জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: দেশের সকল মানুষের নিরাপদ খাদ্য অধিকার নিশ্চিত করার জন্য অর্থায়ন বাড়াতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ও বিসেফ ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহি কর্মকর্তা আনোয়ার ফারুক। তিনি বলেন, এজন্য সরকারকে বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হবে। আর বরাদ্দকৃত ভর্তূকির টাকার সঠিক ব্যবহার করতে হবে।

আজ মঙ্গলবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর ফার্মগেট কৃষি গবেষণা কাউন্সিল এর সম্মেলন কক্ষে ‘জাতীয় কৃষিনীতি ও নিরাপদ খাদ্যে বিনিয়োগ কৌশল শীর্ষক অনুষ্ঠিত সংলাপে তিনি এ মন্তব্য ও এসব কথা বলেন। নিরাপদ খাদ্য সম্পর্কিত নেটওয়ার্ক বিসেফ ফাউন্ডেশন এ সংলাপের আয়োজন করে।

সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক খাদ্য মন্ত্রী এবং অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডঃ মোঃ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, অনিরাপদ খাদ্য এখন আমাদের কাছে আতঙ্কের নাম। বর্তমানে নিরাপদ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য মূল চ্যালেঞ্জ। সঠিক পলিসি ব্যবহার করতে হবে, নইলে কোন কিছুই সফল হবে না।

তিনি বলেন, একটি নির্দিষ্ট সময়ে ভেজাল ও নিম্নমানের খাদ্যের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে সুফল মিলবে না। রোজা বা ঈদ উপলক্ষে অভিযান পরিচালনা করা হলো কিন্তু অন্য সময়ে বন্ধ হয়ে গেলো তাহলে হবে না। সারাবছরই অভিযান পরিচালিত করতে হবে। তবেই সুফল মিলবে। এক্ষেত্রে খাদ্য কর্তৃপক্ষকে শক্তিশালী হতে হবে।

মৎস্য ও প্রাণিখাতকে নিয়েই একটি জাতীয় কৃষিনীতিমালা হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন ড. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি জানান, একটির সাথে অপরটির সম্পর্কও রয়েছে। সুতারাং সবার অংশগ্রহণ হলে এটি আরও সমৃদ্ধ হবে।

সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে সাবেক তত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, কৃষির সুপার পাওয়ার রয়েছে। কৃষি পণ্যের প্রসেসিংয়ের পাশাপাশি আধুনিক বিপণন ব্যবস্থাপনা করা জরুরি। আমরা খাদ্য নিরাপত্তার শুরু থেকেই কৃষিকে গুরুত্ব দিচ্ছি।

মধ্যম দেশের নতুন চালিকা শক্তি হতে পারে কৃষি বলে মত প্রকাশ করেন তিনি। বুলডেজার দিয়ে আম ধ্বংসের সমালোচনা করে এ বক্তা বলেন, আমার জানা মতে পৃথিবীর কোনো দেশে এমন ঘটনার উদাহরণ নেই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ইব্রাহীম খালেদ বলেন, এগুলো বাস্তবায়নে একটি প্লাটফর্ম দরকার। প্রতিষ্ঠান বা সংস্থাটি নন প্রোফিট হওয়া দরকার।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. কবীর একরামুল হক, হরটেক্স ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কৃষিবিদ মো. মনজুরুল হান্নান।

শিশুকের নির্বাহি পরিচালক সাকিউল মিলাত মোর্শেদ, হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ড এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ও বিসেফ ফাউন্ডেশনের সাধারন সম্পাদক আতাউর রহমান মিটন, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য ড. মোর্শেদ আহমেদ বক্তব্য রাখেন।

মূল বক্তব্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব আনোয়ার ফারুক আরও বলেন, প্রতিটি নীতি ও কার্যক্রমের বাস্তবায়নের জন্যে এ্যাকশন প্ল্যান দরকার। কে কোন কাজ করবে এটা ঠিক করে দিতে হবে। প্রতিটি কাজের জন্যে এ্যাকশন প্ল্যান থাকলে সব কিছুই সহজ হবে সম্পাদন করা সম্ভব হবে।

তিনি জানান, জাতীয় কৃষি নীতি অনেক সুন্দর একটি নীতিমালা। এটি বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি এবং খুবই প্রয়োজন।

বক্তারা ভ্যালু চেইনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, প্রয়োজনে ভ্যালু চেইনের ক্ষেত্রে বিশেষ প্যাকেজ দিতে হবে। প্রথম চার থেকে পাঁচ বছর করতে পারলেও অনেক ভালো হবে। ভ্যালু চেইনের প্রতিটি ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন।

কেননা ভ্যালু অ্যান্ড এডেড যদি আমরা না বুঝি তাহলে আমরা কাজগুলো ভালোভাবে সম্পাদন করতে পারবো না। এটি জেলা ও প্রান্তিক পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে হবে।

তারা বলেন, দেশের গবেষণাগার, ল্যাবরেটরী, সার্ভের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। খাদ্যের রিস্ক এনালাইসিস করার ক্ষমতা আমাদের নেই। এটির দিকেও নজর দিতে হবে।

উন্মুক্ত আলোচনায় বক্তারা নিরাপদ খাদ্য বিনিয়োগের কৌশলটা কী হবে তা পরিস্কার করার আহ্বান জানান। বালাইনাশক ও কীটনাশকের ব্যবহার কমানো, কৃষকরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সরকারের বিনিয়োগের বহুমুখিকরণের দাবিও তুলে ধরেন।

ফার্মের সার্টিফিকেশনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বক্তরা বলেন, সার্টিফিকেশনের ব্যবস্থাপনাটা খুবই দূর্বল। এটি চালু শক্তিশালীভাবে চালু করা দরকার। এছাড়া সার্জন পদ্ধতিতে চাষাবাদও খুবই জনপ্রিয়। এ পথেও হাঁটা যেতে পারে। পণ্যের বিক্রি বৃদ্ধিতে প্রচুর মেলা করা উচিত।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এহসানুর রহমান বেসরকারি খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠানের রিসার্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেল বা উইং খোলার পরামর্শ দেন। এ বক্তা নিজেদের সচেতনতা বৃদ্ধিতেও সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।