নিজস্ব প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: পেঁয়াজ উৎপাদনে বাংলাদেশ তৃতীয় স্থানে রয়েছে। একারণে দেশে পেঁয়াজ আমদানির পরিমাণ ধীরে ধীরে কমছে। এরপরও বাংলাদেশ বিশ্বে পেঁয়াজ আমদানিতে শীর্ষস্থানে রয়েছে। পেঁয়াজ আমদানির উপযুক্ত সময় নির্বাচনে কৃষক ও আমদানি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতনৈক্যে লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষকদের কারণ নিয়ন্ত্রণ সিন্ডিকেটের হাতে।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র বছরে পাঁচ লাখ ৪৩ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি করে। আর মালয়েশিয়া করে ৫.০৫ লাখ টন এবং যুক্তরাজ্য করে ৩.৫৯ লাখ টন। সে হিসাবে বাংলাদেশ পেঁয়াজ আমদানিতে এখন শীর্ষ দেশ।

এ বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি হলেও দামের ক্ষেত্রে ‍উঠানামার কারণ জানতে চাইলে জাতীয় মসলা গবেষণা কেন্দ্রের শিবগঞ্জ বগুড়ার মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. হরিদাস চন্দ্র মোহন্ত এগ্রিকেয়ার২৪.কমকে বলেন, পেঁয়াজ সবচেয়ে বেশি আমদানি হয় ভারত থেকে। আমাদের দেশে মাঠ থেকে পেঁয়াজ সংগ্রহের সময় আমদানি করা হয়। যখন দেশীয় কৃষক লাভবান হওয়ার আশায় থাকেন তখন আমদানি করে দাম কমিয়ে দেওয়া হয়। আবার বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির মাধ্যমে দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা ব্যবসায়ীরা করে থাকেন। ফলে দামে উঠানামা হয়।

পড়তে পারেন: দেশে ঢুকছে ভারতীয় পেঁয়াজ, কেজিতে কমলো ১০ টাকা

কৃষি বিপণন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ২০১৮ সাল পর্যন্ত দেশে আট থেকে ১০ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি হতো। কিন্তু গত অর্থবছরে আমদানি হয়েছে ৫.৫২ লাখ মেট্রিক টন। তার আগের বছর ২০১৯-২০ অর্থবছরে আমদানি করা হয় ৫.৭১ টন।

তবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য বলছে, গত অর্থবছর মোট ১২ লাখ ৯৯ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে দেশে। ২০১৯-২০ সালে হয়েছিল ১১ লাখ ৭৬ হাজার টন।

পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হলে মৌসুমে ছয় মাস আমদানি বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন মসলা জাতীয় ফসলের গবেষণা জোরদারকরণ প্রকল্পের পরিচালক ড. শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদার।

তিনি এগ্রিকেয়ার২৪.কমকে বলেন, মৌসুমে মার্চ-মে পর্যন্ত পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রাখছে সরকার। এতে পেঁয়াজের ভালো দামও পাচ্ছেন কৃষক। তবে যে হারে উৎপাদন বাড়ছে তাতে পেঁয়াজ আমদানি ছয় মাস বন্ধ রাখা উচিত। অন্যথায় কৃষক দাম পাবেন না। হিসাব করে দেখেছি, কৃষক যদি ২৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারেন তাহলে তাঁরা লাভবান হবেন। কিন্তু মুড়িকাটা পেঁয়াজের দাম অনেক জায়গায় কেজি ২২ টাকায় নেমেছিল। এটা সমস্যা। যখন কৃষকের পেঁয়াজ ঘরে আসে তখন বাজারে আমদানি বাড়ে; সিন্ডিকেট পেঁয়াজের দাম কমিয়ে দেয়। অতিপ্রয়োজনে যখন কৃষকের পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হয় তখন সুযোগ নেয় সিন্ডিকেট। পরে বাজার নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে থাকে।

পড়তে পারেন: ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানিতে কমলো দেশীর দাম

পেঁয়াজ সংরক্ষণে প্রায় এক চতুর্থাংশ নষ্ট হয় এক্ষেত্রে কোন উপায় আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, পেঁয়াজের মাচা বাঁশের বানা দিয়ে তৈরি করা হয়। স্টোর ঘরের চাল বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। খড়ের/অ্যাসবেসটস দ্বারা নির্মিত চাল থেকে টিন দ্বারা নির্মিত চালে বেশি তাপ উৎপন্ন হয়ে থাকে। সংরক্ষণাগারের চাল টিনের হলে টিনের নিচে অ্যালুমিনিয়াম ইনসুলেটর দিয়ে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। তাছাড়া পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থার জন্য পেঁয়াজের মাচার চারিদিক থেকে ভেন্টিলেটারের ব্যবস্থা করতে হয়।

বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা না থাকলে অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার কারণে গুদামজাত রোগ বøাক মোল্ড/গ্রেমোল্ড এবং নরম পচা রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যেতে পারে। টিন দ্বারা নির্মিত সংরক্ষণাগারে স্তুুপীকৃত পেঁয়াজের পুরুত্ব ৩০ সেমি. (১২ ইঞ্চি) এবং খড় বা অ্যাসবেসটস দ্বারা নির্মিত সংরক্ষণাগারে স্ত‚পীকৃত পেঁয়াজের পুরুত্ব ৩৭ সেমি. (১৫ ইঞ্চি) এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা ভালো। দৈনন্দিন রান্নার কাজে ব্যবহারের জন্য প্লাস্টিক বা বাঁশের তৈরি র‌্যাকে ১৫ সেমি. (৬ ইঞ্চি) পুরুত্বে সংরক্ষণ কর যায়।

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ