নিজস্ব প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সুপারিশ করেছে- দেশে বিপুল পরিমাণ সার আমদানি না করে বন্ধ সার কারখানাগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে চালু করা এবং উৎপাদন বাড়ানোর জন্য যথাযথ ব্যবস্থা করতে হবে।

জাতীয় সংসদ ভবনে গতকাল অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়।

সংসদীয় কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয় শিল্প মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে। বৈঠকে জানানো হয়, শাহজালাল ফার্টিলাইজার প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার প্রকল্পটির মেয়াদ আছে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। ২০২১ সাল পর্যন্ত এ প্রকল্পে কাজের অগ্রগতি ৩১ শতাংশ।

সার সংরক্ষণ ও বিতরণ সুবিধার জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে ৩৪টি বাফার গুদাম নির্মাণ প্রকল্পে ২০২১ সাল পর্যন্ত অগ্রগতি হয়েছে ১৩ শতাংশ। বৈঠকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় না বাড়িয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার সুপারিশ করে কমিটি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সারের চাহিদা পূরণের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর নির্ভরশীল বাংলাদেশ। দেশে রাসায়নিক সারের বার্ষিক চাহিদা ৬০ লাখ টনেরও বেশি। এর প্রায় ৮০ শতাংশই আমদানি করতে হয়। আমদানীকৃত সারের মধ্যে অন্যতম চারটি হলো ইউরিয়া, ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি), ডাইঅ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) ও মিউরেট অব পটাশ (এমওপি)। এর মধ্যে টিএসপি ও ডিএপি আমদানি হয় সৌদি আরব, চীন, কাতার, মরক্কো ও তিউনিসিয়া থেকে। এমওপি সারের ৪০ শতাংশ আসে কানাডা থেকে। বাকি ৬০ শতাংশের জন্য বেলারুশ ও রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীল থাকতে হয়। এছাড়া টিএসপি ও ডিএপি সারও রাশিয়া থেকে আমদানি করা হয়।

দেশের সার কারখানাগুলোয় ইউরিয়া, টিএসপি ও ডিএপি উৎপাদন হলেও তার পরিমাণ সামান্য। এমওপির জন্য নির্ভর করতে হয় আমদানির ওপর।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে ইউরিয়া সার উৎপাদন হয়েছে ৭ লাখ ৯৮ হাজার টন আর আমদানি হয়েছে ১৫ লাখ ৬৬ হাজার টন। টিএসপি উৎপাদন ও আমদানির পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৭১ হাজার ও ৬ লাখ ৭৫ হাজার টন। ১ লাখ ২ হাজার টন ডিএপি সার উৎপাদন ও আমদানি হয়েছে ১৬ লাখ ৩০ হাজার টন। একই সময়ে এমওপি সার উৎপাদন না হলেও আমদানি হয়েছে ৯ লাখ ৩ হাজার টন।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) ও বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) মাধ্যমে দেশে রাসায়নিক সার আমদানি করা হয়। কৃষি মন্ত্রণালয় ও বিএডিসি সূত্র জানিয়েছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে মোট ৬৯ লাখ টন সার ব্যবহার হয়েছে বাংলাদেশে। এর মধ্যে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি—চার ধরনের সার ব্যবহার হয় ৫৭ লাখ টন। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরেও সারের চাহিদা প্রায় সমান থাকবে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে কমিটির সদস্য হাফিজ আহমদ মজুমদার, মনজুর হোসেন ও আদিবা আনজুম বৈঠকে অংশ নেন।

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ