশ’ মোকাবেলায় প্রস্তুতি: এদিকে ঘূর্ণিঝড় যশ মোকাবেলায় সাতক্ষীরার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে জেলা প্রশাসন সম্মেলনকক্ষে ভার্চুয়ালি এ সভা হয়। জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে সভায় জানানো হয়, জেলায় ১৪৫টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। এক হাজার ৫০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ১৮৩ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুদসহ দুই কোটি ১৫ লাখ টাকা রয়েছে।

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ