
মহাদেবপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর মহাদেবপুরে বজ্রপাতে আব্দুল্লাহেল কাফি (৩৮) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজম উদ্দিন মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার সফাপুর ইউনিয়নের বিনোদপুর এলাকার মাঠে এ ঘটনা ঘটে। তিনি বিনোদপুর গ্রামের জফির উদ্দিনের ছেলে।
সফাপুর ইউপি চেয়ারম্যান সামসুল আলম বাচ্চু বলেন, বিকেলে কাফি তার নিজের বেগুন ক্ষেতে আগাছা নিরানোর কাজ করতে যান। সন্ধ্যায় ঝড়ো হাওয়া আর বৃষ্টিপাতের সাথে প্রচন্ড শব্দে বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। সন্ধ্যার পরও তিনি বাড়ি না ফিরলে পরিবারের লোকজন তাকে খুঁজতে থাকে। এক পর্যায়ে বেগুন ক্ষেতে তার ঝলসানো মৃতদেহ পাওয়া যায়।
“জোর কইর্যা ফসল কাইট্যা লইয়া গেছে”
নিজস্ব প্রতিবেদক, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: “ওরা অনেক দিন ধইর্যা আমার জমিডা জোর কইর্যা দখলে নিত চাইতাছে। আমি অনেক টেহা-পয়সা খরচ কইর্যা জমিডা লাগাইছি। অহন তারা ফসল কাইট্যা লইয়া গেছে। “
নেত্রকোনার বারহাট্টায় আঁখি মণি আক্তার (২৫) নামের এক গৃহবধূর জমির ধান চুরি করে কেটে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার ভোররাতে উপজেলার বাউশী ইউনিয়নের হারুলিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, আঁখি মণি আক্তারের স্বামী মো. এনামুল হক (৩২) দীর্ঘদিন যাবৎ মালয়েশিয়াপ্রবাসী। আঁখি মণি তিন বছর বয়সের এক শিশু নিয়ে স্বামীর বাড়িতে বসবাস করেন। স্বামীর পাঠানো টাকা জমিয়ে তিনি প্রায় দেড় বছর আগে তাদের বসতবাড়ির সামনে ৫ কাঠা (পঞ্চাশ শতাংশ) জমি কিনে ভোগদখল ও চাষাবাদ করে আসছেন।
আঁখি মণির অভিযোগ, তাদের পার্শ্ববর্তী বাড়ির আব্দুল মালেকের ছেলে হিমেল (৩০), সুপন (৩৫), সুজন (৪০), মেনন (৩৮) ও জোনায়েদ (২৫) অন্য লোকজনের সহযোগিতায় শনিবার ভোররাতে (১৫ মে) তার জমির ফসল কেটে নিয়ে যায়। এ সময় তার ভাসুর শামছুল হকের ছেলে মিনারুল (১৯) ঘটনাটি দেখে ফেলে এবং মোবাইলে তাকে জানায়।
আঁখি মণি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘স্বামী বিদেশে। তিন বছরের একটা আবু (শিশু) লইয়া থাহি। ওরা অনেক দিন ধইর্যা আমার জমিডা জোর কইর্যা দখলে নিত চাইতাছে। আমি অনেক টেহা-পয়সা খরচ কইর্যা জমিডা লাগাইছি। অহন তারা ফসল কাইট্যা লইয়া গেছে। কমপক্ষে ৪০ মণ ধান অইবো। উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে দেহা করতে আইছিলাম। তিনি নাই। থানায় গিয়া একটা দরখাস্ত দিয়া আইছি। কই যাওন লাগবো, কী করণ লাগবো আমি বুঝি না। আমি সবার কাছে সাহায্য চাই।’
ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও হারুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ড. উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, ‘হিমেলরা এলাকায় প্রভাবশালী ও অত্যাচারী। আঁখি মণি আমাদের কাছ থেকেই জমিটা ক্রয় করেছে। এই জমিটা হিমেল ও তাদের লোকজন জোর করে দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এবার তারা চুরি করে ক্ষেতের ধান কেটে নিয়ে গেছে বলে শোনা যাচ্ছে।’
বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘চুরি করে ধান কেটে নেওয়ার ব্যাপারে আঁখি মণি আক্তারের একটা দরখাস্ত পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এগ্রিকেয়ার/এমএইচ
























