ফসল ডেস্ক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: মরিচের ফলছিদ্রকারী পোকার মথ নিশাচর এবং রাতের আলোতে আকৃষ্ট হয়। পোকার কীড়ার আক্রমণে মরিচ ছিদ্র যুক্ত দেখায় ও বাজার মূল্য কমে যায়। তাই মরিচের ফলছিদ্রকারী পোকাদমনসহ বিভিন্ন পোকামাকড় দমন ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে আমাদের জানতে হবে।

ফলছিদ্রকারী পোকা:
পরিচিতি: ফলছিদ্রকারী মা পোকাকে (মথ) সাধারনত রাত ছাড়া দেখা যায় না । কীড়াকে (বাচ্চা) ফলের মধ্যে দেখা যায়। কীড়া লম্বায় প্রায় ২ ইঞ্চি। কীড়ার গায়ের রং কালচে ধূসর থেকে হালকা বাদামী এবং শরীরের উভয় পার্শ্বে লম্বালম্বি হালকা কাল ও বাদামী রংয়ের দাগ দেখা যায়।

আরও পড়ুন: কাঁচা মরিচের ভেষজ গুণ ও উপকারিতা

ক্ষতির ধরণ:
১.কীড়া ফলের বোটার কাছে ছিদ্র করে ভেতরের অংশ খায়।
২.একটি পোকা একাধিক ফলে আক্রমন করতে পারে এবং ফলের ভেতর কীড়ার বিষ্ঠা ও পচন দেখা যায়।
৩.আক্রান্ত ফল অসময়ে পাকে।

অনুকুল পরিবেশ : বিকল্প পোষকের উপস্থিতি ।

জীবন চক্র : মথ পাতার নিচে ২০০-৩০০ ডিম পাড়ে। ৩-৪ দিনে ডিম ফোটে কীড়া বের হয়। ছোট কীড়া একত্রে থাকে তবে বড় হলে সারা মাঠ ছড়িয়ে পড়ে। কীড়া ১৪-১৬ দিন পর পুত্তলিতে পরিণত হয়। পুত্তলি ২-৩ ইঞ্চি মাটির গভীরে থাকে। ১০-১৫ দিন পর পুত্তলি হতে পূর্ণাঙ্গ মথ বের হয়। জীবনচক্র সম্পন্ন করতে ৩০-৩৫ দিন লাগে । এরা বছরে ৮বার বংশ বি¯তার করে।

আরও পড়ুন: ক্যাপসিকাম/মিষ্টি মরিচ চাষ’র পুরো ব্যবস্থাপনা ও রোগ দমন পদ্ধতি

দমন ব্যবস্থাপনা :
১.জমি থেকে ডিম ও কীড়া সংগ্রহ করে নষ্ট করা।
২.প্রতি বিঘায় ১৫ টি হারে সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে পুরুষ মথ মেরে ফেলা।
৩.প্রতি সপ্তাহে একবার করে পরজীবী পোকা; ট্রাইকোগ্রামা কাইলোনিজ ব্যবহার (প্রতি হেক্টরে ১ গ্রাম ডিম) করা।
৪. অনুমোদিত কীটনাশক ব্যবহার করা।

মরিচের ফলছিদ্রকারী পোকা দমনের কৌশল শিরোনামে লেখাটির তথ্য কৃষি তথ্য সার্ভিস থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।

এগ্রিকেয়ার / এমবি