নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: রাজশাহী কৃষি অঞ্চলের বিভিন্ন জেলার চাষীদের প্রণোদনার মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিম্নমানের বীজে সর্বনাশ হয়েছে। কৃষি প্রণোদনার অংশ হিসেবে বিতরণ করা বিভিন্ন ফসলের বীজে কোথাও ফসল হয়নি।

কৃষি বিভাগের দেওয়া বীজ মেয়াদোত্তীর্ণ ও খুবই নিম্নমানের। সরকারি বিপুল অর্থ ব্যয় করে এসব নিম্নমানের বীজ কিনে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। নিন্মমানের বীজ কিনে সরকারের টাকা ক্ষতি করছেন বলে কৃষকদের অভিযোগ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কৃষি প্রণোদনার অংশ হিসেবে রাজশাহী কৃষি অঞ্চলের চার জেলায় প্রান্তিক চাষীদের মাঝে পেঁয়াজ, ভুট্টা, টমেটো, সরিষা, গম, খেসারি, সূর্যমুখী ও বাদাম বীজ বিতরণ করা হচ্ছে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে বিনামূল্যে।

তালিকাভুক্ত চাষীদের প্রত্যেককে ২০ কেজি গম, ২৫০ গ্রাম পেঁয়াজ, আট কেজি খেসারি, ১০ কেজি ভুট্টা, দুই কেজি সরিষাসহ বিভিন্ন পরিমাণে বীজ দেয়া হয়। কিন্তু এসব কোনো বীজেই চারা গজায়নি বলে চাষীরা অভিযোগ করেছেন। আবার কালাই মুগ যখন জমিতে পাকতে যাচ্ছে তখন এসব ফসলের বীজ দেয়া হচ্ছে কৃষকদের।

আরোও পড়ুন: প্রণোদনা পাচ্ছেন ৭৮ হাজার মৎস্য চাষি

রাজশাহীর তানোর ও দুর্গাপুর উপজেলার খোঁজ নিয়ে জানা ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। চাষিরা বলেন, প্রণোদনার পেঁয়াজবীজ কৃষকদের যেটা দেয়া হয়েছে সেগুলো অনেক বছরের পুরনো ও নিন্মমানের। সে কারণেই বীজ রোপণ করেও চারা বের হয়নি। কৃষকদের মধ্যে বিতরণের আগে বীজের মান পরীক্ষা করে দেয়া উচিত ছিল। কিন্তু কৃষি বিভাগ তা করেনি। কৃষি বিভাগের খামখেয়ালিপনার মাশুল দিতে হবে কৃষকদের।

তানোরের মুন্ডুমালা পৌর এলাকার সাদিপুর গ্রামে আবুল কাশেম, মুন্ডুমালা গ্রামের বাবু ও পাঁচন্দর গ্রামের মুনসুর রহমানসহ এমন পাঁচজনের সাথে কথা হয় যারা প্রথম দফার প্রণোদনার বীজ রোপণ করেছিলেন। তারা বলছেন, সঠিক নিয়ম মেনে বীজ রোপণ করা হয়েছিল। কিন্তু বীজ থেকে চারা গজিয়েছে মাত্র ১০ থেকে ২০ ভাগ পর্যন্ত। তাই চারা রোপণের জন্য জমি তৈরি থাকলেও শুধু চারার অভাবে এ বছর পেঁয়াজ চাষ হচ্ছে না।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বোগলাউড়ি গ্রামের কৃষক রুহুল আমিন বলেন, যেসব ভুট্টা বীজ দেয়া হয়েছে সেগুলির একটিতেও চারা গজাইনি। কোনো কোনো চাষী ভুট্টা ভেজে খৈ করে খেয়েছেন। সরিষা বীজ এমন সময়ে বিতরণ করা হয়েছে যখন আবাদের মৌসুম পার হয়ে যায়। আর বিতরণকৃত খেসারির বীজের ডাল করেও খেতে পারেননি অনেক কৃষক।

কারণ সেগুলি খুব শুকনো ও পচা ছিল। অন্যদিকে চিনা বাদামের বীজ বিভিন্ন এলাকায় বিতরণ করা হলেও রাজশাহী অঞ্চলের অনেক এলাকায় বাদাম চাষের উপযোগী জমি পায়নি কৃষকরা। সূর্যমুখী বীজেরও ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।

তিনি বলেন, মসুর বা মুগকলাই বপনের সময় দুই মাস আগেই পার হয়েছে তবুও এখন কৃষি বিভাগ এসব ফসলের বীজ দিচ্ছে কৃষকদের। এসব অপচয় ছাড়া আর কিছু নয় বলে কৃষকরা মনে করছেন। বরং বীজ না দিয়ে টাকা দিলে কৃষকদের কিছুটা উপকার হতো।

এদিকে খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, আবাদ মৌসুম শেষ হলেও এখনো রাজশাহী অঞ্চলের নওগাঁ, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা এলাকাতে পেঁয়াজ বীজসহ অন্যান্য বীজ বিতরণের কাজ চলছে। মৌসুম শেষে এখন এসব বীজ দিয়ে কৃষকরা কি করবেন সেটাও বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।

মেয়াদোত্তীর্ণ বীজ আবাদ মৌসুম শেষে বিতরণের বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. শামসুল হক এগ্রিকেয়ার২৪.কমকে বলেন, প্রণোদনার বীজে চারা গজায়নি এমন অভিযোগ তিনি পাননি। কৃষকের তালিকা করাসহ সরকারি প্রক্রিয়া শেষে তাদের হাতে বীজ আসে। এ কারণে বিলম্বে বিতরণ করতে হচ্ছে।

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ