মো. কামরুজ্জামান, যিনি বাবু কামরুজ্জামান নামেও পরিচিত, একজন অভিজ্ঞ সাংবাদিক। তিনি অর্থনীতি এবং ব্যবসা নিয়ে এক দশকেরও বেশি সময় কাজ করেছেন। তার তৈরি জনপ্রিয় টিভি অনুষ্ঠান হাটবাজার, যেখানে বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার গল্প দারুণভাবে উঠে এসেছে। চ্যানেল ২৪ এ যা ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।

সম্প্রতি, তিনি বাংলাদেশ কৃষি সাংবাদিক ফোরাম (বিএজেএফ)-এর সদস্য হিসেবে একটি বিশেষ কৃষি সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন। এর আগে কৃষিপণ্য, কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত শিল্প নিয়ে কাজ করলেও এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তিনি সামষ্টিক অর্থনীতির পাশাপাশি কৃষি সাংবাদিকতার দিকে বিশেষ দৃষ্টি প্রসারিত করেছেন।
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ কৃষিভিত্তিক অনলাইন নিউজপোর্টাল এগ্রিকেয়ার২৪.কম এর জন্য দেয়া এই বিশেষ সাক্ষাৎকারে, তিনি কৃষি সাংবাদিকতার গুরুত্ব, কৃষকদের সমস্যাগুলো, এবং কৃষি খাতে গণমাধ্যম কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে তা তুলে ধরেছেন।

এগ্রিকেয়ার২৪: কামরুজ্জামান, কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান খাত। আপনি এই খাতে সাংবাদিকতার ভূমিকা কীভাবে দেখছেন?

মো. কামরুজ্জামান: কৃষি আমাদের দেশের অর্থনীতি এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবিকা নির্বাহের জন্য অপরিহার্য। সাংবাদিকতা এই খাতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ, এবং জলবায়ু সহনশীলতা তৈরির চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরা। সাংবাদিকরা এসব সমস্যার দিকে নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে। পাশাপাশি, কৃষকদের জন্য উদ্ভাবনী সমাধান এবং প্রযুক্তি নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর কাজও করতে পারে।

এগ্রিকেয়ার২৪: আপনি সম্প্রতি একটি কৃষি সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেছেন। এটি থেকে কী শিখেছেন?

মো. কামরুজ্জামান: প্রশিক্ষণটি আমার জন্য খুবই শিক্ষা সমৃদ্ধ একটি অভিজ্ঞতা। এটি আমাকে শেখায় কিভাবে কৃষি বিষয়ক সমস্যাগুলো গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা যায় এবং সমস্যার পাশাপাশি সমাধানের পথ দেখানো যায়। উদাহরণস্বরূপ, উদ্ভাবনী পদ্ধতির সফল গল্পগুলো তুলে ধরা অন্যদের অনুপ্রাণিত করতে পারে। এছাড়া কৃষিতে অনুসন্ধানীমূলক প্রতিবেদন তৈরির অনেক বিষয় জানতে পেরেছি।

এগ্রিকেয়ার২৪: কৃষকদের প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো কী? এবং সাংবাদিকতা কীভাবে তা সমাধানে ভূমিকা রাখতে পারে?

মো. কামরুজ্জামান: আমাদের দেশের কৃষকরা বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। যেমন, আবহাওয়ার পরিবর্তন, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া, এবং বাজারে প্রবেশাধিকারের অভাব। সাংবাদিকরা এই সমস্যাগুলো তুলে ধরতে এবং কৃষকদের জন্য সহজবোধ্য তথ্য সরবরাহ করতে পারে। পাশাপাশি, সরকার এবং বিশেষজ্ঞদের সাথে কৃষকদের সংযোগ স্থাপনেও ভূমিকা রাখতে পারে। আমি মনে করি, ‍এদেশে কৃষকের পাশে কেউ থাকে না, ফলে তাদের ক্ষমতায়নে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে সাংবাদিকরা।

এগ্রিকেয়ার২৪: ডিজিটাল প্রযুক্তি কীভাবে কৃষি সাংবাদিকতায় উন্নতি আনতে পারে?

মো. কামরুজ্জামান: ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এখন সাংবাদিকতাকে সহজ ও কার্যকরী করেছে। মোবাইল অ্যাপ ও সামাজিক মাধ্যম কৃষকদের জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাস, বাজার দর, এবং সরকারি নীতিমালার তথ্য সরবরাহ করতে পারে। এ ছাড়া, সরাসরি কৃষকদের সাথে সংযোগ স্থাপন করে তাদের চাহিদা বোঝার সুযোগ তৈরি করে।

এগ্রিকেয়ার২৪: সাংবাদিকরা টেকসই কৃষি পদ্ধতি প্রচারে কী ভূমিকা রাখতে পারে?

মো. কামরুজ্জামান: টেকসই কৃষি পদ্ধতি প্রচারে সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জৈব চাষ এবং পানি সংরক্ষণের সুবিধাগুলো তুলে ধরে আমরা কৃষকদের সচেতন করতে পারি। এর ফলে কৃষি খাত টেকসই হবে এবং কৃষকদের আয়ও বৃদ্ধি পাবে।

এগ্রিকেয়ার২৪: যারা কৃষি সাংবাদিকতায় কাজ করতে চান, তাদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?

মো. কামরুজ্জামান: কৃষি সাংবাদিকতায় আসার আগে আপনাকে সহানুভূতিশীল এবং কৌতূহলী হতে হবে। কৃষকদের সাথে মিশুন, তাদের চ্যালেঞ্জগুলো বুঝুন এবং তাদের গল্পগুলো সত্যনিষ্ঠভাবে তুলে ধরুন। কৃষি নীতিমালা এবং আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞান বাড়ান।

এগ্রিকেয়ার২৪: আপনি মনে করেন বাংলাদেশের কৃষি সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ কেমন?

মো. কামরুজ্জামান: বাংলাদেশের কৃষি সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ খুবই সম্ভাবনাময়। কৃষি খাতে উদ্ভাবন এবং উন্নতির সঙ্গে সাংবাদিকতাও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে।

এগ্রিকেয়ার২৪: আপনার শেষ কথা, বাংলাদেশের কৃষি খাত নিয়ে আপনার স্বপ্ন কী?

মো. কামরুজ্জামান: আমার স্বপ্ন হলো একটি টেকসই এবং উদ্ভাবনী কৃষি খাত, যেখানে কৃষকরা স্বাবলম্বী এবং সবাই খাদ্য নিরাপত্তা উপভোগ করে।

এগ্রিকেয়ার২৪: আমাদের সাথে গুরুত্বপূর্ণ সময় এবং চিন্তা শেয়ার করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

মো. কামরুজ্জামান: ধন্যবাদ। বাংলাদেশের কৃষি সাংবাদিকতার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারাটা আমার জন্য গর্বের যা আরো নিবিড়ভাবে আগামীতে করতে চাই।