ডেস্ক প্রতিবেদন, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: চলতি বছর যশোরের কেশবপুর উপজেলায় চিংড়ি ও সাদা মাছ উৎপাদনের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এ বছর কেশবপুরে চার হাজার ৬৫৮টি মৎস্যঘেরে প্রায় ৩০ হাজার টন মাছ উৎপাদন হয়েছে, যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৫৭৫ কোটি টাকা। এই উৎপাদিত মাছ কেশবপুরের স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলাসহ বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে এবং আমিষের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গত কয়েক দশক ধরেই যশোরের কেশবপুর উপজেলা মৎস্য উৎপাদনে শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছে।

কেশবপুর মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কেশবপুর উপজেলায় চার হাজার ৬৫৮টি মৎস্যঘের ও ছয় হাজার ৬৪০টি পুকুরে মাছ চাষ করা হয়। এর মধ্যে সাধারণ ঘের রয়েছে দুই হাজার ৮৪২টি, বাণিজ্যিক ঘের ৫১৭টি, গলদা চিংড়ির ঘের ৬৬১টি এবং বাগদা চিংড়ির ঘের রয়েছে ৬৩৮টি। এ বছর কেশবপুরে রুই, কাতল ও পাবদাসহ সাদা মাছ উৎপাদন হয়েছে ২৭ হাজার ৫৭৫ টন, যার মূল্য প্রায় ৫২০ কোটি টাকা। এছাড়া গলদা চিংড়ি উৎপাদন হয়েছে দুই হাজার ৪০০ টন এবং বাগদা চিংড়ি উৎপাদন হয়েছে ২৬৫ টন, যার সম্মিলিত মূল্য প্রায় ২৫ কোটি টাকা।

এ বছর কেশবপুরে মাছ উৎপাদনের মোট লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২৭ হাজার ৭৫ টন। সেখানে শুধু সাদা মাছই উৎপাদন হয়েছে ২৭ হাজার ৫৭৫ টন, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫০০ টন বেশি। সব মিলিয়ে মোট উৎপাদন ৩০ হাজার টন ছাড়িয়েছে।

উৎপাদিত মাছের মধ্যে কেশবপুর উপজেলার স্থানীয় চাহিদা রয়েছে প্রায় ছয় হাজার টন। বাকি মাছ ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় সরবরাহ করা হয়। এছাড়া এখানকার উৎপাদিত গলদা, বাগদা চিংড়ি ও পাবদা মাছ ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয় বলে জানা গেছে। কেশবপুরের উৎপাদিত মাছ স্থানীয় আমিষের চাহিদা পূরণসহ দেশের অর্থনীতিতেও বড় ভূমিকা রাখছে। গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরেও কেশবপুরে চার হাজার ৬০২টি মৎস্য ঘেরে মোট ২৯ হাজার ১২২ টন মাছ উৎপাদন হয়েছিল।

স্থানীয় মৎস্য চাষিদের দাবি, এ খাতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা এবং আরও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হলে মাছ উৎপাদন ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পাবে। মৎস্যচাষি কাশেম মোড়ল ও লুৎফার রহমান জানান, মাছ উৎপাদনে সরকারিভাবে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করলে কেশবপুরে মাছ উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব।

কেশবপুর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাস বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কেশবপুরে ছোটবড় মিলিয়ে মোট চার হাজার ৬৫৮টি মৎস্যঘেরে চলতি বছর প্রায় ৩০ হাজার টন মাছ উৎপাদন হয়েছে, যার মূল্য প্রায় ৫৭৫ কোটি টাকা। তিনি আরও বলেন, এলাকার মৎস্যচাষিদের বিভিন্ন সহযোগিতাসহ প্রশিক্ষণ দেওয়ার ফলেই এ বছর চিংড়িসহ সাদা মাছ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে।