বোরো ধানের বীজতলার জমি

ফসল ডেস্ক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: গম জানুয়ারি মাস জুড়ে কমবেশি শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করায় দেশের একাধিক স্থানে বোরো বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বৈরি আবহাওয়ায় সিরাজগঞ্জে বোরো বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খবর বণিক বার্তা।

কৃষকরা বলছেন, বৈরি আবহাওয়ার কারণে ‘কোল্ড ইনজুরি’তে আক্রান্ত বীজতলার চারা বড় হচ্ছে না, আবার কিছু স্থানে লাল ও সাদা রঙ ধারণ করে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে চলতি মৌসুমে জেলায় চারা সংকটের আশঙ্কা করছেন চাষীরা।

এদিকে বোরো চারা রক্ষায় কৃষি বিভাগের পরামর্শে ক্ষতিগ্রস্ত বীজতলায় প্রতিদিন সকালে পানি দেয়া, কীটনাশক প্রয়োগ ও ঢেকে রাখাসহ নানা পরিচর্যা করেও লাভ হচ্ছে না।

এতে ভরা মৌসুমে চারার অভাবে বোরো জমি পতিত থাকার আশঙ্কা করছেন চাষীরা। এছাড়া পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে বোরো চারা এনে রোপণ করলে উৎপাদন ব্যয়ও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন তারা।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে সিরাজগঞ্জে ১ লাখ ৪১ হাজার ৮০ হেক্টর বোরো আবাদের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। এজন্য ৭ হাজার ৫০০ হেক্টর বীজতলা তৈরির লক্ষ্য ধরা হয়েছিল।

যদিও বীজতলা তৈরি করা হয় ৬ হাজার ৫০ হেক্টর। বৈরী আবহাওয়ার কারণে তৈরি করা প্রায় তিন হাজার হেক্টর বীজতলা এরই মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ জেলার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রচণ্ড ঠাণ্ডা ও কুয়াশার কারণে বীজতলায় চারা লাল ও সাদা রঙ ধারণ করেছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শে বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা, সকালে নলকূপের পানি দেয়াসহ নানা চেষ্টা করেও রক্ষা করা যায়নি।

চারা কিনে আবাদ করাও কঠিন হয়ে যাবে, কারণ অধিকাংশ কৃষকের একই অবস্থা। তাই বোরো আবাদ কীভাবে করব, সে চিন্তায় আছি।

গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার শীতের স্থায়িত্ব বেশি হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত বীজতলার চারা ঠিক করা সম্ভব হবে না। এজন্য চলতি মৌসুমে চারা সংকটের আশঙ্কা রয়েছে। অনেক কৃষক হয়তো চারা সংকটের কারণে জমি পতিত রাখবেন।

সদর উপজেলার ছোনগাছার মোশারফ হোসেন বলেন, ছয় শতক জমিতে বোরো বীজতলা তৈরি করেছিলাম। এ বছর শীতের তীব্রতা বেশি থাকায় বীজতলার অধিকাংশ চারাই কুঁকড়ে গেছে। তাছাড়া চারার বৃদ্ধিও অনেক কম। কোথাও কোথাও যেটুকু গজিয়েছিল, তাও সাদা হয়ে গেছে। এখন চারা কোথায় পাব, সে চিন্তায় আছি।

তিনি আরো বলেন, ইচ্ছে করলেই তো দ্রুত চারা তৈরি করা সম্ভব নয়। এজন্য যথেষ্ট সময় প্রয়োজন। কৃষি বিভাগের পরামর্শে ক্ষতিগ্রস্ত বীজতলা রক্ষায় সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। কিন্তু তাতেও কোনো লাভ হয়নি। আমার মতো একই অবস্থা জেলার অধিকাংশ কৃষকের। এজন্য চারা সংকটের কারণে বোরো আবাদ ব্যাহত হতে পারে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর শীতের তীব্রতা অনেক বেশি। তার সঙ্গে ঘন কুয়াশার কারণে জেলার অধিকাংশ বীজতলার চারা নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া অনেক বীজতলায় চারা ভালোভাবে গজাতে পারেনি। আবার গজানো চারা সাদা ও লাল রঙ ধারণ করে নষ্ট হয়ে গেছে।

কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে বোরো আবাদ যেন ব্যাহত না হয়, সেজন্য বীজতলার যেটুকু চারা ভালো রয়েছে, সেগুলো রক্ষায় কৃষকদের নানা পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে চারা সংকট কাটাতে নতুন করে শুকনো জমিতে বীজতলা তৈরিতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

এজন্য জেলার বিভিন্ন এলাকায় উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। এসব বৈঠকে কৃষকদের নতুন করে বীজতলা তৈরির বিষয়ে নানা পরামর্শ দেয়া হয়েছে। আশা করছি, পরামর্শ অনুযায়ী নতুন বীজতলা তৈরি করা হলে এ সংকট কেটে যাবে। সে সঙ্গে বোরো আবাদ নিয়ে যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা-ও থাকবে না।

বৈরি আবহাওয়ায় সিরাজগঞ্জে বোরো বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত সংবাদটির তথ্য বণিক বার্তা সংবাদ মাধ্যম থেকে নেয়া হয়েছে।