নিজস্ব প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: ভারতীয় বন্য হাতির আক্রমণে অতিষ্ঠ কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার চর রাজিবপুর ইউনিয়নের তিন গ্রামের মানুষ। তিন দিনের বন্য হাতির তাণ্ডবে কৃষিজমিতে সেচ দেওয়ার শ্যালো মেশিন, ফসলের খেত ও বাড়িঘরের ব্যাপক ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

এ অবস্থায় রাতভর মশাল জ্বালিয়ে হাতির আক্রমণ থেকে বাঁচার চেষ্টা করছেন গ্রামের বাসিন্দারা। খবর প্রথম আলো।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত শনিবার রাত ১২টার দিকে রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে একদল বন্য হাতি বাংলাদেশের সীমানায় প্রবেশ করে। ওই দলে ২৫ থেকে ৩০টি হাতি ছিল। বাংলাদেশে প্রবেশের পর হাতির দল রৌমারী উপজেলার বাউলপাড়া ও জালছিড়া গ্রামে তাণ্ডব চালায়।

ঘণ্টাব্যাপী তাণ্ডবে শর্ষেখেত, ভুট্টাখেত, শ্যালো মেশিন দুমড়েমুচড়ে যায়। একপর্যায়ে কয়েকটি হাতি আলাদা হয়ে গ্রামের কয়েকটি বাড়িতে আক্রমণ চালায়। পরে স্থানীয় লোকজন মশাল দিয়ে ভয় দেখালে হাতির দল কাঁটাতার পেরিয়ে ভারত সীমানায় চলে যায়।

এরপর রোববার ও গতকাল সোমবার দিবাগত রাতে আবার সীমান্ত পেরিয়ে বন্য হাতির দল বাংলাদেশে ঢুকে পড়ে। গত দুই রাতে হাতির দল জালছিড়া, বাউলপাড়া ও মিয়াপাড়া গ্রামের ভুট্টা-শর্ষের খেত ও বাড়িতে আক্রমণ চালায়। এতে ওই তিন গ্রামের প্রায় ২০০ শতক জমির ভুট্টা এবং অন্তত ৫০ শতক করে শর্ষে ও গমের খেত নষ্ট হয়ে গেছে।

বাউলপাড়া গ্রামের আজম আলীর স্ত্রী জরিনা খাতুন বলেন, ‘শনিবার গভীর রাতে টিনের বেড়া খুলে যাওয়ার শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। ঘুম থেকে উঠে দেখি, একটি হাতি বাড়ির বেড়া ভেঙে ফেলতেছে। পরে আমি আমার পাঁচ বছরের মেয়ে খাদিজাকে ঘুম থেকে টেনে নিয়ে পাশের বাসায় দৌড়ে পালাই। ওই হাতি প্রথমে আমার ঘরের বেড়া ভাঙে। পরে পাতিল ও বড় ড্রাম ভেঙে প্রায় তিন মণ সেদ্ধ চাল নষ্ট করেছে।’

একই গ্রামের আরেক বাসিন্দা শাহ্‌ আলী বলেন, গত তিন রাতের তাণ্ডবে তাঁর ২২ শতক জমির ভুট্টা ও ১৫ শতক জমির শর্ষে নষ্ট হয়েছে। হাতির আক্রমণ থেকে বাঁচতে এলাকাবাসী মিলে রাত জেগে পাহারা বসানো হয়েছে। এরপরও আক্রমণ ঠেকানো যাচ্ছে না। গত তিন দিনে স্থানীয় কৃষক ও গ্রামের বাসিন্দাদের ব্যাপক ক্ষতি হয়ে গেছে।

রাজিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মিরন মোহাম্মদ ইলিয়াস বলেন, গত তিন রাতে বন্য হাতির আক্রমণের পর থেকে কৃষকদের মধ্যে হাহাকার উঠেছে। প্রতিদিন কৃষকেরা দলবদ্ধভাবে এসে আমার বাসায় প্রতিকার চেয়ে যাচ্ছে। আমি বালিয়ামারী বিজিবি কোম্পানি কমান্ডারকে বিষয়টি জানিয়েছি। গতকাল রাতে বালিয়ামারী বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা কৃষকদের সঙ্গে থেকে হাতি তাড়ানোয় সহযোগিতা করেছে। কিন্তু সবাই আসলে অসহায়। বন্য প্রাণীকে তো গুলি করাও যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে এলাকাবাসী মশাল হাতে পাহারা বসিয়েছে।

জানতে চাইলে রাজিবপুর বালিয়ামারী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মো. জোবায়ের হোসেন বলেন, বন্য হাতি তাড়ানোর বিষয়টি বিজিবির নয়। এটা মূলত বন বিভাগের দায়িত্ব। তবু রাজিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা সরেজমিনে গ্রামগুলো পরিদর্শন করেছেন। রাতে স্থানীয় লোকদের সঙ্গে হাতি তাড়ানোর কাজেও সহযোগিতা করা হয়েছে।

হাতিদের আক্রমণের বিষয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে (বিএসএফ) অবহিত করা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে জোবায়ের হোসেন বলে, ‘বিএসএফ তো নিজেই অবগত আছেন। ভারতীয় হাতি যখন বন থেকে নেমে আসে, তখন কাঁটাতারের গেট তো তারাই (বিএসএফ) খুলে দেয়। এতে হাতি বাংলাদেশের ভূখণ্ডে ঢুকে পড়ে। আমি ফরেস্ট বিভাগসহ (বন বিভাগ) আমার ঊর্ধ্বতন মহলকে জানিয়েছি।’

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ