
অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে এক মাসে ভারত থেকে সাড়ে ৪৪ কোটি টাকার আদা আমদানি করা হয়েছে।
ভোমরা শুল্কস্টেশনের জ্যেষ্ঠ রাজস্ব কর্মকর্তা আকবার আলী জানান, গত জুলাইয়ে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ৫ হাজার ৪১৫ টন আদা আমদানি হয়। আমদানীকৃত এসব আদার মূল্য ৪৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।
তিনি আরো জানান, ২০২০-২১ অর্থবছরের জুলাইয়ে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ১ হাজার ৪৩২ দশমিক ২৯ টন আদা আমদানি হয়েছিল। এসব আদার মূল্য ১১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। গত অর্থবছরের প্রথম মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে মসলাজাতীয় পণ্যটির আমদানি বেড়েছে প্রায় পাঁচ গুণ।
চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম মাসে মসলাজাতীয় পণ্যটির আমদানি বিদায়ী অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে অন্তত পাঁচ গুণ। ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা বলছেন, দেশীয় বাজারে আদার চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী। কিন্তু সে তুলনায় সরবরাহ ছিল কম। এ কারণে সম্প্রতি আদার দাম বেড়ে যায়। বাজারে লাগাম টেনে ধরতে আদার আমদানি বাড়ানো হয়েছে।
ভোমরা স্থলবন্দরের অন্যতম মসলাজাতীয় পণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স রাফসান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. আবু হাসান জানান, তার প্রতিষ্ঠান জুলাইয়ে অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি আদা আমদানি করেছে। বর্তমানেও আমদানিতে ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত আছে। সপ্তাহে ১৮০ থেকে ২০০ টন পর্যন্ত আদা আমদানি করা হচ্ছে, যা অন্যান্য সময়ের তুলনায় কমপক্ষে চার গুণ বেশি। আমদানীকৃত এসব আদা ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়।
সাতক্ষীরা জেলা সদরের সুলতানপুর বড় বাজারের মসলা বিপণি আড়ত মামা-ভাগ্না ভাণ্ডারের স্বত্বাধিকারী জহুরুল ইসলাম জানান, দুই মাসের ব্যবধানে আদা চাহিদার পাশাপাশি দাম বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। দুই মাস আগেও তার আড়তে আদা পাইকারি বিক্রি হয়েছে ৬০-৬৫ টাকা কেজি দরে। তা এখন বিক্রি হচ্ছে ১১০-১১৫ টাকা কেজি দরে। দাম বাড়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, দেশীয় বাজারে আদার চাহিদা বেড়েছে ব্যাপক হারে। মূলত এ কারণেই মসলাজাতীয় পণ্যটির দাম বেড়েছে।
ভোমরা স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান নাসিম জানান, সম্প্রতি ঈদুল আজহার কারণে আদার চাহিদা বেড়ে যায়। অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের কারণে আদার ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। এতে পণ্যটির উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। তিনি বলেন, একদিকে দেশীয় বাজারে আদার ঊর্ধ্বমুখী চাহিদা, অন্যদিকে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহ সংকট, দুইয়ে মিলে বাজারে আদার দাম বেড়ে যায়। স্থানীয় চাহিদা মেটাতে ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে পণ্যটির আমদানি বাড়ানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
ভোমরা শুল্কস্টেশনের দায়িত্বে থাকা কাস্টমসের বিভাগীয় সহকারী কমিশনার আমীর মামুন জানান, সম্প্রতি ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে আদা আমদানি বেড়েছে। এতে দেশীয় বাজারের পাশাপাশি লাভবান হচ্ছে সরকারও। বন্দর দিয়ে মসলাজাতীয় পণ্য আমদানিতে সরকারের বড় মাপের রাজস্ব আয় আসে। এর মধ্যে শুধু আদা আমদানিতেই গড়ে ১০ শতাংশ রাজস্ব আসে।
এগ্রিকেয়ার/এমএইচ
























