
ডেস্ক প্রতিবেদন, এগ্রিকেয়ার২৪.কম:
কাঁচামরিচ মসলাজাতীয় একটি ফসল। এতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন-সি রয়েছে। দৈনন্দিন রান্নায় এর গুরুত্ব অপরিসীম। ঝালপ্রেমীদের কাছে কাঁচামরিচ খুবই প্রিয়। রন্ধনশালায় নানা খাবারে স্বাদ বাড়াতে এর জুড়ি নেই। অনেকেই খাবারের সঙ্গে আলাদা করে কাঁচামরিচ খেতে পছন্দ করেন।
তবে কৃষিতে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগায় চাষের পদ্ধতিতে পরিবর্তন এসেছে। মাটিতে কাঁচামরিচ চাষের পাশাপাশি বস্তায় চাষও শুরু হয়েছে। এ চাষে অতিরিক্ত বৃষ্টি কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলেও ফলন নষ্ট হয় না।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর শহরের খালাজোড়া এলাকায় নামমাত্র শ্রম এবং স্বল্প পুঁজিতে উচ্চমূল্যের মসলাজাতীয় কাঁচামরিচ বস্তায় চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন শাহজাহান মিয়া নামে এক কৃষক। বাড়ি সংলগ্ন জায়গায় অন্যান্য নানা প্রকারের শাক-সবজির পাশাপাশি পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় শতাধিক বস্তায় এই চাষ করে তিনি বেশ সাফল্য পেয়েছেন। তার এই সাফল্য দেখে অনেকেই এ চাষে ঝুঁকছেন।
কৃষি অফিস জানায়, বস্তায় কাঁচামরিচ চাষ খুবই সহজ একটি পদ্ধতি। এ চাষের জন্য আলাদা জমির প্রয়োজন হয় না। জৈব সার মিশিয়ে খোলা জায়গা, পতিত জমি, ছাদ, বাড়ির আঙিনা এবং সড়কের পাশে বস্তায় এই চাষ করা যায়। খরচ এবং রোগবালাই কম হয়। তাছাড়া প্রাকৃতিক কোনো বিপর্যয় হলে বস্তা অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়া যায়। সঠিক যত্ন নিলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। মাঠ পর্যায়ে যদি এই পদ্ধতিটি ছড়িয়ে দেওয়া যায় এবং পতিত জমি কাজে লাগানো যায়, তবে কৃষকরা লাভবান হতে পারেন।
শাহজাহান মিয়া বলেন, কৃষি অফিসের সার্বিক সহযোগিতায় ৩ বিঘা জমিতে মৌসুম অনুযায়ী বছরজুড়ে লাউ, চিচিঙ্গা, বেগুন, ঢেঁড়স, কাঁচামরিচ, লালশাক, পাটশাক, ডাটাশাক, পুঁইশাক, পালং শাকসহ নানা প্রজাতির সবজি চাষ করছি। বছরে এসব থেকে যাবতীয় খরচ বাদে ৩ লাখ টাকার উপর আয় হয়।
তিনি আরো বলেন, এই মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে কাঁচামরিচ উৎপাদন অনেকটাই ব্যাহত হয়েছে। এ কারণে মসলাজাতীয় পণ্যের দামও বেড়ে গেছে। আধুনিক পদ্ধতিতে কিভাবে কাঁচামরিচ চাষ করা যায়, এ বিষয়ে কৃষি অফিস থেকে সহযোগিতা নেওয়া হয়। তাদের সহযোগিতায় পরীক্ষামূলকভাবে গত প্রায় দুই মাস আগে প্রায় শতাধিক বস্তায় কাঁচামরিচ চাষ করেছি। একেকটি বস্তায় ১৫–২০ কেজি মাটি দিয়ে পরিমাণমতো জৈব সার মিশিয়ে প্রতি বস্তায় একটি চারা রোপণ করি। প্রতি বস্তায় খরচ হয় ১৫ টাকার উপর। কিছু দিনের মাথায় গাছ বড় হতে শুরু করলে মনে আশার সঞ্চার হয়।
তিনি আরো জানান, বস্তায় মরিচ চাষে সার অপচয় হয় না। বস্তার ভিতর থেকে উর্বর শক্তি বেশি পাওয়া যায়। মরিচের ফল তুলনামূলকভাবে ভালো হয়েছে। আশা করছি প্রতি গাছ থেকে এক কেজির মতো মরিচ পাবো। যা থেকে প্রায় ১০০ কেজি ফলন উৎপাদনের আশা করছি। স্থানীয় বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি মরিচ ৩০০ টাকার উপর বিক্রি হচ্ছে। বাজার দর ভালো থাকলে এই চাষে দ্বিগুণের উপর লাভবান হওয়া সম্ভব।”
সরেজমিনে পৌর শহরের খালাজোড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অন্যান্য সবজির পাশাপাশি সারি সারি বস্তায় কাঁচামরিচ গাছ লাগানো আছে। গাছগুলো সুন্দর ও সতেজ দেখাচ্ছে। গাছে গাছে ঝুলছে কাঁচামরিচ। পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক শাহজাহান।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইয়াসিন মিয়া বলেন, বস্তার মধ্যে মরিচ চাষ শুরু করার সময় ভেবেছিলাম, এভাবে মরিচ হবে কি না। মনে হয়েছিল খালি জায়গায় পরিশ্রম করছেন। কিন্তু এখন দেখছি ধারণা ভুল ছিল। কাঁচামরিচ অনেক ভালো হয়েছে। এখন আমিও এভাবে চাষ করার চিন্তা করছি।
কৃষক মো. বাছির মিয়া বলেন, আগে মাটিতে মরিচ চাষ করা হতো। অতিরিক্ত বৃষ্টি ও বন্যার কারণে সময়মতো করতে পারিনি। কিন্তু বস্তায় কাঁচামরিচের ফলন দেখে আমার ইচ্ছে হয়েছে এই চাষ করার।
আখাউড়া উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আধুনিক পদ্ধতিতে বস্তায় কাঁচা মরিচ চাষে খরচ কম এবং লাভ বেশি। এ চাষে আলাদা জমির প্রয়োজন নেই। বর্ষা বা বন্যায় ফসল ডুবে নষ্ট হওয়ার ভয় নেই। এই চাষ করতে কৃষককে বস্তা, সারসহ অন্যান্য উপকরণ দেওয়া হয়েছে। ভালো ফলনের জন্য বস্তার মাটি উর্বর হতে হবে। ভাল মাটি ও সার থাকলে বস্তায় ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। বস্তায় মরিচ চাষের উপকার বেশি। এতে পতিত জমি ব্যবহার করা যায়। বর্ষাকালে মরিচ গাছের কোনো ক্ষতি হয় না। ফলন ভালো রাখতে সার্বিকভাবে পরামর্শ ও সহযোগিতা করা হচ্ছে।
























