
নিজস্ব প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে প্রায় ৩৪৯ কোটি টাকার ফসল ক্ষতি হয়েছে। সেইসাথে বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের ৪ উদ্যোগ নেয়ার কথা জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক।
আজ সোমবার ২০ জুলাই ২০২০ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষ থেকে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি ও তা উত্তরণে করণীয় বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
কৃষিসচিব মো. নাসিরুজ্জামানের সঞ্চালনায় বন্যার ক্ষয়ক্ষতি এবং তা উত্তরণে করণীয় বিষয়ে নানান আলোচনা করা হয় এবং নেওয়া হয় কয়েক পদক্ষেপ।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, বন্যায় আউশ, আমন, সবজি, পাটসহ বেশ কিছু ফসলের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এসব ক্ষতি কমিয়ে আনতে অনেকগুলো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিকল্প বীজতলা তৈরি, ক্ষতিগ্রস্ত জমিতে বিকল্প ফসলের চাষের ব্যবস্থা, নিয়মিতভাবে আবহাওয়া মনিটরিংসহ প্রস্তুতি চলছে যাতে করে বন্যার কারণে ফসলের ক্ষতি মোকাবিলা করা যায়।
কৃষি মন্ত্রণালয় ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় নিম্নোক্ত ৪ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে:
১. অধিক ক্ষতিগ্রস্ত জেলাসমূহে কৃষকের জমিতে প্রায় ২ কোটি ১৫ লাখ টাকার কমিউনিটি ভিত্তিক রোপা আমন ধানের চারা উৎপাদন ও ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ কর্মসুচি।
২. প্রায় ৭০ লাখ টাকার ভাসমান বেডে রোপা আমন ধানের চারা উৎপাদন কর্মসূচি।
৩. ৫৪ লাখ টাকার মাধ্যমে রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে রোপণের জন্য ট্রেতে নাবী জাতের আমন ধানের চারা উৎপাদন ও ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ কর্মসূচি।
৪. ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আমন চাষ সম্ভব না হলে ৫০ হাজার কৃষকের মাঝে প্রায় ৩ কোটি ৮২ লাখ টাকার মাষ কলাই বীজ ও সার দেয়া হবে।
বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের ৪ উদ্যোগ শিরোনামে সংবাদের তথ্য নিশ্চিত করেছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অফিসার কামরুল ইসলাম ভুূইয়া।
এ অনলাইন সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ) মোঃ হাসানুজ্জামান কল্লোল, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মোঃ আরিফুর রহমান অপু, অতিরিক্ত সচিব (গবেষণা) কমলারঞ্জন দাশ, অতিরিক্ত সচিব (সার ব্যবস্থাপনা ও উপকরণ) মোঃ মাহবুবুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব (পিপিসি) ড. মোঃ আবদুর রৌফ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মোঃ আবদুল মুঈদ, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. নাজিরুল ইসলাম, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মোঃ শাহজাহান কবীর, বিএডিসি’র চেয়ারম্যান সায়েদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, বন্যা উপদ্রুত অঞ্চল ও জেলাসমূহের কৃষি কর্মকর্তাগণ এ অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন।
























