Exif_JPEG_420

ইউসুফ আলী সুমন, মহাদেবপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর মহাদেবপুরে মোবাইলকোর্টে জরিমানার পরও পরিবেশ সংরক্ষণ আইন-২০১০ ও ইটভাটা নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৩ অমান্য করে চলছে পরিবেশের বিপর্যয়। তিন ফসলি জমিতে এ ইট ভাটা উচ্ছেদের দাবি তুলেছে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও এলাকাবাসী।

উপজেলার চাঁন্দাশ ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সের পাশে তিন ফসলি জমি নষ্ট করে কয়েক বছর আগে গড়ে তোলা হয়েছে আল আমিন ব্রিক্স নামে অবৈধ ইটভাটা। এর পাশেই রয়েছে বাগডোব বাজার, হাইস্কুল, প্রাইমারি স্কুলসহ অসংখ্য বাড়িঘর। পাশ দিয়ে চলে গেছে মহাদেবপুর-ছাতড়া-রহনপুর আঞ্চলিক পাকা সড়ক। এই ইটভাটার পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন ছাড়পত্র নেই।

এ ভাটার নেই স্থানীয় প্রশাসনের কোন অনুমোদন। কিভাবে বছরের পর বছর বিশাল এই ইটভাটাটি চালু রয়েছে তা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নিয়মকানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন করে বছরের পর বছর চলা অবৈধ্য ইটভাটাটি উচ্ছেদ করে তিন ফসলি কৃষি জমি রক্ষার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

পরিবেশ সংরক্ষণ আইন-২০১০ ও ইটভাটা নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৩ অনুযায়ী বসতি এলাকা, পাহাড়, বন ও জলাভূমির এক কিলোমিটারের মধ্যে কোনো ইটভাটা নির্মাণ করা যাবে না। কৃষিজমিতেও কোনো ইটভাটা বৈধ হিসেবে গণ্য হবে না।

সম্প্রতি এবিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে “মহাদেবপুরে অবধ্যৈ ইটভাটায় প্রকাশ্যে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ, উজার হচ্ছে গাছপালা” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে গত ১৮ এপ্রিল সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট আসমা খাতুন সরেজমিনে এই ভাটা পরিদর্শন করেন।

লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না থাকায় এবং কাঠ পোড়ানোর প্রমাণ পাওয়ায় ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০১৩ অনুযায়ী ওই ভাটার মালিক ইউসুফ আলীর ৪০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন। কিন্তু এর পরদিন থেকেই ভাটায় আবারো অবাধে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। ফলে বায়ু দূষণের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে এলাকার কৃষক থেকে শুরু করে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। ঝুঁকির মুখে পড়ছে জনস্বাস্থ্য। বিপর্যস্ত হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সরেজমিনে ওই ভাটায় গেলে দেখা যায়, ভাটার উপরে চুল্লির কাছে জমা করে রাখা হয়েছে কাঠ। অল্প অল্প করে কাঠ সেখানে রেখে প্রয়োজনের সময় চুল্লিতে কাঠ দেয়া হচ্ছে। বেশি করে কাঠ জমা রাখা হয়েছে ভাটা সংলগ্ন করাতকলে (স-মিল)। জানতে চাইলে ওই ভাটায় কর্মরত একজন শ্রমিক জানালেন, ভাটায় কয়লার সাথে প্রতিবার ৭০০-৮০০ মণ কাঠ পোড়াতে হয়। সেখানে ভাটা মালিককে পাওয়া যায়নি।

ভাটা সংলগ্ন জমির মালিকেরা জানান, প্রতিবছর ভাটার কালো ধোঁয়ায় ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হয়। কিন্তু ভাটা মালিক এরজন্য কোন ক্ষতিপূরণ দেন না। এই ইটভাটা পরিবেশের মারাত্মক দূষণ করছে।

চাঁন্দাশ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল হক রঞ্জু বলেন, এই ইটভাটার কোন অনুমোদন নেই। সংশ্লিষ্ট সকলকে ম্যানেজ করে অবৈধভাবে চলছে। তিনি অবিলম্বে এটি উচ্ছেদের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান। ওই ইউপির চেয়ারম্যান মাহমুদুন নবী রিপন বলেন, অনুমোদনহীন ইটভাটা বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ। এ ব্যাপারে মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানুর রহমান মিলন বলেন, প্রয়োজনে আবারো অভিযান চালানো হবে।

এগ্রিকেয়ার/এমএইচ