
আন্তর্জাতিক কৃষি ডেস্ক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: আর্জেন্টিনা বিশ্বের শীর্ষ গম রফতানিকারক। দেশটিতে ২০২২-২৩ বিপণন মৌসুমে গমের উৎপাদন কমতে পারে বলে জানিয়েছে বুয়েন্স আয়ার্স গ্রেইনস এক্সচেঞ্জ। এছাড়া আগের দুই মৌসুমেও আবাদ নিম্নমুখী ছিল।
সংস্থাটির দেওয়া তথ্য বলছে, গত বছর থেকেই ভয়াবহ খরায় বিপর্যস্ত আর্জেন্টিনার কৃষি খাত। প্রধান প্রধান উৎপাদন অঞ্চলে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে দেশটিতে গমের আবাদ কমে যেতে পারে। এছাড়া সয়াবিন তেল ও সয়ামিল রফতানিতেও নেতৃস্থানীয় লাতিন আমেরিকার এ দেশ।
এক্সচেঞ্জের দেয়া তথ্যমতে, আর্জেন্টিনায় গম আবাদি জমির পরিমাণ ধরা হয়েছে ৬৪ লাখ হেক্টর। এক মাস আগে দেয়া পূর্বাভাসে জমির পরিমাণ ধরা হয়েছিল ৬৬ লাখ হেক্টর। এ নিয়ে টানা তিন মৌসুমে দেশটিতে গমের আবাদ কমতে যাচ্ছে।
পড়তে পারেন: রেকর্ড গড়তে পারে গম-ভুট্টার দাম
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে খাদ্যশস্য সরবরাহে দেশটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ কৃষ্ণ সাগরীয় বন্দরগুলো অবরুদ্ধ থাকায় তলানিতে ইউক্রেনের খাদ্যশস্য রফতানি। অন্যদিকে পশ্চিমা দেশগুলোর একের পর এক নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রতিবন্ধকতার মধ্যে রাশিয়ার রফতানিও।
কিন্তু গম আবাদের ক্ষেত্রে খুব খারাপ সময় পার করছে আর্জেন্টিনার কৃষক। মাটিতে আর্দ্রতার পরিমাণ কম থাকায় উপযুক্ত সময়ে আবাদ সম্পন্ন করা যাচ্ছে না। তার ওপর সারের আকাশছোঁয়া দাম পরিস্থিতিতে আরো জটিল করে তুলেছে। এসব চ্যালেঞ্জ উৎপাদন বৃদ্ধির সক্ষমতায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পড়তে পারেন: আবারো ভারতীয় গম আমদানি শুরু
বুয়েন্স আয়ার্স গ্রেইনস একচেঞ্জ কর্তৃক প্রকাশিত সাপ্তাহিক খাদ্যশস্যবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি শিগগিরই খরা পরিস্থিতির উন্নতি না হয়, তবে আবাদ পূর্বাভাস আরো কমানো হতে পারে। কারণ প্রধান কৃষি উৎপাদন অঞ্চলগুলোয় আবাদের সময় প্রায় শেষের দিকে।
এদিকে বাংলাদেশের দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আবারো ভারতীয় গম আমদানি শুরু হয়েছে। এর আগে দীর্ঘ ১১ দিন বন্ধ ছিল গম আমদানি।
অন্যদিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও পাহাড়ি ঢলের কারণে ভারতে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে পুরনো এলসির বিপরীতে বন্ধ রয়েছে গম আমদানি। এছাড়া পুরনো এলসির বিপরীতে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের আশ্বাস সত্ত্বেও অনুমোদনসহ নানা জটিলতায় আটকে ছিল গম আমদানি।
পড়তে পারেন: আন্তর্জাতিক বাজারে কমেছে সব ধরনের ভোজ্যতেলের দাম
এর আগে ১৪ মে অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্য নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে গম রফতানি নিষিদ্ধ করে ভারত। এসময় নিষেধাজ্ঞার পূর্বে ইস্যুকৃত এলসির বিপরীতে গম রফতানি করা হবে বলেও জানায় দেশটি। চীনের পর বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ গম উৎপাদক দেশ ভারত। ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে কৃষ্ণ সাগরীয় এলাকা দিয়ে গম রফতানি বন্ধ হওয়ার পর থেকে ক্রেতারা ভারতের গমের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে।
দীর্ঘদিন আমদানি বন্ধ থাকার ফলে গমবাহী ট্রাক আটকা পড়ায় লোকসানের আশঙ্কা করছেন হিলির আমদানিকারকরা। এ পরিস্থিতিতে আটকে থাকা এসব গম দ্রুত সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
এগ্রিকেয়ার/এমএইচ
























