
স্টাফ রিপোর্টার,এগ্রিকেয়ার২৪.কম: নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে এক কৃষকের সোয়া দুই বিঘা জমির সম্পারাণী জাতের ধান ঘাস মারা বিষ প্রয়োগ করে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক হযরত আলী সরদার।
ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার রাতে উপজেলার পিপরুল ইউনিয়নের বাঁশভাগ পূর্বপাড়ায়। শনিবার সকালে মাঠে গিয়ে হযরত আলী দেখতে পান, তার জমির ধানের শীষ ও পাতা নুয়ে পড়েছে। পরে কাছ থেকে পরীক্ষা করে দেখা যায়, রাতের আঁধারে কে বা কারা ঘাস মারা বিষ প্রয়োগ করেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক হযরত আলী সরদার বলেন, “সোয়া দুই বিঘা জমিতে চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ মণ ধান হওয়ার কথা ছিল। এখন সব নষ্ট হয়ে গেছে। এই ধানেই আমাদের সারা বছরের সংসার চলতো। এখন পরিবার নিয়ে কীভাবে বাঁচবো বুঝতে পারছি না।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, তার চাচাতো ভাই সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। সেই বিরোধের জের ধরেই এ ধরণের ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে তার ধারণা। তিনি আরও জানান, গত বছরও একইভাবে তার রসুন, পেঁয়াজ ও ধান ঘাস মারা বিষ দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।
স্থানীয় কৃষক লিটন বলেন, “যে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে এতে ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাবে। কোনো বিবেকবান মানুষ এভাবে একজন কৃষকের সর্বনাশ করতে পারে না। যারা এই কাজ করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার।”
তবে অভিযুক্ত সিরাজুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ধান পুড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। বরং তারাই তাদের জমির ধান পুড়িয়ে অন্যের উপর দোষ চাপাতে চাচ্ছে।”
পিপরুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কলিম উদ্দিন বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। একজন কৃষকের সোনার ফসল এভাবে নষ্ট করা অমানবিক কাজ। যারা এই কাজ করেছে তাদেরকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দিতে হবে, যেন ভবিষ্যতে কেউ এমন কাজ করার সাহস না পায়।”
নাটোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হাবিবুল ইসলাম খান বলেন, “এ ধরনের বিষ প্রয়োগে ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আবেদন করলে সরকারিভাবে প্রণোদনা সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।”
নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইফতে খায়ের আলম বলেন, “বিষয়টি আমাদের জানা আছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
























