
ডেস্ক প্রতিবেদন, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: রাতের আঁধারে কৃষি জমিতে জ্বলে উঠলো সাদা বাতি। সবুজের মাঝে এ যেন আলোর বিচ্ছুরণ। দূর থেকে দৃশ্যটা যেন নয়নাভিরাম। এটা পোকার জন্য আলোর ফাঁদ। ওই আলোর নিচেই রাখা হয় পানিসহ পাত্র। আর এতে এসে পোকা পড়ে মারা যায়। কৃষক রক্ষা পায় ফসলের সম্ভাব্য ক্ষতি থেকে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় সন্ধ্যার পর বিভিন্ন কৃষি জমিতে আলোর ফাঁদ পাতার দৃশ্য দেখা যায়।
জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে কৃষি অফিসের তত্ত্বাবধানে ফসলের মাঠে পোকামাকড় দমনে আলোক ফাঁদ কর্মসূচি পালন করছে। সন্ধ্যার আলোতে অনেক পোকা আকৃষ্ট হয়। তাই আলো ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। আলোর উৎস হিসাবে হ্যাজাক, হারিকেন, মশাল, সোলার লাইট ট্র্যাপ ব্যবহার করে, তার নিচে একটি পাত্রে পানি রাখতে হবে এবং পানিতে সাবানের গুঁড়া মিশ্রিত করে দিতে হবে। কেরোসিন মিশ্রিত পানিও ব্যবহার করা যেতে পারে।
আলোতে আকৃষ্ট হয়ে পোকা উড়ে আসবে ও সেখানে ধাক্কা খেয়ে পানির পাত্রে পড়ে মারা যাবে। সন্ধ্যা থেকে শুরু করে ২-৩ ঘণ্টা পর্যন্ত আলোক ফাঁদ কার্যকর থাকে। আলোক ফাঁদ জমির বাইরে ব্যবহার করতে হবে। পরিবেশবান্ধব এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে পোকা শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া যায়।
উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি অফিসারবৃন্দ মৌসুম জোড়ে দশটি করে আলোক ফাঁদ আয়োজন করার জন্য উপজেলা কৃষি অফিস থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কৃষকরা জানান, এই পদ্ধতি সহজ, কম খরচে কার্যকর এবং পরিবেশের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ। ফলে অনেকেই এখন রাসায়নিক কীটনাশকের বিকল্প হিসেবে আলোক ফাঁদ ব্যবহার শুরু করেছেন।
নবীনগর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, রোপা আমন মৌসুমে পোকার প্রাদুর্ভাব কমাতে, শুরু থেকেই ক্ষতিকর পোকার উপস্থিতি নিশ্চিত করে ব্যবস্থা নিতে মৌসুম জুড়ে পুরো উপজেলায় উপ-সহকারী কৃষি অফিসারগণ এই ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করবে। আলোক ফাঁদে যদি ক্ষতিকর পোকা যেমন সবুজ পাতা ফড়িং, বাদামি গাছ ফড়িং, মাজরা, পাতা মোড়ানো পোকা নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে বেশি থাকে, সেক্ষেত্রে আমরা কৃষকদের বালাইনাশক দমন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পরামর্শ প্রদান করি।
তিনি আরো বলেন, আলোক ফাঁদ শুধু পোকা দমনেই নয়, পোকার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণেও কার্যকর ভূমিকা রাখে। কৃষকরা সময় মতো ব্যবস্থা নিতে পারেন, তাহলে ফসলের ক্ষতি অনেক কম হয়। এভাবে কৃষকরা যদি সচেতন ভাবে আলোক ফাঁদ ব্যবহার করেন, তাহলে পরিবেশ দূষণ কমবে এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থার দিকে বাংলাদেশ আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, নবীনগর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায় চলতি রোপা আমন মৌসুমে এরই মধ্যে ৬ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ করা হয়েছে।
























