
অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক, এগ্রিকয়ার২৪.কম: ইউক্রেন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ গম উৎপাদক ও রফতানিকারক। কিন্তু রাশিয়ার একের পর এক হামলার মুখে দেশটির গম রফতানি ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে আবারো কমেছে ইউক্রেনের গম রফতানি। রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি চার মাসের জন্য সম্প্রসারণ করা হলেও রফতানিতে গতি ফিরছে না।
নভেম্বরে রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৮০ হাজার টনে। অক্টোবরে দেশটি ১৯ লাখ ৮০ হাজার টন গম রফতানি করেছিল। সে হিসাবে রফতানি কমেছে চার লাখ টন। ইউক্রেনিয়ান গ্রেইন ট্রেডার্স ইউনিয়ন গতকাল এ তথ্য জানিয়েছে।
এ বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশ সামরিক বাহিনী ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর থেকে ছয় মাস পর্যন্ত সমুদ্রপথে দেশটির শস্য রফতানি বন্ধ ছিল। ছয় মাস অবরুদ্ধ থাকার পর গত জুলাইয়ের শেষ দিকে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়। জাতিসংঘ ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় এ চুক্তির মাধ্যমে আবারো সমুদ্রপথে শস্য রফতানি শুরু করে ইউক্রেন। দেশটির তিন কৃষ্ণসাগরীয় বন্দর থেকে অবরোধ উঠিয়ে নেয়া হয়।
ইউক্রেনিয়ান গ্রেইন ট্রেডার্স ইউনিয়ন নভেম্বরে ৫০ লাখ টন খাদ্যশস্য ও তেলবীজ রফতানির ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু এ মাসে রফতানি করা হয় ২৩ লাখ টন। অক্টোবরের তুলনায় রফতানি কমেছে ১২ লাখ টন।
এক বিবৃতিতে ইউনিয়ন জানায়, কৃষ্ণসাগরীয় খাদ্যশস্য রফতানি চুক্তি চার মাসের জন্য সম্প্রসারণ করা হয়েছে। কিন্তু রাশিয়া রফতানি জাহাজ যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সময়ক্ষেপণ করছে। এ কারণে রফতানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে আবারো নিম্নমুখী হয়ে উঠেছে গমের দাম। একইসাথে কমেছে ভুট্টার দাম। গত শুক্রবার শিকাগো বোর্ড অব ট্রেডে (সিবিওটি) গমের দাম কমে তিন মাসের সর্বনিম্নে নেমেছে। একইদিন ভুট্টার দামেও পতন হয়েছে বলে খবর প্রকাশ করেছে বিজনেস রেকর্ডার।
শিকাগো বোর্ড অব ট্রেডে শুক্রবার ভুট্টার দাম ২ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। প্রতি বুশেলের মূল্য স্থির হয়েছে ৬ ডলার ৪৬ সেন্টে। রফতানি চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কায় বাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে। তবে সিবিওটিতে সয়াবিনের দাম দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি বুশেলের দাম স্থির হয়েছে ১৪ ডলার ৩৮ সেন্টে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সাপ্তাহিক গম রফতানি বেড়েছে। ফলে ব্যবসায়ীদের মাঝে প্রতিযোগিতা আরো জোরদার হয়েছে। বিশেষ করে কৃষ্ণ সাগরীয় বন্দর থেকে স্বল্পমূল্যের গমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রফতানি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের রফতানিকারকরা। এছাড়া স্থিতিশীল সরবরাহ ও দুর্বল চাহিদা তো রয়েছেই।
এদিকে ভুট্টার দামও কমেছে। তবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে সয়াবিনের বাজার। শিকাগো বোর্ড অব ট্রেডে শুক্রবার গমের দাম আগের কার্যদিবসের তুলনায় ২ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। প্রতি বুশেলের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৭ ডলার ৬১ সেন্টে। ১৯ আগস্টের পর এটিই সর্বনিম্ন দাম।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি বছর রেকর্ড পরিমাণ গম উৎপাদনের প্রত্যাশা করছে রাশিয়া। বৈরী আবহাওয়ার কারণে অন্য শীর্ষ উৎপাদক দেশগুলো উৎপাদন নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছে। ফলে রফতানিতেও প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা করছে রাশিয়া। সব ঠিক থাকলে ২০২৩ বাণিজ্যবর্ষে ৫ কোটি ৩০ লাখ থেকে ৫ কোটি ৪০ লাখ টন গম রফতানি করা হবে। অন্যদিকে চুক্তি সম্প্রসারণ হওয়ায় ইউক্রেনের রফতানিও বাড়ার প্রত্যাশা রয়েছে।
মার্কিন কৃষি বিভাগ জানায়, ২৪ নভেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ১ লাখ ৬২ হাজার টন গম রফতানি করেছে। এর পরের সপ্তাহগুলোয়ও রফতানি বেড়েছে লক্ষণীয় মাত্রায়। তবে পার্শ্ববর্তী দেশ কানাডায় উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে ফ্রান্সের উৎপাদন নিয়ে আশাবাদী বাজারসংশ্লিষ্টরা।
প্রসঙ্গত, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত মাসে খাদ্যশস্যের মূল্যসূচক এক মাসের ব্যবধানে ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। যদিও এটি গত বছরের তুলনায় ৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।
গত মাসে বিশ্ববাজারে গমের দাম আগের মাসের তুলনায় ২ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ভুট্টার দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। কৃষ্ণসাগরীয় খাদ্যশস্য রফতানি চুক্তি সম্প্রসারণই দাম কমিয়েছে। তবে চালের দাম আগের মাসের তুলনায় ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে।
এগ্রিকেয়ার/এমএইচ
























