
ডেস্ক প্রতিবেদন, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: একসময় যা ছিল কেবলই স্মৃতি, তা এখন ফিরছে বাঙালির পাতে। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) তাদের নিরলস গবেষণার মাধ্যমে পাবদা, গুলশা, টেংরা, মহাশোল এবং কুঁচিয়ার মতো ১৮টিরও বেশি বিলুপ্তপ্রায় ও সুস্বাদু দেশীয় মাছের কৃত্রিম প্রজনন ও চাষাবাদ কৌশল উদ্ভাবন করে মৎস্যখাতে এক নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছে।
ময়মনসিংহে সদর দপ্তর অবস্থিত দেশের একমাত্র জাতীয় এই মৎস্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি শুধু মাছের উৎপাদনই বাড়াচ্ছে না, বরং দেশের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও পালন করছে এক ঐতিহাসিক ভূমিকা। হারিয়ে যাওয়া মাছগুলোর জিনগত বৈশিষ্ট্য ধরে রাখতে প্রতিষ্ঠানটি একটি অত্যাধুনিক ‘লাইভ জিন ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠা করেছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দেশের মৎস্য সম্পদের এক বিরাট নিরাপত্তা ভান্ডার।
বিএফআরআই-এর সাফল্যের ঝুড়িতে আরও রয়েছে জেনেটিক গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবিত ‘সুবর্ণ রুই’, যা প্রচলিত জাতের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি উৎপাদনশীল। এছাড়াও, কৈ মাছের রোগ প্রতিরোধী ভ্যাকসিন, কুঁচিয়ার কৃত্রিম প্রজনন প্রযুক্তি এবং নিরাপদ শুঁটকি তৈরির জন্য ‘মেকানিক্যাল ফিশ ড্রায়ার’ উদ্ভাবন প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম বড় সাফল্য।
জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতেও বিএফআরআই-এর গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাদের গবেষণার ওপর ভিত্তি করে নতুন অভয়াশ্রম ঘোষণা এবং জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রমের ফলে দেশে ইলিশের উৎপাদন প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্র বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিই নয়, বরং টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ নিশ্চিত করা।” বিএফআরআই-এর উদ্ভাবিত ৮০টিরও বেশি প্রযুক্তি এখন দেশের মৎস্যচাষিদের স্বপ্ন দেখাচ্ছে এবং বাংলাদেশের নীল অর্থনীতি বাস্তবায়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।
























