গরু হৃষ্টপুষ্টকরণের সফলতার মূলমন্ত্র

নওগাঁ থেকে ফিরে মোফাজ্জল বিদ্যুৎ, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: ভারি বর্ষণ ও উজান নেমে আসা ঢলের পানিতে বন্যায় নওগাঁর মান্দা উপজেলার মানুষেরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। পানিতে তলিয়ে গেছে আবাদি জমি-ঘাস । গোচারণ ভূমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় গবাদিপশু নিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন এসব এলাকার মানুষ। পাশাপাশি দেখা দিয়েছে গো-খাদ্যের তীব্র সঙ্কট।

জানা গেছে, উপজেলার বেশ কয়েকটি জায়গার বন্যা নিয়ন্ত্রিত বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে প্লাবিত হয় বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন। উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের চকরামপুর, কয়লাবাড়ী, কর্ণভাগ, শহরবাড়ী, ক্ষুদ্র বান্দাইখাড়া, পারশিমলা, নহলা কালুপাড়া, আবিদ্যপাড়া, যশোপাড়া, পশ্চিম দুর্গাপুর, শিবপুর, চককামদেব, ভরট্ট শিবনগর ও দাসপাড়া, নুরুল্লাবাদ ইউনিয়নের পারনুরুল্লাবাদ, মন্ডলপাড়া, নিখিরাপাড়া, বাকশাবাড়ি, চকহরি নারায়ন ও শাহানাপাড়া, কশব ইউনিয়নের বনকুড়া, এবং তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের বেশ কয়েক গ্রাম ।

নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী এ বন্যায় ৯৫ হেক্টর জমির ফসল নিমজ্জিত হয়। তলিয়ে যায় গোচারণ ভূমি।

এসব এলাকার পশু মালিকদের বিল থেকে বাড়তি গো-খাদ্য সংগ্রহের পথ বন্ধ হওয়ায় বাড়তি খরচ যোগাতে হচ্ছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সংসার চালাতে যেখানে হিমশিম সেখানে কিনতে হচ্ছে গো-খাদ্য। আর্থিক সংকটে পরিস্থিতি আরোও নাজেহাল এসব অঞ্চলের মানুষদের।

এছাড়া মান্দা উপজেলার শতশত বিঘা পুকুরের মাছ বন্যার পনিতে ভেসে গেছে। শুধু উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নেই বন্যায় ভেসে গেছে ২ কোটি টাকার মাছ।এদের অনেকের মাছ চাষের সাথে পশুপালন পেশা যুক্ত। সংসারের হাল ধরত এ দুটি আয়ের পথ। বর্তমানে গরুকে ঠিকমত খাবার দিতে না পারায় অল্পদামে বেঁচে লোকসান পোহাচ্ছেন তারা।এতে পড়েছেন উভয় সঙ্কটে।

উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামের বাসিন্দা জানবক্স দেওয়ান এগ্রিকেয়ার২৪.কমকে বলেন, ‘আমাদের গ্রামের চারিদিক বিল। সেই বিলেই গরু-ভেড়া চরাতাম। প্রয়োজন মতো ঘাস সংগ্রহ করতাম।কিন্তু গত মাসে আকস্মিক বন্যায় বিলসহ উঁচু জায়গাও তলিয়ে গেছে।গত এক মাস ধরে এখনোও বন্যা স্থায়ী রয়েছে। গো-খাদ্যের অভাবে গরু-ভেড়াগুলো শুকিয়ে হালকা হয়ে গেছে।

ভারশোঁ ইউনিয়নের হোসেন পুর গ্রামের তনজেব আলী নামের এক খামারি জানান, গরুর খাবার নিয়ে অনেক দু:শ্চিন্তায় আছি। মাঝে মধ্যে আমাদের গ্রামের পাশের বিল থেকে ঘাস সংগ্রহ করি। কিন্তু গত মাসে আকস্মিক বন্যাতে বিলসহ উঁচু জায়গাও তলিয়ে গেছে।এখনো বন্যার পানি স্থায়ী রয়েছে।বোরার খড় পালা দিয়ে রাখা হয়েছিলো। সেই খড়ও শেষ। তাছাড়া বিল থেকে এখন ঘাস সংগ্রহ করে এনে দিবো সেই উপায়ও নেই।

তিনি আরোও বলেন, আমার গোয়াল ঘরে বর্তমানে গরু আছে ৭ টি। তাদের প্রতিদিনের খাবার যোগাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বর্তমানে অতিশোচনীয় দিন পার করছি। কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে তার এই খামার টিকিয়ে রাখার জন্য সরকারের কাছে সাহায্য চেয়েছেন তিনি।

মান্দা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. অভিমান্য চন্দ্র এগ্রিকেয়ার ২৪.কমকে বলেন, উপজেলায় ৪ লক্ষ ৬০ হাজার ২৩১ গরু, ২ লক্ষ ১০ হাজার ৩২০ ছাগল, ১ লক্ষ ৬৭ হাজার ২০০ ভেড়া লালন পালন করা হয়। এর মধ্যে উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নে বেশি গবাদিপশু পালন করা হয়। বন্যার প্রভাব পড়েছে খামারি ও সাধারন মানুষের ওপর।